Thursday, February 23rd, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
February 23rd, 2017 at 10:36 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: ইচ্ছাকৃত বিকৃতি শাস্তিযোগ্য হোক শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “অবশেষে মাতৃভাষার বিকৃতির বিষয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে সোচ্চার হতে হলো। অমর একুশের দিনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের অহেতুক বেশি বেশি ইংরেজি শব্দ ঢুকিয়ে বিদেশি ঢঙের উচ্চারণে বাংলাকে বিকৃত করে ‘বাংরেজি’ বলার প্রবণতা বন্ধ করার উপায় বের করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, আঞ্চলিক কথ্যভাষার গুরুত্ব এবং বাংলার সঙ্গে অন্য ভাষাও ভালোভাবে শেখার আবশ্যকতা সম্পর্কে মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। দেশের সকল বিদ্বজ্জন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বাংলা একাডেমি, শিক্ষক ও ছাত্ররা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ত্বরিত সাড়া দেবেন বলে আমরা আশা করি। মাতৃভাষার মর্যাদা বিষয়ে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা তো বটেই, গণমাধ্যম ও জনপরিসরে ভাষা ও উচ্চারণের ইচ্ছাকৃত বিকৃতি শাস্তির বিধানসহ আইন ও নির্দেশনা দিয়ে বন্ধ করার কথাই ভাবতে হবে। ভাষা ভাব প্রকাশের বাহন। বিশ্বে হাজার হাজার ভাষা। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে মাতৃস্তন্য কোনো অনুশীলন ছাড়াই আপনা-আপনি পান করে যেমন জীবন বাঁচে, পুষ্টি হয়, তেমনি একটিমাত্র ভাষা তথা মাতৃভাষায় আপনা-আপনি ভাব বিনিময় হয় এবং প্রাথমিক জ্ঞান অর্জিত হয়। পরে অন্য ভাষা শেখা যায়। মাতৃভাষার ভূমিকা ও মর্যাদা তাই সর্বোচ্চ। তবে ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক উচ্চারণে কথ্য রূপটিই কেবল অনায়াসে আয়ত্ত এবং একই ভাষার সব মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও লেখার জন্য ভাষার প্রমিত রূপ লাগে, যা ব্যাকরণসহ শিখতে হয় যত্ন করে। জ্ঞান হওয়ার পর যারা মাতৃভাষা অবজ্ঞা করে তারা নরাধম। তাদেরকে কবি ‘কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি’ বলে কঠোরতম তিরস্কার করেছেন। রাজনৈতিক-সামাজিক নানা কারণে মাতৃভাষার ওপর আঘাত আসে। উপনিবেশবাদীরা পদানত জাতির ভাষা দলিত করে। মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষারূপে প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব বাংলার বাঙালি বুকের রক্ত দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছে। বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের নয়া ঐতিহ্য আমরাই সৃষ্টি করেছি। কিন্তু প্রদীপের নিচের অন্ধকারের মতো আমাদের দেশে নিজেদের দ্বারাই বাংলা ভাষার নানা রকম অমর্যাদা হচ্ছে।”

সাইকেলে বরযাত্রা শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “‘সাইকেল চালান, পরিবেশ দূষণ কমান’—এটি রাস্তার পাশে কিংবা কোনো ভবনে টানানো ফলকের লেখা নয়। বর নিজে যে সাইকেল চালিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছেন, সেই সাইকেলের সামনে ছোট্ট ব্যানারে লেখা ছিল এই স্লোগান।

প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার খুলনা শহরে সাইকেলযোগেই বরযাত্রীরা বিবাহস্থলে পৌঁছান। নগরের গল্লামারী থেকে বসুপাড়া পর্যন্ত পুরো পথ শেরওয়ানি ও পাগড়ি পরে বর শরিফুল ইসলাম নিজে গাঁদা ফুলে সাজানো একটি সাইকেল চালিয়ে গেছেন। ছবিতে দেখা যায়, বরাযাত্রীদের পরনে ছিল নতুন পোশাক আর পায়ে সাইকেলের প্যাডেল। এ দৃশ্য যাঁরা দেখেছেন, তাঁরাও প্রচুর আনন্দ পেয়েছেন।

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, সাইকেলে বরযাত্রা কেন? অন্য কোনো উদ্দেশ্য নয়। শরিফুল নিজেকে একজন পরিবেশবান্ধব মানুষ মনে করেন বলেই তিনি পরিবেশসম্মত বাহনে চড়ে বিয়ে করতে গেছেন। তাঁর ধারণা, এ থেকে অন্যরাও উৎসাহিত হবেন। পরিবেশবান্ধব বাহন ব্যবহারের পক্ষে তিনি অনেক দিন আগে থেকেই প্রচার চালিয়ে আসছেন। নিজেও সাইকেলে ঘুরেছেন দেশের ৬৪টি জেলা, গিয়েছেন বিদেশেও।”

সেই বাসচালকের যাবজ্জীবন শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, অনেকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ছে। প্রাণঘাতী সব দুর্ঘটনাই শোকাবহ ও বেদনাদায়ক। তার পরও কিছু কিছু দুর্ঘটনা সারা দেশকে নাড়া দিয়ে যায়। শোকে স্তব্ধ করে দেয়। তেমনি একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরে। নিহত হয়েছিলেন বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের দুই কীর্তিমান পুরুষ তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর এবং তাঁদের মাইক্রোবাসে থাকা আরো তিন যাত্রী। বেপরোয়া গতির যে বাসটি তাঁদের মাইক্রোবাসকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল, সেই বাসচালকের শাস্তির দাবিতে মানুষ তখন রাস্তায় নেমে এসেছিল। দীর্ঘ ছয় বছর পর গতকাল বুধবার সেই মামলার রায় হয়েছে। বাসচালক জামির হোসেনকে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে দেশের বাস ও ট্রাকচালকদের সংবিৎ ফিরবে কি? বন্ধ হবে কি সড়কে স্বেচ্ছাচারিতা?”

রাজধানীর যাত্রী ছাউনিগুলির এই দুর্দশা কেন? শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হইয়াছে যে, রাজধানী ঢাকায় প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী ছাউনির মধ্যে বেশিরভাগই এখন রহিয়াছে অবৈধ দখলে। এসব যাত্রী ছাউনিতে বিভিন্ন প্রকার পণ্যসামগ্রীর দোকান বসিয়াছে। অনেক যাত্রী ছাউনি আবার ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অযোগ্য হইয়া পড়িয়াছে। কোথাও কোথাও ছাউনির লোহাগুলি ভাঙিয়া গিয়াছে। অর্থাত্ এমন জীর্ণশীর্ণ হইয়া পড়িয়াছে যাহার নীচে বসিয়া বিশ্রামের কথা চিন্তাই করা যায় না। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনার কারণে যাত্রী ছাউনিতে বসিবার উপযুক্ত পরিবেশ নাই। আবার দেখা যায়, যেখানে যাত্রী ছাউনি একান্ত প্রয়োজন, সেখানে নাই ইহার কোনো অস্তিত্ব। কোথাও কোথাও দিনের বেলা ছাউনিগুলি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহূত হইলেও রাত্রিবেলা তাহা চলিয়া যায় বিভিন্ন অপরাধীর দখলে। ফলে যাত্রী ছাউনি নিয়া মানুষের নানা প্রকার বিড়ম্বনা ও অভিযোগের অন্ত নাই। এভাবে যাত্রীদের জন্য যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হইলেও যাত্রীরা ইহার কোনো সুবিধা ভোগ করিতে পারেন না বলিলেই চলে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন