Tuesday, October 18th, 2016
আজকের সম্পাদকীয়
October 18th, 2016 at 8:47 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: প্রথম আলো জনশক্তি রপ্তানিতে বাড়তি অর্থ আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরে লুণ্ঠনের খপ্পরে জনশক্তি রপ্তানি শিরোনামে লিখেছে, “সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানি হরিলুটের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি নিয়মে যেখানে অভিবাসনে ইচ্ছুক শ্রমিককে ১৭ হাজার ৪০০ টাকা দেওয়ার কথা, সেখানে একেকজনকে দিতে হচ্ছে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা করে! প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী কোনো অভিযোগ পাননি বলে দাবি করলেও প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এই আর্থিক নয়ছয়ের শিকড় তাঁর মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত।

নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ১০-২০ শতাংশ অর্থ বেশি আদায়কে দুর্নীতি বলা যায়। কিন্তু ৫০-৬০ গুণ বেশি অর্থ আদায় তো নির্জলা লুণ্ঠন! সোমবারের প্রথম আলোর সংবাদ জানাচ্ছে, সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানি একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে জিম্মি। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এদের দৌরাত্ম্য। বিদেশে শ্রমিক নিয়োগের অনুমতিপত্র পেতে মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে টাকা দিতে হয়। টাকা দিতে হয় সৌদি আরব থেকে শ্রমিক নিয়োগের চাহিদাপত্র বাংলাদেশে আনতে। একজন কর্মীকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে গেলে প্রতিটি সরকারি দপ্তরে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়।”

কালের কণ্ঠ সম্প্রতি ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হোক শিরোনামে লিখেছে, “ ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হলো অষ্টম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচটি দেশেরই রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা যোগ দিয়েছিলেন এ সম্মেলনে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোকেও। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরাও যোগ দিয়েছিলেন এ সম্মেলনে। ফলে এবারের সম্মেলনে ব্রিকসের বিভিন্ন এজেন্ডার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। ব্রিকস ও বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোতে মানসম্পন্ন অবকাঠামো তৈরি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য দুই জোটের মধ্যে সংলাপ আয়োজন। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উন্নয়নের একটি প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এ ক্ষেত্রে দুই জোটের দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে “

বণিক বার্তা শিরোনাম করেছে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ হোক। পত্রিকাটি লিখেছে, “মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩১ বছর বয়সী অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তিদের ৯৮ শতাংশের বেশি পুরুষ। এদের মধ্যে প্রায় ৩৪ শতাংশ গেছে জমি বিক্রি করে, ৩৬ শতাংশ প্রাথমিক পর্যন্ত পড়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, অভিবাসীদের ৫২ শতাংশ বিদেশে যায় দালালের মাধ্যমে। এর অর্থ রেমিট্যান্স আহরণকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনশক্তি রফতানি খাত দাঁড়িয়ে আছে দুর্বল ভিত্তির ওপর, যা দালালরাই টিকিয়ে রেখেছে। জনসংখ্যা রফতানি খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেয়ার ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তেমন সুফল মেলেনি। থাইল্যান্ডের গহিন অরণ্যে অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের গণকবর আবিষ্কারের পাশাপাশি অনেককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এদের প্রায় সবাই বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা দিয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার করে আসছে সংঘবদ্ধ কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অনেক মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সহায়-সম্বল বিক্রি করে অথবা চড়া সুদে দাদনের টাকা দালাল বা প্রতারকের হাতে তুলে দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশে, বিশেষ করে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়।

ব্যবহারিক বিজ্ঞান শিক্ষা শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “দেশের শতকরা ৩৭ ভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার নাই। অথচ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় সব স্কুলেই বিজ্ঞান বিভাগ চালু রহিয়াছে। শহরের স্কুলসমূহে কাজ চালাইয়া নিবার মতো ল্যাবরেটরি থাকিলেও গ্রামাঞ্চলে বিজ্ঞান শিক্ষা পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নহে। মাধ্যমিক স্কুলের তুলনায় কলেজসমূহের পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা ভালো। শতকরা ৮১ ভাগ কলেজে বিজ্ঞানাগার রহিয়াছে। এই তথ্য প্রকাশ করিয়াছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো—ব্যানবেইস। যেইসব স্কুল ও কলেজে বিজ্ঞানাগার আছে, সেখানেও ইহার সদ্ব্যবহার হইতেছে কিনা, সেও এক জরুরি প্রশ্ন। তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলেন, বিজ্ঞানাগার থাকিলেও বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ নাই। তদুপরি অভাব রহিয়াছে ছেলেমেয়েদের হাতে-কলমে শিখাইবার মতো দক্ষ শিক্ষকেরও। এমতাবস্থায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে প্র্যাকটিক্যালটাকে অনেক ক্ষেত্রে নম্বর তুলিবার সহজ উপায় হিসাবে ব্যবহার করা হইয়া থাকে। উল্লেখ্য, বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে শতকরা ২৫ নম্বর নির্ধারিত রহিয়াছে প্র্যাকটিক্যালের জন্য। এই নম্বরের পুরাটাই পরীক্ষার্থী পাইতে পারেন হাতে-কলমে কিছু না শিখিয়াও। প্র্যাকটিক্যাল খাতায় ট্রেসিং পেপার ব্যবহার করিয়া নির্দিষ্ট কিছু চিত্র অঙ্কন করিয়া অথবা অন্য কাউকে দিয়া করাইয়া নিয়া গত্বাঁধা বর্ণনা লিখিয়া দিলেই হইল। প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় বহিরাগত পরীক্ষক থাকিলেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত নম্বর পাইতে অসুবিধা হয় না। ইহাতে পরীক্ষার্থীগণের মোট প্রাপ্ত নম্বর স্ফীত হয়, রেজাল্ট ভালো হয়, অভিভাবকগণ খুশি হন। তবে আমরা এই কথা বলি না যে, বিজ্ঞানের সকল শিক্ষার্থীই এইরূপে ভালো রেজাল্ট করিয়া থাকেন। অনস্বীকার্য যে শেষ বিচারে মেধাবীরাই ভালো ফল করিয়া থাকেন।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা