Thursday, February 16th, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
February 16th, 2017 at 9:12 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাধি শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “দেশে এখন খুব কম পাবলিক পরীক্ষা আছে, যার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠেনি! এবার ফাঁস হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। প্রশ্নপত্র ফাঁস, অবৈধ পথে তা গ্রহণ ও সমস্যার সমাধান না হওয়া আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়ার আলামত।

বিসিএস, মেডিকেল থেকে শুরু করে প্রাথমিক সমাপনী—হেন পরীক্ষা নেই যার কোনো না কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি! এটা বছরের পর বছর চলেই আসছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার গা করেনি। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হয়েছে এবং কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মামলাও হয়েছে। এবং দেখা গেছে, প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে শুরু করে সরকারি প্রেসে ছাপার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়েই ফাঁসচক্রটি গঠিত। কিন্তু অনেক সময় নীতিনির্ধারকেরা সত্য ‘অস্বীকার’ করে সমস্যা আড়ালের চেষ্টা করে গেছেন। এতে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র আরও উৎসাহিতই হয়েছে। গতকাল বুধবারের প্রথম আলোর সংবাদ: পুলিশের সন্দেহ, এবারও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সরবরাহ ও ছাপার কাজে জড়িতদের মধ্যেই রয়েছে ফাঁসের হোতাদের কেউ কেউ।

দেশে শিক্ষার মান নেমে গেছে। ফাঁস করা প্রশ্নের ‘পরীক্ষা’র কারণে তা আরও অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটা মোটেই বিশ্বাস্য নয় যে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোয় কোনো নিশ্চিত পদ্ধতি উদ্ভাবন করা যাবে না। শীর্ষ পর্যায়ে সদিচ্ছা ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে দক্ষ ও সৎমানুষকে এ কাজে জড়িত করতে হবে। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, দেশের কোচিং-বাণিজ্যের পরিমাণ টাকার অঙ্কে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। প্রশ্ন ফাঁস শিক্ষা-বাণিজ্যিকীকরণের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ধাপ। তাই হাত দিতে হবে গোড়ায়। এমন পরীক্ষাপদ্ধতি চয়ন করতে হবে, যাতে প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ না থাকে। প্রাথমিক ও জুনিয়র সমাপনী পরীক্ষা তুলে দিলে শিক্ষার্থীরা আনন্দের জন্য পড়বে, সার্টিফিকেটের জন্য নয়। তাতে করে ওই স্তরে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাবে। তবে উচ্চতর স্তরে একাধিক প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষার দিন লটারির মাধ্যমে প্রশ্নের সেট বাছাই করা যায়। শেষ বিচারে শিক্ষাব্যবস্থার স্তরে স্তরে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই।”

ছিনতাই বাড়ছেই শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “রাজধানীতে একের পর এক গুলি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় প্রাণও যাচ্ছে অনেকের। অথচ অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। পুলিশ অপরাধীদের খুঁজে বের করতে এবং অপরাধ প্রমাণ করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। আর ছিনতাই ঠেকানোর তো প্রশ্নই ওঠে না। ফলে দিন দিন ছিনতাই বেড়েই চলেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজধানীতে গত তিন বছরে দুই ডজনেরও বেশি বড় ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর মিরপুরের ব্যস্ত রাস্তায় ৯০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। গুলি করতে করতে পাঁচ মিনিটের মধ্যে টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে চলে গিয়েছিল। আহত হয়েছিল টাকা বহনকারী গাড়িচালক। ২২ মাসেও পুলিশ সেই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি। আড়াই মাস আগে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ রকম পরিণতি হয় ছিনতাইসংক্রান্ত অনেক মামলারই। আবার দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবেও অনেক মামলায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। গুরুতর অপরাধ করেও অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়। ফলে অপরাধীরা আরো উৎসাহিত হয়। বেড়ে যায় অপরাধ সংঘটনের মাত্রা ও হার।

পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর এমন দুর্বলতা কেন? অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুলিশের কাজের সঠিক নজরদারি হচ্ছে না। অনেক পুলিশ সদস্যই নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষার বদলে ব্যক্তিগত লাভের দিকে বেশি মনোযোগী। তদন্ত কাজে প্রয়োজনীয় মনোযোগ বা শ্রম দেওয়া হয় না। আবার উপযুক্ত নজরদারির অভাবে পুলিশ-অপরাধী সখ্যও বাড়ছে। ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে ‘বখরা বাণিজ্য’ যুক্ত আছে বলেও শোনা যায়। এমন হলে সেই পুলিশ সদস্যদের দিয়ে অপরাধ দমনের প্রচেষ্টা কতটুকু কার্যকর হবে?”

দায়ীদের কঠোর শাস্তি হোক শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কী মাত্রায় ফাঁস হয়েছে, পরীক্ষার ফলে এর প্রভাব কতটা পড়বে- এসব নিয়ে যত আলোচনাই চলুক একটি বিষয় স্পষ্ট, লাখ লাখ শিক্ষার্থী চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ। তারা প্রশ্ন করছেন, ঢাকা বোর্ডের গণিত পরীক্ষা কি বাতিল হবে? পরের পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন যে ফাঁস হবে না, তার নিশ্চয়তা কী? কিন্তু উত্তর মিলছে না। পুলিশের সন্দেহ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সরবরাহ ও ছাপার কাজে যুক্ত কেউ না কেউ এ ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এটাও বলা হচ্ছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এক বা একাধিক লোক পরীক্ষা শুরুর আগে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ যেন ক্ষেতের ফসল রক্ষার জন্য দেওয়া বেড়াতেই ফসল খেয়ে ফেলা। তাহলে উপায়? অভিযোগের তীর কিন্তু শিক্ষকদের দিকেও ছুটে যেতে পারে। কারণ দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা প্রায় সাড়ে চার হাজার মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে প্রধানত তারাই থাকেন। তাদের হাতেই জেলার ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে দুই-তিন ঘণ্টা আগে প্রশ্নের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। কেন্দ্রে পেঁৗছানোর আগেই পথিমধ্যে এ প্যাকেট খুলে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন কাজ, তবে অসম্ভব নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যা মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রশ্ন মুদ্রণের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সন্দেহ নেই, বেড়ায় ক্ষেতের ফসল খেতে শুরু করলে এ উদ্যোগও ব্যর্থ হয়ে যাবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গভীর পরিতাপ ও দুঃখের সঙ্গে বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে আস্থার জায়গা শিক্ষকরা। তাদের মধ্যেও দুর্নীতিবাজ ঢুকে গেছে। তাদের হাত ধরেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে।’ আমরা ‘নকলের মহোৎসব’ ও ‘গণটোকাটুকি’ বন্ধ করতে পেরেছি। কিন্তু যেভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মুহূর্তে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা প্রহসনে পরিণত হচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বেই।”

বাড়াবাড়ির পরিণাম শুভ হয় না শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “গত সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে নারায়ণগঞ্জের একজন সংসদ সদস্যের অফিসে গুলির ঘটনা ঘটিয়াছে। ইহাতে আহত হইয়াছে একজন স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা। জানা যায়, আহত ছাত্রলীগের নেতা ১০-১২ জন সঙ্গী নিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ হইতে স্থানীয় এমপির সহিত দেখা করিতে আসিয়াছিলেন। গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তিকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নাই। তবে রূপগঞ্জে জমিজমা নিয়া সরকারি দলের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জের ধরিয়া এই ঘটনা ঘটিয়াছে বলিয়া ধারণা করা হয়। টেন্ডার, চাঁদাবাজির পাশাপাশি জমি-কেনা, জমির ব্যবসা, জবরদখল ইত্যাদি নিয়াই এইসব বিবাদের সূত্রপাত হইতেছে। এই বিবাদে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনপুষ্ট ছাত্র সংগঠনটির একশ্রেণির নেতা-কর্মীও জড়িত হইয়া পড়িতেছে এই কথা যেমন সত্য, তেমনই একাংশ ভূমিদস্যুবিরোধী কর্মসূচির সহিতও সম্পৃক্ত রহিয়াছেন। আহত ছাত্রলীগের নেতার সহিত গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তির এই নিয়া বচসা বা বাকবিতণ্ডার কথাও জানা যায়।

সমপ্রতি বিভিন্ন কারণে ক্ষমতাসীন দল ও ছাত্রসংগঠনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা বাড়িতেছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত ১৩ মাসে শুধু চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করিয়া অন্তত ২৫ বার সংঘর্ষ হইয়াছে। ইহাতে নিহত হইয়াছেন তিনজন। আহত হইয়াছেন অন্তত ৬৫ জন। বিভিন্ন উন্নয়নকাজের দরপত্রের ভাগ পাওয়া, চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ— এই তিন কারণে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-কর্মী বার বার সংঘর্ষে জড়াইয়া পড়িতেছেন। ছাত্রদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাহাদের কোনো মনোযোগ নাই। তাহারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জড়াইয়া সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করিতেছেন। শুধু চট্টগ্রাম নহে, সারা দেশেই এই ধরনের ঘটনা ঘটিতেছে। আরেক পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত ২৬ মাসে সারাদেশে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষে প্রাণ হারাইয়াছেন ১৮ জন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখিবার স্বার্থেই সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে বিবাদ ও রক্তপাতের অবসান ঘটাইতে হইবে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন