Monday, October 17th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
October 17th, 2016 at 9:20 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: প্রথম আলো তার সম্পাদকীয় করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও একে ঘিরে অসাধু চক্রের বাণিজ্য নিয়ে। ঢাকা মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স-সেবা শিরোনামে পত্রিকাটি লিখেছে, “শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফটকে অ্যাম্বুলেন্সের চাপায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু ঘটেছে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও সাত বছরের এক শিশুসহ চারজনের; আহত হয়েছেন তিনজন, তাঁদের মধ্যে ছয় মাস বয়সী এক শিশুও আছে। এ দুর্ঘটনার সুবাদে উন্মোচিত হলো দেশের প্রধান ও বৃহত্তম সরকারি হাসপাতালটির অ্যাম্বুলেন্স-ব্যবস্থার বিরাট ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা এবং তারই সুযোগে গড়ে ওঠা দায়দায়িত্বহীন ও জবরদস্তিমূলক এক বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স-ব্যবস্থার স্বরূপ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ২ হাজার ৬০০। কিন্তু সেখানে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কখনোই তিন হাজারের নিচে নামে না। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন দৈনিক গড়ে প্রায় তিন হাজার রোগী। এত বড় যে হাসপাতাল, তার মোট অ্যাম্বুলেন্স মাত্র সাতটি। দুটি বার্ন ইউনিটের, পাঁচটি মূল হাসপাতালের। তার মধ্যে দুটি নষ্ট। বার্ন ইউনিটের দুই অ্যাম্বুলেন্স চলে না, হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) খাজা আবদুল গফুরের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ নেই বলে।”

কালের কণ্ঠ তাদের সম্পাদকীয়তে অ্যাম্বুল্যান্স বাণিজ্য ও তাণ্ডব শিরোনামে লিখেছে, “দেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় নানা সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের কাছে হাসপাতালে সেবা নিতে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনরা জিম্মি। এরই একটি হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস। রোগীদের জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক ব্যবসা করে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না বা নেয় না। হাসপাতালে কর্মরতদের একটি অংশও এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। গত শনিবার যে অ্যাম্বুল্যান্সটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে চারটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সেটির মালিকদের একজন এই হাসপাতালেরই কর্মী।

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগী আনা-নেওয়ার জন্য যত অ্যাম্বুল্যান্স প্রয়োজন, তার তুলনায় আছে অনেক কম। এসব অ্যাম্বুল্যান্সের অধিকাংশই নষ্ট থাকে বা নষ্ট করে রাখা হয়। আর এই সুযোগটি নেয় অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। প্রতিটি হাসপাতাল ঘিরে গড়ে ওঠা এসব সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী আনা-নেওয়া করা যায় না। বাধ্য হয়েই এ সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করতে হয়। বিশেষ করে হাসপাতালে কোনো রোগী মারা গেলে এই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করার কোনো সুযোগ নেই। বাইরের কোনো গাড়ি বা অ্যাম্বুল্যান্স হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের বাধ্য হয়েই এই সিন্ডিকেটের বাণিজ্যিক সেবা নিতে হয়। এসব অ্যাম্বুল্যান্সের অধিকাংশই আবার রাস্তায় চলাচলের উপযোগী নয়। দূরপাল্লার ভাড়ায় গিয়ে অনেক অ্যাম্বুল্যান্স নষ্ট হয়। তখন রোগী ও তার স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবার অদক্ষ চালক দিয়ে চালানো হয় এসব অ্যাম্বুল্যান্স। শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এমনই এক চালকের কারণে অকালে ঝরে গেছে চারটি মূল্যবান জীবন।”

ইত্তেফাক সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে এইসব মৃত্যুর দায় কাহার শিরোনামে লিখেছে, “সম্ভবত বাংলাদেশেই সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় সবচাইতে বেশি মানুষ মারা যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মরে সবচাইতে বেশি। তাহার পরেই বেশি মৃত্যু ঘটে রেলের লাইনে। তবে, সড়ক দুর্ঘটনার বেলায় বেপরোয়া গাড়ি চালককে দায়ী করা চলিলেও, রেলের বেলায় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করিবার সুযোগ বিশেষ নাই। পথচারীদের অসতর্কতাই মৃত্যুগুলির জন্য প্রধানত দায়ী। পত্রিকান্তরের খবরে দেখা যাইতেছে, নারায়ণগঞ্জ হইতে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রেলওয়ের একটি থানা এলাকায় চলতি বত্সরের ৯ মাসে ২৩০টি লাশ উদ্ধার করা হইয়াছে। তাহাদের মধ্যে ১০৬ জনই মারা গিয়াছে মোবাইল ফোনে কথা বলিতে বলিতে রেলপথ পার হইবার সময়। সমগ্র দেশে রেলওয়ের থানা ২৪টি। সকল থানার হিসাব মিলাইয়া, গত নয় মাসে সমগ্র দেশে রেলপথ হইতে ৭২৯টি লাশ উদ্ধার করা হইয়াছে। অসতর্কতা, হত্যা ও আত্মহত্যার পাশাপাশি মুঠোফোনে কথা বলিতে বলিতে রেলপথ পারাপার এই সকল মৃত্যুর বড় কারণ। ট্রেন দ্রুতগতিতে চলে এবং অল্প দূরত্বে থামিতে পারে না। এই জন্য দুর্ঘটনাগুলি ঘটে। আর মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকিলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়া যায়। বস্তুত, সমগ্র দেশের রেলওয়েতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ জন লোকের মৃত্যু হইতেছে। অন্যদিকে লাশ উদ্ধারের পর দেখা যায় অনেকের কানেই হেডফোন ঝুলিতেছে।”

বণিক বার্তা শ্রমিকের সঠিক সংখ্যা জানে না সরকার উল্লেখ করে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে বাধা শিরোনামে লিখেছে, “দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন শ্রমিকরা। দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত রয়েছে। তবে এ খাতগুলোয় কাজ করা শ্রমিকের প্রকৃত সংখ্যার তথ্য সরকারের কাছে নেই। অথচ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি ও দারিদ্র্যের হার কমানোর জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, তার সঠিক বাস্তবায়নের জন্য এ তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ তথ্যঘাটতি বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যার সঠিক তথ্য না পাওয়ার অন্যতম কারণ কোনো শুমারি পরিচালিত না করা। এখন যে তথ্য রয়েছে তা অনুমাননির্ভর। এর ওপর ভিত্তি করে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে তার যথাযথ ফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়। তাই সঠিক শ্রমিক সংখ্যা-সংক্রান্ত যে তথ্যঘাটতি রয়েছে, তা যত দ্রুত সম্ভব দূর করা উচিত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শ্রমশক্তির সঠিক সংখ্যা জানা না থাকায় দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া দারিদ্র্য দূরীকরণ, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ ও মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তা প্রকৃত সুফল বয়ে আনবে না। কারণ যথাযথভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রথমেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে প্রকৃত তথ্যের ঘাটতি। শ্রমিকের প্রকৃত সংখ্যা বের করাসহ সংশ্লিষ্ট অন্য তথ্যাদি সংগ্রহে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) দিয়ে শুমারি পরিচালনা করা যেতে পারে। অবশ্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন, সঠিক শ্রমিক সংখ্যা নিরূপণে শুমারি হওয়া প্রয়োজন। আবার মন্ত্রণালয় থেকেও একটি শুমারি করার কথা ভাবা হচ্ছে। আমরা চাইব এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। কারণ শ্রমশক্তির সঠিক চিত্র থাকলে সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। এদিকে বিধিবদ্ধ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়াসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিচে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে শ্রমবাজারের কাঠামোগত অবনতি ঘটছে ক্রমাগত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের হার যেভাবে কমছে, তাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ কার্যালয়ের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেনের মতে, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার পদক্ষেপের সঙ্গে শ্রমবাজারের উন্নতিও করতে হবে। অন্যদিকে দেশে নগরকেন্দ্রিক বেকারত্বের হার বাড়লে ভবিষ্যত্ উন্নয়ন ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা