Monday, December 26th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
December 26th, 2016 at 8:08 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: জনগণকে আস্থায় নিয়েই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলার আহ্বান রেখে জঙ্গিদের নতুন আস্তানা শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আশকোনায় নতুন করে জঙ্গি আস্তানার হদিস পাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত শনিবার সেখানে ১৬ ঘণ্টার অভিযানে দুজন ‘নিহত’ হওয়া এবং শিশুসহ দুই নারী জঙ্গির আত্মসমর্পণের ঘটনা প্রমাণ করে যে জঙ্গিগোষ্ঠী চুপচাপ বসে নেই। এর আগে রাজধানীর আজিমপুর, কল্যাণপুর ও নারায়ণগঞ্জের অভিযানেও বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

আশকোনার ঘটনায় অভিযানকারীদের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে একজন নারী জঙ্গি শরীরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাটি এক বিপজ্জনক ও ভয়াবহ প্রবণতার ইঙ্গিত তুলে ধরেছে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক হলো একটি শিশুর বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হওয়া। যে বয়সে শিশুদের মা–বাবার স্নেহের ছায়ায় হেসে-খেলে সময় কাটানোর কথা, সেই বয়সে তাকে জঙ্গি আস্তানায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। জঙ্গিবাদের থাবা থেকে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না!

অভিযান পরিচালনাকারীদের মতে, আশকোনার নিহত ও আত্মসমর্পণকারীরা এর আগে আজিমপুর ও নারায়ণগঞ্জের অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের স্বজন। সে ক্ষেত্রে এই ধারণা অমূলক নয় যে জঙ্গিগোষ্ঠীর শিকড় অনেক গভীরে। নানা স্তরেই তারা কাজ করে থাকে। কেউ ধরা বা মারা পড়লে অন্যরা শূন্যস্থান পূরণ করে। হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির পর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠা ও সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও এই চক্র যে এখনো যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে, সেটা পরিষ্কার। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও তৎপরতার মাধ্যমে সমাজ থেকে এই শক্তিকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা যে জরুরি একটি বিষয়, সেদিকে সরকার আদৌ নজর দিচ্ছে না।”

নারীরাও জড়াচ্ছে জঙ্গিবাদে শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “জঙ্গি দমনে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আশাব্যঞ্জক হলেও এই অপশক্তিকে পুরোপুরি দমন করা যায়নি। এখন নারী ও কিশোরদেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে, যারা জঙ্গিবাদে দীক্ষিত।

জঙ্গি নেতা সুমনের স্ত্রী শারিকা ও তানভীর কাদেরীর কিশোর ছেলে আসিফ কাদেরীর আত্মহত্যা প্রমাণ করে, তারা শুধু দীক্ষাই নেয়নি, বিশ্বাসে অটল। অবশ্য নারীদের জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হওয়ার প্রবণতার প্রমাণ মিলেছে অনেক আগেই। গত আগস্ট মাসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসকসহ পাঁচ তরুণী গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় নারী জঙ্গিদের বিষয়টি নতুন করে সবার সামনে চলে আসে। এই পাঁচ তরুণীর জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে র‍্যাব। অভিযোগপত্র চূড়ান্ত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বেশ কিছুদিন থেকেই দেখা গেছে, পুরষদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরাও জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। জঙ্গিবাদে আস্থা স্থাপন করে একাধিক পরিবার নিরুদ্দেশ হয়েছে। ঢাকার আশকোনায় যে নারী সদস্যদের পাওয়া গেছে, তারাও জঙ্গি নেতাদের স্ত্রী ও সন্তান। এই প্রবণতা আমাদের সমাজের জন্য ভালো নয়।

চলতি বছর দেশে জঙ্গিবিরোধী বহু সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ১ জুলাই হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর এসব অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। এরপর গত ছয় মাসে পরিচালিত আটটি অভিযানে ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। কিন্তু দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। সাময়িক দুর্বলতা কাটিয়ে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে তারা। আশকোনার মতো আরো অনেক বাড়িতে মিথ্যা পরিচয়ে আশ্রয় নিয়ে সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আগে ব্যক্তিকে টার্গেট করা হতো। এখন পরিবারকে টার্গেট করে জঙ্গিবাদে ভেড়ানো হচ্ছে। এই প্রবণতা রোধ করার কাজে গুরুত্ব দিতে হবে।”

সদা সতর্ক থাকতে হবে শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “গুলশানের হলি আর্টিসানে গত জুলাই মাসের গোড়ায় অনেকটা নতুন ধরনের জঙ্গি হামলার মধ্য দিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে আপাত অপ্রস্তুতি স্পষ্ট হয়েছিল, গত কয়েক মাসে তারা তা দৃশ্যত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। এর সর্বশেষ নজির আমরা দেখলাম রাজধানীর আশকোনায় একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের মধ্য দিয়ে। আমরা দেখছি, ইতিমধ্যে সরকার জঙ্গিবাদ দমনে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করেছে এবং তারা নানা এলাকায় সাফল্যের সঙ্গে ‘প্রি-এম্পটিভ’ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় সন্ত্রাসবাদবিরোধী ওই বাহিনী ছাড়াও পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে বেশ কিছু জঙ্গি আটক হয়েছে বা অভিযানের সময় নিহত হয়েছে। ক্রমেই কমে আসছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি_ স্বীকার করতে হবে। আমাদের মনে আছে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এই ‘প্রি-এম্পটিভ’ অভিযান শুরু হয়েছিল জুলাই মাসের শেষদিকে কল্যাণপুরে অভিযানের মধ্য দিয়ে। সেখানে একসঙ্গে ৯ জঙ্গি নিহত ও একজন আহত অবস্থায় আটক হয়েছিল। তার পরের মাসে আগস্টের শেষদিকে নারায়ণগঞ্জে অভিযান পরিচালিত হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে মিরপুরের রূপনগর এবং তার পরের সপ্তাহে আজিমপুরে অভিযানে কয়েকজন জঙ্গি নিহত ও কয়েকজন আটক হয়। অক্টোবরের গোড়ায় গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের তিনটি স্থানে পৃথক অভিযানে ১২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল। হলি আর্টিসানে হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমবেশি ৩০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে, এসব অভিযানের মাধ্যমে কথিত নব্য জেএমবির নেতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক তামিম চৌধুরী, সামরিক প্রশিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ওরফে ‘মেজর মুরাদ’ এবং ঢাকা অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার ‘আকাশ’ নিহত হয়েছে। আশুলিয়ায় অভিযানের সময় পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছে নব্য জেএমবির অর্থ সমন্বয়ক আবদুর রহমান। এসব অভিযানের মধ্য দিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী যে তাড়ার মধ্যে রয়েছে এবং নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিতে শুরু করেছে_ অস্বীকার করা যাবে না।”

সবজি উৎদনে প্রশংসনীয় সাফল্য শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “বিশ্বে চীন ও ভারতের পরেই বাংলাদেশ এখন তৃতীয় সবজি উত্পাদনকারী দেশ। প্রতি বছর বিশ্বের ৫০টি দেশে প্রায় সাত শত কোটি টাকার সবজি রপ্তানি হইতেছে। পাশাপাশি কৃষিনির্ভর উদ্যোক্তার সংখ্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাইতেছে, যাহা একদিকে যেমন বেকারত্ব হ্রাসে ভূমিকা রাখিতেছে, অন্যদিকে অর্থনীতির চাকাকেও সচল রাখিতেছে। ইহা নিঃসন্দেহে দেশের জন্য বড় একটি অর্জন।

সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিরলস প্রচেষ্টাকে এই অর্জনের অন্যতম অনুঘটক হিসাবে উল্লেখ করা যায়। তথাপি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এ দেশের কৃষিতে আরো ব্যাপকভাবে উন্নত প্রযুক্তি এবং পরিবেশ উপযোগী উন্নত বীজের ব্যবহার নিশ্চিত করা হইলে অতিরিক্ত আরো ৩০ শতাংশ সবজি উত্পাদন করা সম্ভব হইবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪০ বত্সরে বাংলাদেশে সবজির উত্পাদন পূর্বের তুলনায় পাঁচগুণ বাড়িয়াছে। বিষয়টি আশা জাগানিয়া হইলেও আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটানোর প্রয়োজনে সবজির উত্পাদন আরো বাড়াইতে হইবে। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন মানুষের প্রতিদিন ২২০-২২৫ গ্রাম সবজি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশের লোকজনের খাদ্য তালিকায় এখনো সবজির পরিমাণ মাত্র ৭০-৯০ গ্রাম। সবজি উত্পাদনে অধিকতর সাফল্য অনিবার্যভাবে এই অবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিবে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?

তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?