Saturday, December 17th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
December 17th, 2016 at 9:00 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আমার সোনার বাংলা…’ লিখেছিলেন একশ’ বছরেরও বেশি আগে। তারও অনেক আগে থেকে আমাদের এ প্রিয় ভূখণ্ড পরিচিত ছিল সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা হিসেবে। কিন্তু ছন্দপতন ঘটে প্রথমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে এবং ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তানের দুঃশাসন-শোষণের দুই যুগে। আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে। শিক্ষার প্রসারে নজর ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যযার্থই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’ তিনি ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার এবং তাতে কেবল সাড়া নয়, সক্রিয়ভাবে শামিল হয় সাড়ে সাত কোটি বাঙালি। এই ঐক্যই ছিল আমাদের বিজয়ের মূল প্রেরণা। কিন্তু এই স্বাধীনতার সংগ্রাম চলাকালেই বিশ্বব্যাংক ও উন্নত বিশ্বের তথাকথিত এক দল পণ্ডিতের ভবিদ্ব্যাণী ছিল- প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, জনগণের বেশিরভাগ অশিক্ষিত, নারী সমাজ অবরোধবাসিনী। এ দেশ তলাবিহীন ঝুড়ি হয়ে থাকবে। পশ্চাৎপদ থাকাই বাংলাদেশের ললাটলিখন। দেশটি উন্নত বিশ্বের বাস্কেট কেস হয়ে থাকবে। পরনির্ভরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর বাংলাদেশ বিশ্বসমাজের কাছে নতুন মর্যাদায় সম্মানিত হচ্ছে।”

কিশোরীর ফরিয়াদ শিরোনামে প্রথম আলো সম্পাদকীয়তে লিখেছে, “সেবা নিতে আসা মানুষের কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠান অনিরাপদ—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তুলে নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ তাই গুরুতর। আরও গুরুতর হলো, অভিযোগকারী ওই ছাত্রী ও তার মাকে হত্যা ও ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া। পুলিশ কর্তৃপক্ষ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এ বিষয়ে দৃঢ় ভূমিকা পালনের প্রয়োজন আছে।

অসুস্থ একটি কিশোরী মায়ের সঙ্গে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪ ডিসেম্বর। ৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে হাসপাতালের ভেতর থেকেই চার যুবক তাকে তুলে নিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযোগে ওই চার যুবককে চিহ্নিতও করা হয়েছে। কিন্তু ওই কিশোরীর মা কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও অন্যদের ধরছে না। তাঁর অভিযোগ, মামলার আসামিরা উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতার ঘনিষ্ঠ। তা ছাড়া, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গেও তারা ঘনিষ্ঠ। গ্রেপ্তার হচ্ছে না বলে আসামিরা মা ও মেয়েকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে পারছে।”

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান শিরোনামে প্রশাসনের যথার্থ ফলোআপ প্রয়োজন জানিয়ে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “বাংলাদেশের জনপ্রশাসনের আমলাতান্ত্রিকতা, অদক্ষতা, অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা বা লেখালেখি কম হচ্ছে না। ব্যবসা শুরুর বৈশ্বিক সূচকে আশপাশের দেশগুলো যখন অনেক এগিয়ে গেছে, তখনো বাংলাদেশ তলানিতে পড়ে আছে।

অনেক কর্মকর্তাই নিজেদের জনগণের সেবক না ভেবে প্রভুর মতো আচরণ করেন। ফলে একদিকে জনগণের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি রাষ্ট্রের সব উন্নয়নপ্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পরামর্শ দিয়েছেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু প্রশাসনের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘অতীতের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব ত্যাগ করে নিজেদের জনগণের খাদেম বিবেচনা করতে হবে। ’ বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সেই মনোভাব অর্জন করতে হবে। জনগণের সেবা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানের বাস্তব রূপ আমরা প্রশাসনে দেখতে পাব কি?”

বুদ্ধিজীবী প্রসঙ্গে শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “সমাজে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা লইয়া নানান কথা প্রচলিত রহিয়াছে। একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা দেশ ও জাতির জন্য কী অবদান রাখিয়া গিয়াছেন উহা লইয়া গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য কমই চোখে পড়ে। অথচ, একটু খেয়াল করিলেই বোঝা যায় যে, তাহারা অত্যন্ত সচেতন ও সজাগভাবেই বুদ্ধিজীবী হিসাবে তাহাদের কর্তব্য কর্ম পালন করিয়া গিয়াছেন। আর সেক্ষেত্রে কোনোপ্রকার চাপ বা প্রলোভন তাহাদের কাবু করিতে পারে নাই। ইহার অন্যতম কারণ এই যে, বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমাজে নিজের বা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে তাহারা যেমন সচেতন ছিলেন তেমনি আবার ঐ অবস্থান হইতে তাহাদের করণীয় ব্যাপারেও তাহারা পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলেন। ফলে নিষ্ঠার সহিত সেই কর্তব্য পালন করার দিকেই বুদ্ধিজীবীরা মনোনিবেশ করিয়া গিয়াছেন। দেশে দেশে এবং বিভিন্ন যুগে এমনধারার বুদ্ধিজীবীদের সন্ধান পাওয়া কোনো কঠিন ব্যাপার নহে।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে আমাদের দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা গা-ছাড়া ভাব এবং অর্থ-বিত্ত-বৈভবের প্রতি অতিশয় আসক্তি বুঝিবা প্রকট হইয়া উঠিতে দেখা যাইতেছে। আর ইহার ফলে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি মানুষের ভক্তি-শ্রদ্ধা বজায় রাখাটাও অনেকাংশে কঠিন হইয়া পড়িতেছে। বুদ্ধিজীবীরা সমাজেরই অংশ; তবে, গণমানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাহাদের চোখ-কান খোলা থাকিবে, ইহাই কাম্য। আর সেই মোতাবেক তাহারা সমাজের নানান ত্রুটি-বিচ্যুতি, বিভ্রাট-বিভ্রান্তি, অন্যায়-অন্যায্যতা ইত্যাদি নানান ব্যাপারে সোচ্চার কণ্ঠে প্রতিবাদী ও পরামর্শকের ভূমিকা পালন করিবেন, ইহাইতো প্রত্যাশিত। কিন্তু ঘটনা যখন ইহার বিপরীতধর্মী হয় তখনই যত ঝঞ্ঝাট দেখা দেয়।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?

তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?