Wednesday, February 22nd, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
February 22nd, 2017 at 9:57 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: ‘রাজনৈতিক মামলা’ প্রত্যাহার শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “৩৪ হত্যা মামলাসহ নতুন করে ২০৬টি আলোচিত মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগের সিদ্ধান্তে আমরা যারপরনাই উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থার স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো এমনিতেই যথেষ্ট নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সে কারণে সাধারণ জনগণ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছে। ‘আইনের আপন গতি’ বলতে যে কথাটি প্রধানত ক্ষমতাসীনেরা বলতে অভ্যস্ত, তার অন্তঃসারশূন্যতা এবং পলায়নপরতা আমাদের কাছে দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। নিজেদের আমলে দায়ের করা মামলাকে প্রকারান্তরে মিথ্যা হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে প্রত্যাহারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বুমেরাং হতে বাধ্য।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়েরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কোনো উদ্যোগও আমরা দেখি না। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে হত্যা মামলার আসামিদের বিচারের মুখোমুখি না হতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক এবং প্রিন্সিপল অব ন্যাচারাল জাস্টিসের পরিপন্থী। ৩৪টি হত্যাকাণ্ড কে বা কারা করেছে, তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এসব খুন যে ঘটেছে, তা নিয়ে কোনো তর্ক নেই। সুতরাং এসব মামলা কীভাবে কী কারণে প্রত্যাহার করা হবে, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো ‘নিরপরাধ’ ব্যক্তিকে মামলা থেকে মুক্তি দেওয়ার যৌক্তিকতা বোধগম্য, কিন্তু গোটা মামলাই তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। ভুক্তভোগী পরিবারের বিচার চাওয়ার অধিকার খর্ব করার অধিকার কারও নেই।

কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ভাবে কিছু লোককে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত করার মতো অপ্রিয় বাস্তবতা আমরা নিশ্চয় অস্বীকার করি না। এমনকি কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা-কর্মীর ইন্ধনে এমনটা ঘটতেই পারে। কিন্তু তাই বলে ২০৬টি ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করার উদ্যোগ বিস্ময়কর।”

পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি গ্রেপ্তার শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “জঙ্গি তৎপরতা অনেক কমেছে, এটা সত্যি। তার অর্থ এই নয় যে জঙ্গিবাদের হুমকি নাই হয়ে গেছে। জঙ্গিদের সংগঠন রয়েছে, দেশে ও দেশের বাইরে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং তরুণদের বিভ্রান্ত করে দলে ভেড়ানোর অপচেষ্টাও সক্রিয় রয়েছে। এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় গত সোমবার ‘মাস্টারমাইন্ড’ জঙ্গি রেদোয়ানুল হক রানাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রানা এত দিন ধরে আত্মগোপনে ছিল এবং পালিয়ে মালয়েশিয়া চলে গিয়েছিল। মালয়েশিয়ার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠায়। রানা শুধু রাজীব হায়দার হত্যা নয়, বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, প্রকাশক ও লেখক ফয়সল আরেফিন দীপনসহ অন্তত ১১টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি। এসব হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবেও তাকে সন্দেহ করা হয়। এর আগে রানাকে ধরিয়ে দিতে ডিএমপি পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। জানা যায়, তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রানা এবং সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। তাদেরই চেষ্টায় দেশব্যাপী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) বেশ কিছু স্লিপার সেল গড়ে ওঠে। অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রানা এসব স্লিপার সেল পরিচালনা করত। এমনকি মালয়েশিয়ায় বসেও সে এসব সেলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করত। তাই শীর্ষ জঙ্গি রানা গ্রেপ্তার হওয়া অবশ্যই একটি বড় ধরনের অগ্রগতি। পুরস্কার ঘোষিত কিংবা তালিকাভুক্ত শীর্ষ জঙ্গিদের কেউ কেউ এখনো ধরা পড়েনি। তারা প্রতিনিয়ত কত তরুণকে বিভ্রান্ত করছে কে জানে? তাই জঙ্গিদের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।”

কোটা হোক যুক্তিযুক্ত শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “বাংলাদেশে চাকরি, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সংরক্ষণ বা কোটা সুবিধা চালু আছে। এ ছাড়াও জাতীয় সংসদে রয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরেও রয়েছে নারীদের জন্য সংরক্ষণ সুবিধা। এসবের পেছনে রয়েছে আমাদের সংবিধানের নির্দেশনা_ সমাজের পিছিয়ে থাকা অংশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি। ভারত ও পাকিস্তানেও এ ধরনের সুবিধা চালু রয়েছে। সংরক্ষণ বা কোটা প্রথার সুবিধার যৌক্তিকতা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ মত রয়েছে। বিপক্ষের প্রধান যুক্তি_ এভাবে মেধাবীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে পক্ষের প্রধান যুক্তি_ যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ভুল নীতি এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্টি বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীর যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দিতে হলে এর বিকল্প এখন পর্যন্ত নেই। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে নিয়োগ ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ মত রয়েছে। বিশেষভাবে বিষয়টি আলোচনায় আসতে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের জন্য সংরক্ষণ সুবিধা চালুর সরকারি পদক্ষেপে। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বজায় রেখেও কোটা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩৫তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা এবং নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা অপূরণকৃত সংরক্ষিত পদ ৩৬তম বিসিএসের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের শূন্য পদের সঙ্গে যোগ করে পূরণ করা হবে। ৩৬তম বিসিএসের প্রাধিকার কোটা অপূরণকৃত সংরক্ষণের বিধান শিথিল করে এই বিসিএসের মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে কোটার ওই সব পদ পূরণ করা যাবে।”

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “পত্রিকান্তরে প্রকাশিত একটি ছবিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফটকের উল্টা দিকেই মেডিক্যাল বর্জ্যের স্তূপ দেখিয়া যে কাহারো মনেই ভীতি সঞ্চার না হইয়া পারে না। সকল প্রকার বর্জ্যের মধ্যে রাসায়নিক আর মেডিক্যাল বর্জ্য যে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ইহাতো বলার অপেক্ষাই রাখে না। তথাপি, মেডিক্যাল কলেজের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিরূপে এমন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিতে পারে উহা ভাবিতেই অবাক লাগে। অবশ্য এই ধরনের অবহেলা, ঔদাসীন্য ও দায়িত্বহীনতার চিত্র দেশের সর্বত্রই দেখিতে পাওয়া যায়, আমরা আমাদের ব্যক্তি জীবনে কি সামাজিক জীবনে আর কি জাতীয় জীবনে সব ক্ষেত্রেই এই ধরনের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিতে যেন অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। মেডিক্যাল বর্জ্য এইরূপে যত্র-তত্র খোলাস্থানে ফেলিয়া রাখিলে উহা হইতে ভয়াবহ জীবাণু ছড়ায় এবং জনস্বাস্থ্য ভয়ঙ্কর রকমের হুমকির সম্মুখীন হয়। কিন্তু সেই বিষয়টি ভাবিয়া দেখিবার মতো লোকের অভাব সংশ্লিষ্ট বিভাগের হয় কী করিয়া! আমরা বিভিন্ন শিল্প-কারখানার মারাত্মক সব রাসায়নিক বর্জ্য নদী-নালা-বিলে যত্রতত্র ফেলিতে দেখি। ইহার পরিণামে প্রাণী বৈচিত্র্য ধ্বংসপ্রাপ্ত আর পরিবেশ দূষিত হইতেছে। এইসব সমস্যার প্রতি খেয়াল করিবার কোনো তাগিদই যেন আমরা অনুভব করিতেছি না। ইহা কিরূপে সম্ভব? এ কেমন সম্বিত্হারা অবস্থা আমাদের! এসব বিষয়ে যদি আমরা জনগণের মাঝে শৃঙ্খলা এবং সচেতনতা সৃষ্টি করিতে ব্যর্থ হই, তাহা হইলে অদূর ভবিষ্যতে সামগ্রিকভাবে প্রায় সকলেই যে কোনো না কোনোভাবে ইহার করুণ পরিণতির শিকার হইব, তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন