Friday, February 24th, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
February 24th, 2017 at 10:21 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: বাংলা বানান ও উচ্চারণে সতর্কতা শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা শব্দের বানান ও উচ্চারণ সম্পর্কে অধিক সতর্ক থাকিবার জন্য সকলকে আহ্বান জানাইয়াছেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, প্রথমে মাতৃভাষা শিখিতে হইবে, তাহার পর অন্য ভাষা শিখিতে হইবে। তিনি তরুণ প্রজন্মের অহেতুক ইংরেজিপ্রেম ও বাংলার সহিত ইংরেজির মিশেলে বিচিত্র ভাষায় কথা বলিবার ব্যাপারে তাঁহার উত্কণ্ঠা ব্যক্ত করিয়াছেন। তিনি ভাষার নানান রূপ, এমনকি আঞ্চলিক ভাষারও গুরুত্বের কথা স্বীকার করেন। সাতই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জের বেশকিছু আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করিয়াছিলেন। কিন্তু উহা ছিল অধিকসংখ্যক জনগণের নিকট বার্তা পাঠাইবার উপায়। তবে তিনি মনে করেন, সকলকেই বাংলা ভাষা সঠিকভাবে শিখিতে হইবে। শব্দের বানান যেমন সঠিক জানিতে হইবে, তেমনি উচ্চারণও সঠিক হইতে হইবে।

ভাষার শুদ্ধতা, বিশেষত প্রমিত বাংলার মান আজ সঠিকভাবে রক্ষিত হইতেছে না। টেলিভিশন নাটক, এফএম রেডিও হইতে শুরু করিয়া সামাজিক মাধ্যমে প্রমিত ভাষার ব্যবহার বন্ধ হইবার উপক্রম। ইহাকে অনেকেই ভাষার দূষণ বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন। টেলিভিশন নাটকে সকল চরিত্রই ঢাকাস্থ এক খিচুড়িরূপ কথ্য ভাষায় কথা বলিয়া থাকে। অন্যদিকে এফএম রেডিওর উপস্থাপকরা ইংরেজির মিশেলে এবং ইংরেজির ন্যায় উচ্চারণে বাংলা বলিয়া থাকেন। সামাজিক মাধ্যমেও যে যেমন খুশি কথ্য-আঞ্চলিক-মিশ্রিত ভাষায় লিখিয়া থাকেন। ফলে কমবয়সী যাহারা ভাষাশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় রহিয়াছে, তাহারা বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছে না কোনটি প্রমিত ভাষা। তাহাদের পক্ষে নির্ধারণ করা কঠিন হইয়া উঠিয়াছে কোন উচ্চারণটি সঠিক আর কোনটি ভুল বা বিকৃত? অন্যদিকে বানানবিধিতে আসিয়াছে নানান পরিবর্তন। এই ক্ষেত্রেও সমন্বয়ের অভাব প্রকট। তাই ভাষা লইয়া আমরা বেশ গোলমালের মধ্যে রহিয়াছি। অথচ এমনটি হইবার কথা ছিল না। কারণ আমাদের রহিয়াছে একুশের ঐতিহ্য, ভাষার মর্যাদাকে সমুন্নত রাখিতে আমাদের তরুণেরা প্রাণ দিয়াছিল ১৯৫২ সালে। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত আমরা ভাষায় শৃঙ্খলা আনিতে পারি নাই। ক্ষেত্রবিশেষে দিন দিন বরং বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাইতেছে।”

তারেক-মুনীরের প্রাণহানির মামলার রায় শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর বাসের ধাক্কায় চলচ্চিত্রব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির মামলার রায় এল। চালকের অবহেলার কারণে মানুষের মৃত্যুর অপরাধের বিচারে এই রায় এক মাইলফলক। আদালত বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর দায়ে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর এবং তাঁদের সঙ্গীদের এ ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল তাঁদের স্বজনদের জীবনেই শূন্যতা আনেনি, তা আমাদের চলচ্চিত্র জগতেরও অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছে। আর এর সবটাই ঘটেছে কিছু মানুষের অবহেলার কারণে। তদন্তে বেপরোয়া গতি, মেয়াদোত্তীর্ণ চালক লাইসেন্স, ফিটনেস সনদবিহীন বাস ও গতি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অকেজো করে রাখার বিষয় প্রমাণিত হয়েছে। অবহেলা ও বেপরোয়া গতির জন্য চালক সরাসরি দায়ী। কিন্তু ফিটনেস সনদবিহীন বাস, অকেজো গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসংবলিত গাড়ি ও লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া চালক নিয়োগের জন্য তো দায়ী বাস কোম্পানির মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। রায়ের ভাষ্য থেকেও আমরা জানতে পারি, ‘চালক ওই দিন রাত চারটায় বাস নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসেন। ঢাকা থেকে কোনো বিরতি না দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় একই বাসে যাত্রী নিয়ে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে আবার রওনা দেন। রাত জাগা ও পরিশ্রমের ফলে আসামির ভেতর গা-ছাড়া বা অবহেলার ভাব আসা বিচিত্র নয়।’ এখন প্রশ্ন হলো, যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ বাস রাস্তায় ছাড়া, অবৈধ চালককে তা চালানোর ভার দেওয়া এবং সেই চালককে দিয়ে দিন-রাত একটানা অমানুষিক অবস্থায় দূরযাত্রা করানো কি অপরাধ নয়?”

রেল কাঠামোর পুনর্বিন্যাস শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “প্রধানমন্ত্রীর প্রাধিকারভুক্ত সেবা সংস্থা হিসেবে রেলওয়েকে আধুনিক মানের করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলস্টেশন ও রেলপথ খুলে দেওয়া হচ্ছে। পুরনো বগি সরিয়ে নতুন বগি সংযোজিত হয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময়সূচি ঠিক রাখার চেষ্টা হচ্ছে। রেলসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। একসময় রেলওয়ে ছিল যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশ রেলওয়ের গৌরব অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায় নানামুখী ষড়যন্ত্রে। লোকসানের অজুহাতে অনেক রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাতছাড়া হয়ে যায় রেলওয়ের অনেক সম্পত্তি। বর্তমান সরকার রেলওয়েকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনায় নতুন মন্ত্রণালয় গঠন করলে কিছুটা হলেও গতি আসে। এই সেবা খাতে সবচেয়ে বড় সংকট ছিল আস্থার। ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। পুরনো রেলপথে নতুন করে ট্রেন চলতে শুরু করলে এবং যাত্রীরা প্রযোজনীয় সেবা পেলে রেলের সুদিন আবার ফিরবে—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।”

সড়কে শৃঙ্খলা আসুক শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “গুণী সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও প্রতিভাবান চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদসহ পাঁচজনের মৃত্যু ঘটানো বিধ্বংসী সড়ক দুর্ঘটনা মামলায় মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আল-মাহমুদ ফাইজুল কবীরের দেওয়া রায়টি বিভিন্ন মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। শুধু একটি অপরাধের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের কষ্ট উপশমের মধ্যেই রায়ের তাৎপর্য সীমাবদ্ধ নয়। বুধবার দেওয়া রায়টির বার্তা পরিবহন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সব মহল উপলব্ধি করলে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল কমিয়ে আনা গেলেই এর সার্থকতা বেশি প্রতিপন্ন হবে। মামলার একমাত্র আসামি ঘাতক বাসটির চালককে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অন্য কিছু মেয়াদি সাজা দিয়েছেন। দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু ও পঙ্গু হয়ে পড়া নিত্যদিনের দুর্বিপাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা যায়, বছরে গড়ে কমবেশি সাত হাজার মৃত্যু হচ্ছে। আহত সহজেই অনুমেয়। এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ নির্বিকারভাবে ট্রাফিক আইন অমান্য ও মানুষের প্রাণের মূল্যকে অবজ্ঞা করে বেপরোয়া গাড়ি চালানো। প্রধানত চালকরা ও অংশত পরিবহন খাতের মালিক ও নেতারা দায়ী। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারীদের দুর্নীতিও দায়ী। এত মৃত্যু সত্ত্বেও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যথেষ্ট মনোযোগী হয়নি। মামলা ও বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চালক ও পরিবহন খাতের অন্যদের সংঘবদ্ধ ও মারমুখী হয়ে বাধা সৃষ্টি করতে দেখা যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য এই প্রথম সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান মামলাটিকে ঐতিহাসিক করে তুলেছে। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট বৃষ্টিমুখর ঝড়ো হাওয়ার পরিবেশে মানিকগঞ্জ জেলায় ঢাকা-আরিচা সড়কে ওই দুর্ঘটনায় মিশুক ও তারেক ছাড়া তাদের গাড়ির চালক মোস্তাফিজুর রহমান এবং তাদের চলচ্চিত্র ইউনিটের প্রডাকশন সহকারী ওয়াসিম হোসেন ও জামাল হোসেন নিহত হন। আহত হয়েছিলেন শিল্পী ঢালি আল মামুন, তার স্ত্রী শিল্পী দিলরুবা বেগম জলি ও তারেকের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ। তারা মাইক্রোবাস নিয়ে তাদের একটি নির্মিতব্য সিনেমার লোকেশন দেখে ঢাকায় ফিরছিলেন। আর ডিলাক্স পরিবহনের ঘাতক বাসটি ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গা যাচ্ছিল। সারাদেশের মানুষ বিষাদে ডুবে গিয়েছিল এ জন্য যে, এই দুর্ঘটনাটিতে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন হলো।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন