Monday, February 20th, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
February 20th, 2017 at 9:35 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: সরকারি কলেজগুলোর পরিচালনা শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি কলেজগুলোকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, এ প্রক্রিয়ার প্রথম দফায় রাজধানী ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে এই কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী; শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

এটা অংশত আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া। কেননা, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা দেওয়া হয় এমন সরকারি কলেজগুলো একসময় কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই পরিচালিত হতো। তেমন কলেজের সংখ্যা ক্রমে বেড়ে যাওয়ার ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বাড়তি দায়িত্বের চাপ সৃষ্টি হয়। সে চাপ থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখন সেই কলেজগুলোকে আবারও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ পুরোনো। কিন্তু প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। এখন যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর এই বাড়তি দায়িত্ব ফিরে আসছে, তখন স্বাভাবিক প্রত্যাশা যে এর ফলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজেদের ব্যবস্থাপনাই তো যথেষ্ট দক্ষ ও সবল নয়; সেগুলোর ওপর সরকারি কলেজগুলোর ভার বাড়তি বোঝা মনে হতে পারে।”

ঢাকায় ভয়াবহ বায়ুদূষণ শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “বাংলাদেশে শুধু বায়ুদূষণের কারণে বছরে লাখ লাখ মানুষ শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ নানা ধরনের কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া পানিদূষণ, মাটিদূষণ, খাদ্যদূষণসহ অন্যান্য দূষণ তো আছেই। এসবের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে ক্রমেই বড় হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বছরে কয়েক লাখ মানুষ মারা যায় বিভিন্ন দূষণজনিত কারণে। তার পরও কি আমাদের কিংবা আমাদের নীতিনির্ধারকদের ঘুম ভেঙেছে? ঘুম যে ভাঙেনি তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি সংস্থার যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দুই নম্বরে। এক নম্বরে রয়েছে ভারতের দিল্লি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে এক লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। বায়ুদূষণজনিত কারণে শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকেও বাংলাদেশ দুই নম্বরে। এক নম্বরে পাকিস্তান। এর আগে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, বায়ুদূষণজনিত কারণে শুধু ঢাকা মহানগরীতেই বছরে মারা যায় প্রায় ১১ হাজার মানুষ, অসুস্থ হয় কয়েক লাখ। তার পরও বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? বায়ুদূষণের প্রধান দুটি উপাদান হচ্ছে ধুলা ও ধোঁয়া। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে ধুলার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। এর অন্যতম কারণ অবকাঠামো নির্মাণে কোনো নিয়ম-কানুন না মানা। ব্যক্তিগত ভবনই হোক কিংবা ফ্লাইওভার নির্মাণই হোক—সবখানেই চলে যথেচ্ছাচার। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ বিভিন্ন পরিষেবা স্থাপন বা মেরামত কাজের অবস্থা আরো খারাপ। ইট, বালু, সিমেন্টের মতো দূষণকারী নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ও সংরক্ষণের নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও প্রায় কেউই তা মানে না। শুকনো মৌসুমে সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানোর কথা থাকলেও তা করা হয় না। দিনের পর দিন রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়, তার ওপর দিয়েই চলে গাড়ি। গাড়ির চাকায় লেগে ধুলা উড়ে বাতাসে মিশে যায়। একইভাবে ধোঁয়ার উৎসও কম নয়। রাজধানী ঘিরেই রয়েছে অসংখ্য ইটভাটা। ধোঁয়া ঢুকছে শহরে। ফিটনেসহীন পুরনো গাড়ি সমানে ধোঁয়া উদিগরণ করছে। ধোঁয়ায় থাকছে নানা বিষাক্ত পদার্থ। নগরের ভেতরে দূষণকারী কলকারখানার সংখ্যাও কম নয়। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে এমন কারখানার সংখ্যা। আছে গৃহস্থালি বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ ও দূষণ। অথচ দূষণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সরকারের নানা রকম সংস্থা। তাদের কাজ কি শুধু আন্তর্জাতিক গবেষণার ফলাফল অস্বীকার করা? বায়ুদূষণ রোধ ও পরিবেশ উন্নয়নে তাদের কর্মকাণ্ড কোথায়?”

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসুক শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “জার্মানিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা যথার্থ। বস্তুত বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে অবস্থানরত ও মিয়ানমার থেকে দফায় দফায় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন আমাদের সরকারের একার পক্ষে দুঃসাধ্য। অস্বীকার করা যাবে না যে, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা নির্ধারিত কয়েকটি শিবিরে অবস্থানরত নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু মোট শরণার্থীর সংখ্যা তা সিন্ধুর মধ্যে বিন্দুর মতোই। আমরা জানি, খোদ শরণার্থী শিবিরেই ইতিমধ্যে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর তুলনায় বেশ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। শিবিরের বাইরে রয়েছে আরও বেশি। উদ্বেগজনকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যাও জানা নেই। অবশ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে ছয়টি জেলায় গত বছরই রোহিঙ্গা শুমারি শুরু হয়েছিল। বস্তুত প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী এই জনগোষ্ঠীকে নিবন্ধন ও নজরদারির আওতায় আনার বিকল্প ছিল না। সরকার ইতিমধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী পুনর্বাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা জানি, নৃতাত্তি্বক ঘনিষ্ঠতা ও কিছু রাজনৈতিক-সামাজিক আনুকূল্যের কারণে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর মূল স্রোতে রোহিঙ্গারা কীভাবে মিশে যাচ্ছে। একটি দেশের সমাজ, শৃঙ্খলা ও অর্থনীতির জন্য এই চিত্র ভয়ানক হতে বাধ্য। আমরা নিশ্চয়ই নিপীড়িত একটি জনগোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতিশীল; আমরাও চাই মিয়ানমারের সব নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা সহকারে বসবাস করুক; সীমান্তের ওপাশে সহিংসতা নয়, শান্তিই বিরাজমান থাকুক; কিন্তু সেই দায় কাঁধে নেওয়ার সামর্থ্য যে বাংলাদেশের নেই, মনে রাখতে হবে। এ ছাড়া ইতিমধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক সত্য প্রমাণিত যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে একশ্রেণির রাজনৈতিক ও সামন্তগোষ্ঠী তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। উপমহাদেশে তৎপর জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোতেও ভেড়ানো হচ্ছে ঘরছাড়া এই জনগোষ্ঠীর অনেককে।”

মায়েদের উপবৃত্তি ও মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “শিক্ষাকে যদি জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়, তাহা হইলে ইহার প্রধান ভিত্তি হইল প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে সরকার উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করিয়াছে আরো আগেই। এইবার সেই উদ্যোগের মুকুটে আরো একটি পালক যুক্ত হইতে যাইতেছে। জানা গিয়াছে, আগামী পহেলা মার্চ হইতে সরকার দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে অধ্যয়নরত শিশুদের এক কোটি ত্রিশ লক্ষ মাকে উপবৃত্তি প্রদান করিবার উদ্যোগ নিয়াছে। উপবৃত্তির অন্যান্য প্রকল্পের মতো ইহারও উদ্দেশ্য হইল বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির হার বৃদ্ধি, প্রাথমিক শিক্ষাচক্র সমাপন করা, দারিদ্র্যের হার হ্রাসকরণ, শিশুশ্রম বন্ধকরণ, শিক্ষার্থীদের ঝরিয়া পড়া রোধকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং সর্বোপরি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। বিশেষ করিয়া বস্তিবাসী ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের মায়েদের জন্য এই উপবৃত্তি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। কারণ চরম দারিদ্র্যের কারণে বাধ্য হইয়া এই ধরনের ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে ভর্তি হইয়াও পিতামাতার কাজে সহায়তা করে, রিকশা-ভ্যান চালায়, বাস-টেম্পুতে হেলপারের কাজসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত থাকে। উপবৃত্তি পাইবার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রতি মাসে বিদ্যালয়ের মোট কর্মদিবসের ৮৫ শতাংশ উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে। সুতরাং নূতন চালু হওয়া মায়েদের জন্য উপবৃত্তি তাহার শিশুর স্কুলে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করিবে নিঃসন্দেহে। তবে এই ক্ষেত্রে লক্ষ রাখিতে হইবে, উপবৃত্তি লইয়া অতীতে যেসব অনিয়ম হইয়াছে তাহার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন