Monday, February 27th, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
February 27th, 2017 at 9:43 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: স্বার্থ-সমন্বয় হোক মূলমন্ত্র শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “পোশাক শিল্প আমাদের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম রক্তসঞ্চালক ধমনি। সামগ্রিকভাবে কৃষি খাতের পরে একক শিল্প খাত হিসেবে তৈরি পোশাক বা গার্মেন্ট খাত সবচেয়ে বড়। দেশের শীর্ষ রফতানি খাত, যা বছরে আড়াই হাজার কোটি ডলারের বেশি বা দুই লাখ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আনছে। মোট বৈদেশিক মুদ্রার ৮১ শতাংশ। তৈরি পোশাকের রফতানি বাজারে বিশ্বে চীনের পরেই একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় বৃহত্তম জোগানদাতা আমরা। দেশে ৪০ লাখের বেশি মানুষ এ খাতে কাজ করে, যার অধিকাংশ নারী। বহু ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে এগিয়েছে গার্মেন্ট খাত। শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মাল্টি ফাইবার এগ্রিমেন্টের ধকল এবং অতিসম্প্রতি দেশে রানা প্লাজা ধস বিপর্যয় মোকাবেলা করে টিকে থেকেছে ও এগিয়ে গেছে এই খাত। বেসরকারি উদ্যোক্তা ও শ্রমিক শ্রেণি এ লড়াইয়ের বীর। সরকার সহায়ক। তবে একই সঙ্গে এই খাতের রয়েছে অনেক সমস্যা এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ। বিন্দুমাত্র শৈথিল্য ও ভুল আনতে পারে পতন। ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ভারত ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে। ব্রেক্সিট ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুনিয়ায় সমস্যা ও সম্ভাবনা দুই-ই আছে, যা বুঝে এগোতে হবে। শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তাসহ আন্তর্জাতিক মানে কমপ্লায়েন্স, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার থেকে শুরু করে সরবরাহ চেইন এবং বিদেশি ক্রেতার কাছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম বৃদ্ধি পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ বিস্তৃত। মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর উদ্যোগে শুক্রবার দেশে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ঢাকা অ্যাপারেল সামিটে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন। উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পণ্য ও ডিজাইনে বৈচিত্র্য এনে যে নতুন বাজার খুঁজতে বলেছেন তা খুবই যথার্থ। তিনি এই খাতের উন্নয়নে সরকারি সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে বিনিয়োগকারীদেরও অবকাঠামোতে অংশ নিতে আহ্বান জানান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল না করায় পরিহাসছলেও প্রধানমন্ত্রী যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তা অসঙ্গত নয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পোশাকের দাম বাড়াতে অস্বীকৃতির জন্য বিদেশি ক্রেতাদের সমালোচনা করেন। মালিকরা সরকারের ধারাবাহিক সুস্থিত নীতি চান। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০ ডলারের একটি শার্টে শ্রমিক পায় মাত্র ৭০ সেন্ট। শ্রমিকদের সম্মানজনক মজুরি ছাড়া উৎপাদনের মানোন্নয়ন হতে পারে না। আমরা সরকার, মালিক, শ্রমিক ও বিদেশি ক্রেতা_ সবার প্রতি আহ্বান জানাই স্বার্থের দ্বন্দ্ব কমিয়ে শিল্প ও মানুষের কল্যাণে স্বার্থ-সমন্বয় ঘটাতে। এটাই সর্বোৎকৃষ্ট পথ।”

চাঁদাবাজি জবরদখল হত্যা শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “সারা দেশের পরিবহন খাতে ব্যাপক চাঁদাবাজি একটা স্থায়ী ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠেছে—এ কথা কারও অজানা নয়। তাই এসব চাঁদাবাজির খবর সংবাদমাধ্যমে আজকাল কম দেখা যায়। সংবাদ সৃষ্টি হয় কেবল তখনই, যখন চাঁদাবাজি নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মহলের মধ্যে বিরোধ-বিবাদ-সংঘাত বেধে যায়। অথবা কোনো মহল সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

গত শনিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের নেতারা সংবাদ সম্মেলন ডেকে অভিযোগ করেছেন, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কজন কেন্দ্রীয় নেতার নেতৃত্বে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল থেকে মাসে ১২ কোটি টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চাঁদাবাজে নেতৃত্বদানকারী ওই ব্যক্তিরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অবশ্য ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

খোদ আওয়ামী লীগের প্রবল সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে এই বিপুল চাঁদাবাজি চলছে—এ অভিযোগ থেকে বেশ কৌতুকপূর্ণ একটা বিষয়ের আভাস মেলে। দেশবাসী দেখে আসছে, ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর ভেতরের কোন্দলে বিভিন্ন গ্রুপ পরস্পরকে ঘায়েল করতে পরস্পরের গায়ে বিএনপি-জামায়াতের তকমা লাগানোর চেষ্টা করে। আসলে মাসে ১২ কোটি টাকা চাঁদাবাজি ক্ষমতাসীনদের সহযোগিতা-পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া চলতে পারে—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী সড়ক পরিবহন শ্রমিকের অভিভাবক হিসেবে খ্যাতিমান। তিনি কী করছেন? তা ছাড়া, এ দেশে আইনকানুন বলে কিছুরই অবশিষ্ট নেই? সরকার, প্রশাসন, পুলিশ—কিছুই কি নেই?”

পোশাকশিল্পের উন্নয়ন শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে একটি ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। বছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। ২০২১ সাল নাগাদ রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে ৪০ লাখ শ্রমিক এই শিল্পে কাজ করছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। পরোক্ষভাবে আরো বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান করছে এই শিল্প। নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে কয়েক কোটি মানুষ। সংগত কারণেই পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিও হয়ে উঠেছে। এই শিল্পের সুরক্ষা এবং এর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শনিবার দ্বিতীয় ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই আশ্বাসই দিয়েছেন উদ্যোক্তাদের। তিনি বলেছেন, পোশাকশিল্পের উন্নয়নে সরকার স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। শিল্পমালিকদেরও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। পণ্যের বহুমুখীকরণ, মান উন্নয়ন ও নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। সরকার সর্বতোভাবে তাঁদের সহযোগিতা করবে। আমরাও মনে করি, মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায়ই বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দ্রুত এগিয়ে যাবে।”

নীতি ও আদর্শনিষ্ঠার কোনো বিকল্প নাই শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির হাল-হকিকত লইয়া বিভিন্ন মহলে প্রায়শই খানিক ক্ষোভ-হতাশা-সমালোচনা ইত্যাদি শোনা যায়। তাহাদের কেহ কেহ আবার দেশের যে-কোনো প্রকারের সংকট বা সমস্যার জন্য একতরফাভাবে রাজনীতিকদের উপরই দোষ চাপাইয়া আত্মতৃপ্তি লাভ করিয়া থাকেন। ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’-মার্কা এই ধরনের মূল্যায়ন যে অনেকাংশে ক্ষোভসঞ্জাত ও অজ্ঞতাপ্রসূত, তাহা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে রাজনীতিকরাই যেহেতু ড্রাইভিং সিটে থাকেন, সেহেতু তাহাদেরকে কিছু দায় বহন করিতে হয় বৈকি! স্বাধীন দেশের রাজনীতি আর ঔপনিবেশিক বা পরাধীন আমলের রাজনীতি এক নহে ইহা যেমন সত্য, তেমনি আবার ইহাও মিথ্যা নহে যে, ঔপনিবেশিক আমলের আইন-কানুন দ্বারা স্বাধীন দেশ পরিচালনা করাও সহজসাধ্য নহে। সকলে মিলিয়া দেশের কল্যাণ করিতে চাহিলে দেশ কোনো অবস্থাতেই পিছনে পড়িয়া থাকিতে পারে না। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে আমরা যে অবস্থানে ছিলাম, সে অবস্থান হইতে অনেক অনেক দূর যে অগ্রসর হইয়াছি—সে কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এই অগ্রসরমানতার পশ্চাতে রাজনীতিকদের অবদানকে খাটো করিয়া দেখার কোনো অবকাশ নাই।

ইহার পাশাপাশি এ কথাও বলিতে হইবে যে, আজিকার রাজনীতির ক্ষেত্রে নীতি-আদর্শের পরিচর্যা ও সেবার মনোবৃত্তির বিষয়টি অনেকটা নিষ্প্রভ ও ম্রিয়মাণ হইয়া পড়িয়াছে। এই কথাটিই আমরা গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতার মুখে উচ্চারিত হইতে শুনিলাম। অর্থাত্, এই বাস্তবতাকে আজ দেশের সর্ববৃহত্ দলের নেতারাও স্বীকার না করিয়া পারিতেছেন না। তিনি বলিয়াছেন যে, দলে অর্থের দাপটে ‘ত্যাগীরা কোণঠাসা’ হইয়া পড়িতেছে আর তাই ভালো মানুষদের রাজনীতিতে থাকাটা কঠিন। এই কথার মধ্য দিয়া বর্তমান রাজনীতির একটি হতাশাব্যঞ্জক চিত্রই যে ফুটিয়া ওঠে ইহাতে সন্দেহ কী! রাজনীতি তো দেশ ও দশের সেবার বিষয়; আর সেজন্য কর্মীদের মধ্যে নীতি ও আদর্শনিষ্ঠার কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু উহার পরিবর্তে ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতায় থাকাই যদি একমাত্র লক্ষ্য হয় এবং সেজন্য অর্থ-বিত্তকেই মুখ্য করিয়া তোলা হয়, তাহা হইলে রাজনীতির চরিত্র হননই করা হয় মাত্র। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বলিতেন, ‘রাজনীতি হইতেছে ক্ষমতায় যাইবার উপায়; ক্ষমতায় যাইবার উদ্দেশ্য নহে।’ জনগণের জন্য কাজ করিলে ক্ষমতায় যাইবার পথ নির্বিঘ্ন ও নিষ্কণ্টক হয় আর আত্মস্বার্থ চরিতার্থই যখন উদ্দেশ্য হইয়া পড়ে তখনই দেখা দেয় নানান বিপত্তি।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন