Wednesday, January 4th, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
January 4th, 2017 at 9:38 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: ন্যূনতম মজুরিকাঠামো নিয়ে মজুরি বৃদ্ধির নিম্নতম হার শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “দেশের নানা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রভাব যে দেশের সব মানুষের ওপর পড়ছে না, তার একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেল আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গ্লোবাল ওয়েজ (২০১৬-১৭) প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার কম। মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় সাধনের পর প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার বাংলাদেশে এতই কম যে এতে জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন আনা দুষ্কর।

আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রকৃত মজুরি বেড়েছে মোট ১১ শতাংশ। প্রতিবেশী ভারতে একই সময়ে এই বৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও চীনের মতো দেশে এই হার আরও অনেক বেশি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যেখানে গড় প্রকৃত মজুরি বেড়েছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে পরের দুই বছর তা বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে। শেষ দুই অর্থবছরে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে আমরা দেখব যে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে মিলিয়ে প্রকৃত মজুরি না বাড়ার অর্থ হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভাগ দেশের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী পাচ্ছে না।

কয়েকটি নির্দিষ্ট খাত ছাড়া বাংলাদেশে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ বা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করার আনুষ্ঠানিক কোনো কাঠামো নেই। যে প্রধান খাতগুলো সমন্বয় করা যায়. সেগুলোতেও আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মজুরি কম। ভারত, ইন্দোনেশিয়া বা পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশে শ্রমিকের মাসিক নিম্নতম মজুরি সবচেয়ে কম। কৃষি বা অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক খাতে ন্যূনতম মজুরি বলেও কিছু নির্দিষ্ট নেই।”

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নজরে এনে ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “ভয়ংকর সব অগ্নিকাণ্ডে একের পর এক প্রাণহানি ও সম্পদ নষ্ট হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। এবার আগুনে পুড়ে গেছে রাজধানীর গুলশানের ১ নম্বর সার্কেলের ডিএনসিসি মার্কেট।

সোমবার মধ্যরাতে যে আগুনের সূত্রপাত, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তা নেভানো সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। আগুনে পুড়ে ভোরের দিকে ধসে পড়ে মার্কেটের একাংশ। দোতলা এই মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আমদানি করা খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী, পোশাক, প্লাস্টিক পণ্য ও গয়নার প্রায় ২৫০টির মতো দোকান রয়েছে। নিচতলার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে আসবাবের দোকান। অর্থাৎ মার্কেটের একটি বড় অংশে দাহ্যপণ্যের দোকান থাকলেও অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

যেকোনো ভবনেই আগুন লাগতে পারে। তবে সবখানেই আগুন নেভানোর সক্ষমতা, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ও আগুন নেভানোর যন্ত্র থাকতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সেখানে দ্রুত গেলেও তাদের গাড়ির নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগে যায়।

গত বছরই বড় কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে দেশে। গাজীপুরের টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ অসাবধানতা। ডিএনসিসি মার্কেটে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুন লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদ্যুতের সংযোগ পুরনো হয়ে গেলে তাতে শর্টসার্কিট হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এসব সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা ও সংস্কার করা প্রয়োজন। মার্কেটের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল আসবাবের দোকান। এসব দাহ্যপণ্যের সুরক্ষার কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?”

গণতন্ত্রের শাশ্বত সত্য শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সর্বোচ্চ আদালত একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছেন। রাজনীতিবিদ ও নির্বাচনপ্রার্থীরা ধর্মের নামে, জাত-বর্ণের নামে, সম্প্রদায়ের নামে ও ভাষার নামে ভোট চাইতে পারবেন না। এই রায় ঐতিহাসিক হয়ে উঠতে পারে, যদি এখন থেকেই ভারতের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের বিকাশ এই নির্দেশনার আলোকে বিকশিত হয়। ভারত জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ঔপনিবেশিক শক্তির কবল থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর বহু জাতি-ধর্ম-ভাষা-বর্ণে বিভক্ত দেশটি গণতান্ত্রিক শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রে পশ্চাদপদতা ও অপূর্ণতা থাকলেও নিয়মিত নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক শাসন অব্যাহত থাকা দেশটির জন্য গৌরবের। একই সঙ্গে স্বাধীনতা পেলেও ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র তা পারেনি। গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু প্রগতির পথ সরল একরৈখিক নয়। ভারত ও বাংলাদেশ উভয় রাষ্ট্র সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রেখেও সাম্প্রদায়িকতার কলুষতা ও উৎপাত থেকে মুক্ত হয়নি। এর অন্যতম প্রধান কারণ রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়টি একেবারে মৌলিক বা নতুন নয়। দেশটির জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩(৩) ধারায় ধর্ম-জাতি-সম্প্রদায়-ভাষা ভিত্তিতে ভোট চাওয়া নিষিদ্ধই রয়েছে। তবু ধর্ম ও জাত-পাত নিয়ে ধুন্ধুমার রাজনীতি, ভোটের রাজনীতি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা ভারতে হচ্ছে। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরে সুপ্রিম কোর্ট বললেন যে, ধর্ম-বর্ণের নামে ভোট চাওয়া ও ভোট না দিতে বলা নিষিদ্ধ। কোনো নির্বাচনে কোনো প্রার্থী এ বিধান অমান্য করলে ওই নির্বাচন বাতিল হবে। ১৯৯০-এর দশকের একটি নির্বাচনী মামলার সূত্রে একাধিক পিটিশনের নিষ্পত্তিতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দেন। মঙ্গলবার ৩ জানুয়ারি দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, নির্বাচন একটি ধর্মনিরপেক্ষ অনুশীলন।”

শিশুর কাঁধে বইয়ের বোঝা শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “শিশুদের জন্য শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে আইন করিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়াছেন হাইকোর্ট। এই সংবাদ গত মাসের। ইতোমধ্যে গত রবিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ও প্রকাশ করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে, শিশু শিক্ষার্থীদের ব্যাগের ওজন কী পরিমাণ হইবে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নাই। ফলে দেখা যাইতেছে, নানা ধরনের সিলেবাসের কারণে শিক্ষার্থীরা ভারীব্যাগ বহন করিতে বাধ্য হইতেছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ যাহাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এইজন্য সরকারকে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হইল। তবে আইন প্রণয়ন সময়সাপেক্ষ। তাই শিশুদের ভারী স্কুলব্যাগ বহন করা যাইবে না মর্মে এক মাসের মধ্যে সার্কুলার জারি করিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশও দেওয়া হইয়াছে। একই সাথে কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি শিশুদের ওই ওজনের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহনে বাধ্য করে তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। আর, শিশুর পিতামাতার সচেতনতাসংবলিত নির্দেশনার পরিপত্র জারি করিতেও বলা হইয়াছে।

ইতোপূর্বে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শিশুদের ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিয়া প্রকাশিত প্রতিবেদন হাজির করিয়া সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী একটি রিট আবেদন করিয়াছিলেন। বলা হইয়াছিল, ভারী স্কুলব্যাগ বহনের ফলে পিঠে ব্যথা ও সোজা হইয়া দাঁড়াইতে না পারার কষ্ট নিয়া শিশুরা চিকিত্সকদের কাছে আসিতেছে। দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার শিশুদের শারীরিক ওজনের ১০ শতাংশের বেশি নহে এমন স্কুলব্যাগ বহনে একটি নির্দেশনা জারি করিয়াছে। আমাদের সরকারও যাহাতে অনুরূপ আইন করে সেই বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়। হাইকোর্ট সেই সময়ই ভারী ব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিয়া সরকারকে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশনা দিয়াছিলেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারি করা হইলেও তাহা কার্যকর হইতে দেখা যাইতেছে না। ২০১৬ পার হইয়া গেলেও দেখা যাইতেছে, শিশুরা ভারী ব্যাগ বহন করিতে বাধ্য হইতেছে। এই বিষয়ে বাংলা বা ইংরেজি মাধ্যমের কোনো স্কুলে নজরদারিও নাই। এখন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিবে বলিয়া আমরা আশা করিতে পারি।”

সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?

তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?


অ্যাসাঞ্জকে সতর্ক করল ব্রিটিশ আদালত

অ্যাসাঞ্জকে সতর্ক করল ব্রিটিশ আদালত


অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সংবাদপত্র শিল্প

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সংবাদপত্র শিল্প