Sunday, October 16th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
October 16th, 2016 at 9:29 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: আঞ্চলিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নিন শিরোনামে প্রথম আলো সম্পাদকীয়তে লিখেছে, “পৃথিবীর অন্যান্য আঞ্চলিক জোট যখন নিজ নিজ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তখন তিন দশকেরও বেশি বয়সী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় প্রসঙ্গটা আবারও বড় হয়ে সামনে এসেছে।

এই পটভূমিতে কোনো কোনো মহল সার্কের বদলে বিমসটেক (বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর দ্য মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক ফেডারেশন) জোটের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ওই সংশয় দূর হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। সংবাদপত্রটি তাঁকে প্রশ্ন করেছিল, ‘আপনি কি মনে করেন, যেখানে সার্ক অচলাবস্থায় রয়েছে, জোট হিসেবে বিমসটেক সফলতা পাবে?’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সার্ক হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থা এবং তা আগের মতোই আছে।’ ১৯৮৫ সালে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ নিয়ে, পরে আফগানিস্তান যোগ দেয়। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের চারপাশের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিমসটেক গঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, ‘আমি একটি সংস্থাকে অপর একটি সংস্থার বিকল্প হিসেবে দেখি না।”

কালের কণ্ঠ বাংলাদেশ-চীন চুক্তি নিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে শিরোনামে লিখেছে, “বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় স্থাপন করে বিদায় নিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ঢাকা সফরকালে তিনি বলেছেন, সম্পর্কের এক টার্নিং পয়েন্ট অর্থাৎ নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে দুই দেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা জোগাতে চীন অনেক চুক্তি ও সমঝোতায়ও স্বাক্ষর করেছে। আমরা মনে করি, চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফর বাংলাদেশের তরফে সন্তোষজনক শুধু নয়, নতুন অনেক আশারও সঞ্চার করেছে। যৌথ প্রকল্পের সুবাদে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সন্দেহ নেই, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নত হলে অর্থনৈতিক উন্নতির পালেও আরো জোরে হাওয়া লাগবে। তাই স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করে অবশ্যই যথাসময়ে বাস্তবায়িত হতে হবে।”

ইত্তেফাক তার সম্পাদকীয়তে সোনালী ব্যাংক: লন্ডন কাণ্ড শিরোনামে লিখেছে,“রেমিটেন্স সংগ্রহের বাইরে আমানত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা পাইয়াছে যুক্তরাজ্যে ব্যাংকিং পরিচালনাকারী বাংলাদেশি সোনালী ব্যাংক। আগামী ২৪ সপ্তাহের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হইয়াছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, দেশটির শীর্ষ এন্টি-মানি লন্ডারিং কর্মকর্তা স্টিভেন স্মিথ বলেন, সোনালী ব্যাংক ইউকে শাখাকে জরিমানা করা হইয়াছে। নিয়মিত ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড হইতেও ব্যাংকটিকে নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। কিন্তু ব্যাংকটি প্রবাসী-আয় বা রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠাইতে পারিবে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যাংকটি ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হইয়াছে। সোনালী ব্যাংক (ইউকে) নামে কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী এই সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মালিকানায় সরকারের শেয়ার রহিয়াছে ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৯ শতাংশ সোনালী ব্যাংকের। মূলত বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে কোম্পানিতে রূপান্তর করিবার প্রক্রিয়ায় এই সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বা শেয়ারের ভাগাভাগি। যদিও কথা রহিয়াছে যে, কোম্পানি করিবার পরও ব্যাংকগুলি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাইতে পারে নাই। বরং অনিয়ম বাড়িয়াছে। হলমার্কের মতো বড় জালিয়াতির ঘটনাও ঘটিয়াছে। এই যখন অবস্থা তখন, বিদেশে ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড করিতে গিয়া মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটাইয়াছে যুক্তরাজ্য সোনালী ব্যাংক। যাহা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করিয়াছে। অবাক বিষয় যে, এই ব্যাপারে বারংবার সতর্ক করিবার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। বরঞ্চ বিষয়টি গোপন রাখা হইয়াছে।”

বণিক বার্তা চীনের প্রতিশ্রুত ঋণ প্রদানের বিষয়টি নিয়ে অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি শিরোনামে লিখেছে,“বাংলাদেশ সফর করে গেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২৩ ঘণ্টার এ সফরে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন তিনি। এ সময়ে ২৭টি চুক্তি ও এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে। সবকিছু ছাপিয়ে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে চীনের ২৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে ২ বিলিয়ন ও ২০১৪ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি পায় বাংলাদেশ। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের বিপুল পরিমাণ ঋণ প্রদানের বিষয়টি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। তবে এ অর্থের ভালো-মন্দ সবকিছুই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ওপর। দেখার বিষয়, কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যক্তি ও সরকারি খাত এ অর্থ কাজে লাগাতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট এ সফরে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মাত্র। প্রতিশ্রুত অর্থ আনতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে সংশ্লিষ্টদের। সঠিকভাবে প্রকল্প ডিজাইন থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়ন পর্যন্ত লেগে থাকতে হবে। কারণ এর আগে বহু প্রতিশ্রুতির অর্থ ছাড় করতে না পারায় ফেরত গেছে। আলোচ্য ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেদিকে দৃষ্টি থাকা চাই।”

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা