Thursday, January 5th, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
January 5th, 2017 at 9:53 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: নির্বাচনের তৃতীয় বার্ষিকী শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “আজ ৫ জানুয়ারি। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বার্ষিকী, যে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ছিল না। ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরনের উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এটিকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ ও বিরোধী দল বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার আছে। কে কীভাবে দিবসটি পালন করল তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটা সদিচ্ছার পরিচয় দিতে পেরেছে। ক্ষমতাসীনদের মনে রাখতে হবে যে বিরোধী দল বা মত গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সংসদে কার্যত বিরোধী দলের উপস্থিতি নেই। সংসদের বাইরে থাকা প্রধান বিরোধী দলটিকেও যদি সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ যে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ পালন করছে, সেই ‘গণতন্ত্র’ সম্পর্কে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

৫ জানুয়ারি ঢাকায় সরকারি দলের কর্মসূচি রয়েছে এবং বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে ৭ জানুয়ারি। ফলে মুখোমুখি অবস্থান ও উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারের উচিত হবে না বিরোধী দলের কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া, যা আপাতত সুস্থির রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থির করে তুলতে পারে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি যখন পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন সব পক্ষের কাছেই সংযত ও সহিষ্ণু আচরণ প্রত্যাশিত। এই মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য যে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন, সে কথা নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীনেরা অস্বীকার করতে পারবেন না।”

আওয়ামী লীগেও শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন জানিয়ে জামায়াতি অনুপ্রবেশ শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে দল পরিবর্তন বা ক্ষমতাসীন দলে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের যোগদান কোনো নতুন ঘটনা নয়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক নেতাকেই সামরিক শাসকদের অনুগামী হতে দেখা গেছে।

এ ধারা এখনো চলছে। একসময় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় অনেককেই এখন আওয়ামী লীগের অন্ধ অনুসারীর ভূমিকায় দেখা যায়। কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা যাঁদের নিত্যদিনের রাজনৈতিক রুটিন ছিল, তাঁদের অনেকেই আজ অনুসারীদের নিয়ে সদলবলে যোগ দিয়ে দলটির বড় নেতা সেজে বসে আছেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দল আওয়ামী লীগে জামায়াতি অনুপ্রবেশের অভিযোগও অনেক পুরনো। এই অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্যে আওয়ামী লীগের অনেক পরীক্ষিত নেতাকর্মী আজ কোণঠাসা। দলে তাঁদের স্থান নেই। দলীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত অনেক নেতাকর্মী নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে অনুপ্রবেশকারী সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের ভাগ্য খুললেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দল। মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। কিছুদিন আগেও যাদের আওয়ামী লীগবিরোধী হিসেবে পরিচিতি ছিল, তাদের মুখেই এখন ধ্বনিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের জয়গান। কালের কণ্ঠে এমন একজন রাজনীতিবিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই সংসদ সদস্য একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নে সক্রিয় ছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ নিয়ে তিনি আজ আওয়ামী লীগেরও সংসদ সদস্য। তাঁর হাত ধরে বিএনপি-জামায়াতের আদর্শে বিশ্বাসীদের ঠাঁই হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলে। সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এই অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড আওয়ামী লীগারদের। দলের জেলা কমিটি থেকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সরিয়ে জামায়াত-বিএনপির লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় তাণ্ডব চালানো জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরাও এই সংসদ সদস্যের হাত ধরে আজ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণকারী।”

বিপুল ক্ষতি, অনেক প্রশ্ন শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “রাজধানী ঢাকার গুলশান-১ সার্কেলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশস্ত মার্কেট অগি্নকাণ্ডে ছাই হওয়ার পর অনেক প্রশ্ন লোকমুখে আলোচিত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম প্রধানত যে দৃষ্টিকোণ থেকে খবর পরিবেশন করেছে, তা এক কথায় ফুটে উঠেছে সমকালে ‘দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা’ শিরোনামে। সোমবার গভীর রাতে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিটের চেষ্টায় ১৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিভেছে; তবে সৌভাগ্যবশত কেউ নিহত বা দগ্ধ হয়নি। অনেক ব্যবসায়ী ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত, যেন ‘আমির’ নিমেষে ‘ফকির’ হয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের সুবিধাজনক শর্তে ব্যাংকিং-প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানাই। তাৎক্ষণিকভাবে অনেক ব্যবসায়ী ঘটনাটিকে ‘নাশকতা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অগি্ননির্বাপণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করেননি বলেও অভিযোগ তুলেছেন। আমাদের ফায়ার সার্ভিস নিয়ে সরঞ্জামের ঘাটতি, ঘটনাস্থলে পানির অভাব ও যানজটজনিত সমস্যার পৌনঃপুনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্যকর্মে অবহেলার অভিযোগ আগে ওঠেনি বরং তারা প্রশংসাই পেয়েছেন। বিপুল ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীদের আবেগাশ্রিত ক্ষোভের প্রকাশ যদি ঘটেও থাকে তবু আমরা মনে করি, আগুন লাগার কারণসহ অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা দরকার।”

প্রয়োজন উচ্ছেদপরবর্তী সতর্কতা শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত চিকিত্সাপ্রার্থী ও তাহাদের আত্মীয়-স্বজনের সমাগম ঘটে। এই বিপুল মানুষের সমাবেশের ভিতরে বিকিকিনির সুযোগ লইয়া থাকেন বিভিন্ন হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রিকশা ভ্যান ও মাঠে কাপড় বিছাইয়া চলিয়া থাকে হরেক পণ্যের বেচাকেনা। একটি দৈনিকে প্রকাশিত সচিত্র প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল চত্বরে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত দোকানের সমাহার দেখা যায়। হাসপাতালের প্রধান গেটের ভিতরে প্রবেশের পর যে খোলা চত্বর রহিয়াছে, সেখানেই নানান পণ্যের পসরা বসান অসংখ্য বিক্রেতা। সেইখানে ভ্যানে বিক্রি হয় বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রীসমেত বিচিত্র পণ্য। জানা গিয়াছে, প্রতিদিন সকাল ১০টা হইতে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে এবং হাসপাতালেরই কিছু লোক টাকার বিনিময়ে এই সুবিধা প্রদান করিয়া থাকেন।

যেকোনো হাসপাতাল ঘিরিয়াই বিভিন্ন পণ্যের দোকান ও হকারদের সমাগম খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু সেই সকল দোকান ও হকারদের দেখা যায় হাসপাতালের চৌহদ্দির বাহিরে। অথচ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চত্বরের ভিতরেই অবৈধভাবে হকাররা হাট বসাইয়াছে। সরকার যেখানে সরকারি হাসপাতালে ভিড় হ্রাস করিবার বিবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করিতেছে, সেইখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কেন বিপরীত পথে হাঁটিবে? প্রকৃতপক্ষে যেকোনো স্থানের হকারই টাকার বিনিময় ছাড়া দোকানপাট বসাইবার সুযোগ পান না। এই হাসপাতালও তাহার বাহিরে নহে। ইহা স্পষ্ট যে, হাসপাতালের কোনো কোনো অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাইয়া যাইতে পারিতেছে হকাররা। কারণ হাসপাতালের প্রভাবশালী কেহ এই লেনদেনে জড়িত না থাকিলে বাহিরের লোকজন হাসপাতালের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা, এমনকি ঔষধের ও ফটোকপির দোকান চালানো অসম্ভবপ্রায়।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?

তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?