Saturday, February 18th, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
February 18th, 2017 at 9:38 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে ব্যাংকে টাকা রাখলে আয় কমে! শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “আয় বাড়ানোর জন্যই মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে। বিশেষ করে অবসরভোগী ব্যক্তিরা ব্যাংকে যে টাকা জমা রাখেন, তা থেকে প্রাপ্ত সুদ বা লভ্যাংশ দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে ব্যাংকে আমানতের সুদের হার এতটাই নিম্নমুখী যে তা বার্ষিক মূল্যস্ফীতির সমান বা তার চেয়ে কম। এতে প্রকৃত আয় বাড়ে না, বরং কমে যায়।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন বছরে ৫ শতাংশ হারের বেশি সুদ পাওয়া যায় না। অথচ মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৫ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে আগে ১০০ টাকায় যে পণ্য বা সেবা কেনা যেত, এখন কিনতে লাগে ১০৫ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ প্রকৃত আয় কমেছে। বছর পাঁচেক আগেও আমানতের সুদের যে হার ছিল, এখন তার অর্ধেকে নেমে এসেছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কিছুটা বেশি হলেও নানা বিধিনিষেধ আছে।
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমবে!

খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় আমানতকারী ও সাধারণ ঋণগ্রহীতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যাংকগুলো খেলাপি বা মন্দ ঋণের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপাচ্ছে কম সুদ দিয়ে, আর ঋণগ্রহীতাদের ওপর চাপাচ্ছে বেশি সুদ নিয়ে। সাধারণত ব্যাংকে আমানতের সুদের হার ও ঋণের সুদের হারের ব্যবধান ৩ শতাংশ হওয়ার কথা। অনেক দেশে এই ব্যবধান আরও কম। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যবধানটি ৫ শতাংশ বা তার বেশি।

এর সহজ সমাধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় যে বিশৃঙ্খলা চলছে, তা দূর করা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা। সেটি সম্ভব হলে ব্যাংকগুলো ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ব্যবধান অনায়াসেই কমিয়ে আনতে পারবে। ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ বাড়ার অর্থ হলো মানুষের কাছে টাকা আছে। কিন্তু সেই টাকা ব্যাংকে অলস বসিয়ে রেখে তো লাভ নেই।”

চালের বাজার অস্থির শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “আমন ধান উঠে গেছে বেশ কিছুদিন আগে। কৃষকের হাতে বিক্রি করার মতো কোনো ধান-চাল অবশিষ্ট নেই। সব চলে গেছে চালকল মালিক, ফড়িয়া, পাইকারি ব্যবসায়ী ও মজুদদারদের হাতে। তাই চালের বাজারও এখন তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা চালের সরবরাহ কমিয়ে দিলে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাবে, এটি অঙ্কের কোনো জটিল হিসাব নয়। এ সুযোগই তারা নিয়েছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মোটা চালের, যার ভোক্তা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। ধান উৎপাদনকারী কৃষক ও কৃষি শ্রমিকও রয়েছে এ শ্রেণির মধ্যে। ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার বেপরোয়া কারসাজি থেকে এই দরিদ্র শ্রেণিকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, ধান-চালের দাম বেশি থাকলে কৃষকরাই লাভবান হয়। তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করার কোনো অবকাশ নেই। তবে তার সঙ্গে একটি সময়ের হিসাব থাকে। কৃষক ধান-চাল বেশি দিন নিজের কাছে ধরে রাখতে পারে না। উৎপাদন ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর পর যা থাকে সংসারের নানা প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে যায়। এরপর ধান-চালের দাম বাড়লেও তাতে কৃষকের কোনো লাভ হয় না, বরং অনেক কৃষককে তখন বাড়তি দামে চাল কিনতে হয়। তাই কৃষককে লাভবান করতে হলে উৎপাদন মৌসুমে ধান-চালের বর্ধিত দাম নিশ্চিত করতে হবে। অথচ হয় তার উল্টোটা। উৎপাদন মৌসুমে দাম কম থাকে। অনেক সময়, কৃষকের উৎপাদন খরচও ওঠে না। আর যখন কৃষকের ঘর থেকে ধান-চাল ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায় তখনই দাম বেড়ে যায় লাফ দিয়ে। বোরো ধান বাজারে আসতে এখনো দুই-আড়াই মাসের মতো বাকি। এই পুরো সময়টাই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালের বাজার অস্থির করে রাখতে চাইবে এবং অযৌক্তিক মুনাফা লুটবে। এ সময়ে বাজারে চালের দাম যেন লাফিয়ে লাফিয়ে না বাড়ে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে আড়তদার-মজুদদারদের গুদামের হিসাব রাখতে হবে। প্রতিদিন কত চাল ঢোকে আর কত চাল বেরোয় তা নজরদারিতে রাখতে হবে। দেখতে হবে, কেউ যেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে বাজারে সংকট সৃষ্টি করতে না পারে এবং অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে না পারে। খোলাবাজারে চাল বিক্রির সরকারি উদ্যোগও বাড়িয়ে দিতে হবে।”

এই ধর্মান্ধতার শেষ কোথায়? শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “সিরিয়া ও ইরাকের ভেতরের অঞ্চলে যখন ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামের কঠোর ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রশাসনিক আস্তানা ওই দুই দেশের সরকারি বাািহনীসহ অন্যান্য মিত্র বাহিনীর আক্রমণে ধসে পড়ছে. তখন উদ্বেগজনকভাবে পাকিস্তানে পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোর ও সিন্ধু প্রদেশের সেহওয়ান শহরে ভয়াবহ দুটি আক্রমণকে সেখানে সন্ত্রাসের নতুন অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে। অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেহওয়ানে একটি সুফি দরগায় আত্মঘাতি বিস্ফোরণের পর। সুফি দরবেশ লাল শাহবাজ কালান্দরের দরগায় ধামাল নামে এক ধর্মীয় জুলুসে জড়ো হয়েছিল অগণিত নারী-পুরুষ-শিশু। পথেমে গ্রেনেড হামলা ও পরমুহূর্তে আদ্মঘাতীর বোমা বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা ১০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত হবে তিন শতাধিক। খুবই করুণ পরিস্থিতির কারণ করাচি থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে দরগাটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই নেই। নিকটস্থ ছোট ছোট শহরের অ্যম্বুলেন্স ও চিকিৎসকদের পাঠানো হয় এবং আহতদের আনতে বিমানবাহিনীকে কাজে লাগাতে হয়। এই নির্মম হামলার শিকাররা শিয়া মুসলিম মতবাদের। হামলার দায় শিকার করেছে আইএস তাদের আমাক সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে। এর মাত্র তিন দিন আগে সোমবার লাহোরে পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের বাইরে একটি মিছিলে আত্মঘাতী হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু ও ৮৭ জন আহত হয় বলে খবর ছিল। এই হামলার দায় শিকার করেছে একটি তালেবান গ্রুপ। আর কালান্দরের দরগায় হামলার দিনই ইরাকের বাগদাদে বোমা হামলায় ৪৮ জন প্রাণ হরায়। এ হামলার দায় শিকার করেছে আইএস। বাগদাদে সামট্রতিক উপর্যুপরি হামলাগুলির অধিকাংশের লক্ষ্য শিয়া সম্প্রদায়। পাকিস্তানে শিয়া-সুনি্ন দ্বন্দ্ব ও প্রাণঘাতি হানাহানি নতুন নয়। বহু শিয়া মসজিদ আক্রান্ত হয়েছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকার সুফি দরগায় নারী-শিশুদের ওপর এমন বীভৎস হামলা ধর্মের নামে যে হিংস্রতার প্রকাশ ঘটায় তার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই ধর্মান্ধতাকে অন্ধ সন্ত্রাস হিসেবে নিয়ে সমূলে এর মূলোৎপাটন ছাড়া আর কোনো পথ নেই।”

একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ও ঋণ পরিশোধ শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “জীবনের চাহিতেও কি স্বর্ণালঙ্কার বা সম্পদ দামি? জীবনই যদি না থাকে, তাহা হইলে এইসব সম্পদের কি কানাকড়ি মূল্য আছে? কিন্তু সামান্য স্বর্ণালঙ্কার বা অর্থের কারণেও মানুষ কতটা নীচে নামিয়া যাইতে পারে তাহা ভাবাও যায় না। এইজন্য কেহ কেহ মানুষকে এমনকি নিষ্পাপ শিশুকেও খুন করিতেও আজ পিছপা হইতেছে না। সমপ্রতি এমনই একটি লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়াছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে। এই শহরের ভবানীপুর-ফতেপুর মহল্লায় ছয় ও সাত বত্সরের দুই শিশু মেহজাবিন আক্তার মালিহা ও সুমাইয়া খাতুন মেঘলা। তাহাদেরকে খাটের বক্সে ঢুকাইয়া শ্বাসরুদ্ধ করিয়া হত্যা করে একজন প্রতিবেশী গৃহীণী লাকি আক্তার। এই হতভাগ্য দুই শিশু ছিল তাহারই মেয়ের সমবয়সী ও খেলার সাথী। তাহাতেও তাহার হূদয়ে কোনো ভাবাবেগ তৈরি হয় নাই। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লাকি আক্তার জানাইয়াছেন যে, তিনি ঐ শিশুদ্বয়ের গায়ে থাকা স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই তাহাদের হত্যা করেন। সব মিলাইয়া ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল বাজারে বিক্রয় করিয়া তিনি পান মাত্র ২১ হাজার টাকা। এই সামান্য অর্থের জন্য দুইটি শিশুর প্রাণবধ করিতে অন্তর কাঁপে নাই আসামির।

উপরোক্ত প্রকৃতির হত্যাকাণ্ড আমাদের দেশে অহরহই ঘটিতেছে। তবে আলোচ্য হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হইয়াছে যাহার সহিত শুধু লোভ নহে, এনজিও সংস্থার ঋণ পরিশোধের বিষয়টিও জড়িত। জানা যায়, আসামি কিছুদিন ধরিয়া একটি এনজিও সংস্থার ঋণ পরিশোধ করিতে পারিতেছিলেন না। স্বর্ণালঙ্কার বিক্রয় হইতে কিছু টাকা দিয়া তিনি সেই ঋণ পরিশোধ করেন। যদিও ইহার বিকল্প পথ ছিল। কিন্তু সেই সময় তাহার কাছে হয়তো মনে হইয়াছিল ইহাই সহজ পথ। কেননা শিশুরা দুর্বল ও অসহায়। আমাদের বক্তব্য হইল, আইন অনুযায়ী খুনের দায়ে খুনির যথোচিত শাস্তি হইবে ইহাই সকলেরই কাম্য। তবে আমাদের দেশে ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের যে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সেই বিষয়টিও এখানে গভীরভাবে ভাবিয়া দেখা দরকার বৈকি। শুধু এনজিও নহে, অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ পরিশোধেও অনেক সময় গ্রাহকের কষ্টের সীমা থাকে না। দেখা যায়, সুদহার কমিয়া গেলেও গ্রাহকগণ সহসা সেই সুবিধা লাভ করিতে পারেন না। এনজিও ঋণ অনেক সময় পদ্ধতিগত কারণেই গলার ফাঁস হইয়া দাঁড়ায়। এক সংস্থার ঋণ পরিশোধ করিতে না পারিয়া অনেকে আরো এক বা একাধিক সংস্থার নিকটও ধরণা দেন। এভাবে ঋণের জালে ও চক্রে আটকাইয়া পড়েন অনেকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণ অনাদায়ের দায়ে গ্রাহকের গৃহপালিত জীব-জন্তু বা ঘরের আসবাবপত্র লইয়া যাইবারও ঘটনা ঘটে। তখন ইহা সামাজিক মান-সম্মান রক্ষার বিষয় হইয়া দাঁড়ায়। কেহ কেহ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ নিয়াও অনেকে বিপাকে পড়েন। পরিস্থিতির কারণেও কেহ কেহ হইয়া পড়েন ঋণখেলাপি।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন