Wednesday, March 1st, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
March 1st, 2017 at 8:54 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “সরকার ও সংসদ আরেকবার প্রমাণ করল যে তাদের কাছে অংশীজনের মতামতের মূল্য নেই। সব জল্পনাকল্পনা ও প্রতিবাদ-উদ্বেগ অগ্রাহ্য করে ‘বিশেষ সুযোগ’ রেখেই বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ পাস হলো। রাষ্ট্রের দুটি অঙ্গ (নির্বাহী ও আইন সভা) দেখিয়ে দিল যে ভিন্নমত ও যুক্তি অগ্রাহ্য করে চলতে তাদের কোনোভাবেই বাধে না। ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনসহ শীর্ষস্থানীয় নারী সংগঠনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সরকারকে যা করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে, সরকার ঠিক সেই ক্ষতিকর কাজটাই করেছে। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকেও কিন্তু এ বিষয়ে খুব তৎপর দেখা যায়নি।

সংসদের বিরোধী দল যথার্থই ভোটার হতে সংবিধানে নির্দেশিত প্রাপ্তবয়স্কের বয়সসীমা যেখানে ১৮ বছর রয়েছে, তার সঙ্গে নতুন আইন যে সংঘাত তৈরি করেছে, সেদিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। অবশ্য এ-সংক্রান্ত বিষয়ে সোচ্চার নারীনেত্রীরা বিস্মিত হননি। তাঁরা আগেই বলেছিলেন, সরকার তাঁদের দাবি উপেক্ষা করলে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হবেন। কোনো সন্দেহ নেই যে সদ্য পাস করা বিলের সাংবিধানিক বৈধতা অবশ্যই আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য।”

নিম্নমানের ওষুধ তৈরি ও বিপণন শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “ওষুধ যেমন জীবন বাঁচায়, মান-পরিমাণ ঠিক না হলে সেই ওষুধ প্রাণ কেড়েও নেয়। রোগীর কাছে চিকিৎসক, নার্সসহ ওষুধসংশ্লিষ্ট সবার দায়বদ্ধতা এখানেই। মানুষের জীবন-মরণ যেখানে জড়িত, এর সঙ্গে কোনো আপস চলে না। সংসদীয় কমিটির সুপারিশে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যে প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ উৎপাদনের সনদই বাতিল করে দিয়েছিল, তাদেরই ওষুধ কিনেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। অর্থ ও ওষুধের পরিমাণও কম নয়। ৪৬ লাখ ভায়াল, দাম ১৮ কোটি টাকা। সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ফলাও করে পত্রপত্রিকায় এসেছে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা অধিপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখে পড়েনি, কানে যায়নি? এতে জনগণের অর্থের অপচয় হলো, তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলা হলো। প্রশ্ন হচ্ছে, কার স্বার্থে?

ওষুধ কেনার সঙ্গে জড়িত পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ব্যাপারে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত কম্পানি টেকনো ড্রাগসের এতটাই হিম্মত, নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় এবং ক্ষতিকর ওষুধই বিতরণ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সরকারি-বেসরকারি দুই মহলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিকর বলে সাব্যস্ত যেসব ওষুধ মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করাও জরুরি। ব্যবহার করলেই যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।”

জঙ্গি অপশক্তি রুখতেই হবে শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “রংপুরের শহরতলিতে জাপানি নাগরিক কোনিও হোশিকে হত্যার পর কম সময়ে সন্ত্রাসীদের ধরে বিচার সম্পন্ন করার মধ্যে আমাদের আইন প্রয়োগ ও বিচারের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার মঙ্গলবার রায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ধর্মান্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) রংপুর আঞ্চলিক কমান্ডারসহ পাঁচ সদস্যের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মামলাটিকে দেশে দ্রুততম সময়ে খুনের বিচারের দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেছেন। মামলাটিতে পুলিশের তদন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ হত্যায় জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করতে পেরেছে। কোনিও হোশি বাংলাদেশে পরিবারহীন একা বসবাস করে গ্রামে উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদনের খামার করেছিলেন। জঙ্গিরা মোটরসাইকেলযোগে এসে গুলি করে তাকে হত্যা করে। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে স্বীকৃত হওয়ায় রংপুরে কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে; জাপানি দূতাবাস অবহিত ছিল। হোশি খুন হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে ঢাকায় গুলশান কূটনৈতিক এলাকায় সিজার তাভেলা নামের একজন ইতালীয় উন্নয়নকর্মী একইভাবে গুলিতে নিহত হন। এতে আন্তর্জাতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। একুশ শতকের সূচনায় ধর্মের নামে মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতির ওপরে আক্রমণ শুরু হয় উদীচী সম্মেলন ও ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা মেরে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে। ২০০৪ সালে অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ খুন হন এবং ২০১৩ সাল থেকে ধর্মান্ধ জঙ্গিদের হাতে ধারাবাহিকভাবে লেখক, অধ্যাপক, প্রকাশক, হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ ও মুসলিম শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তি, বিদেশি নাগরিককে নিশানা (টার্গেট) করে হত্যা করা হয়েছে। অধিকাংশ হত্যার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসী গ্রুপ ইসলামিক স্টেট এবং দেশে জেএমবি ও আনসারুল্লাহ নামের গ্রুপ।”

আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজিতে হইবে শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “সড়ক দুর্ঘটনায় একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও একটি নিউজ চ্যানেলের প্রধান নির্বাহীসহ পাঁচজন নিহতের মামলায় অভিযুক্ত বাসচালককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। ইহার পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এই ধর্মঘট প্রত্যাহারে যখন প্রশাসনের সহিত আলোচনা চলিতেছিল, তখন খবর আসে যে, সাভারে সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি মামলায় ঢাকার একটি আদালত একজন ট্রাকচালককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করিয়াছেন। ইহার প্রতিক্রিয়ায় মালিক-শ্রমিকরা দেশব্যাপী ধর্মঘট ডাকেন। গতকালের শেষ খবর অনুযায়ী এই সর্বাত্মক ধর্মঘটের প্রভাব রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র পড়িতে শুরু করিয়াছে। ইহাতে চরম দুর্ভোগে পড়িয়াছেন জনগণ। দৃশ্যত আদালতের রায়কে কেন্দ্র করিয়া পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসন মুখোমুখি অবস্থানে উপনীত হইয়াছেন। সামপ্রতিক কালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন যে হারে মানুষ হতাহত হইতেছেন, তাহাতে জনগণ শেষ বিচারে গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা সর্বোচ্চ শাস্তি চান। আবার শাস্তি পাওয়ার অবস্থা হইলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা একাট্টা হইয়া ধর্মঘট ডাকেন যেই ধর্মঘটে জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়া যায়। এখন এই উভয় সংকটের সমাধান কোথায়?”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন