Friday, February 17th, 2017
আজকের সম্পাদাকীয়
February 17th, 2017 at 10:28 am
আজকের সম্পাদাকীয়

ডেস্ক: গর্ব ও মর্যাদার পদ্মা সেতু শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়মের ষড়যন্ত্র চলছে- এমন অভিযোগ এসেছিল বিশ্বব্যাংকের তরফ থেকেই। কিন্তু শুরুতেই বিপত্তি। সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হতে পারে- এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করলেও জনমনে এমন একটি ধারণা গেঁথে যায়- যা রটে তার কিছু তো বটে। এ যেন ‘কান নিয়ে গেছে চিলে’ অবস্থা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, মন্ত্রীর পদ থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনকে সরিয়ে দিলেও বিশ্বব্যাংক তুষ্ট হয়নি। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। সরকারবিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে বলা হতে থাকে, ‘প্রমাণ হয়ে গেল যে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ সঠিক।’ এটাও বলা হয়, মন্ত্রী আগে পদত্যাগ করলে বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার ঋণ প্রদানের অঙ্গীকার বাতিল এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও অন্য দাতারা সরে দাঁড়াত না। অনেকেই এ ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ও সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ করতে থাকেন। দুর্নীতি দমন কমিশন এ বিষয়ে তদন্ত করে দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি বলে অভিমত দিলে তারও সমালোচনা হতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’। কানাডার আদালত ব্যাপক অনুসন্ধান শেষে জানিয়ে দেন, মামলাটি ভিত্তিহীন এবং গুজব ও গালগল্পে ভরপুর। এ রায়ে প্রমাণ হয়ে গেল- বিশ্বব্যাংক ভুল পথে চলেছিল। কিন্তু তাদের ঋণ প্রদান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি ও সম্মানহানি ঘটেছে, তার ক্ষতিপূরণ কীভাবে সম্ভব? প্রকল্পটিও অন্তত দুই বছর পিছিয়ে গেল। আর দেশের মধ্যে যারা বিশ্বব্যাংকের অন্যায় অভিযোগের সুরে সুর মিলিয়েছেন, তাদের সম্পর্কেই-বা কী বলা যায়?”

বিনা বিচারে ২৫ বছর শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “যে অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ১০ বছর কারাদণ্ড, সেখানে তাঁকে কারাপ্রকোষ্ঠে বিনা বিচারে কাটাতে হলো ২৫ বছর। এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের হৃদয়স্পর্শী ঘটনা বিরল নয় এবং তা নির্দেশ করে যে আমাদের ফৌজদারি বিচার ও কারাব্যবস্থার ব্যাপকভিত্তিক সংস্কারকাজে জরুরি ভিত্তিতে হাত দিতে হবে।

১৯৯২ সালে গ্রেপ্তার হওয়া মো. বাবুলের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় ২০১৭ সালে বেকসুর খালাসের যে বিবরণ পত্রিকান্তরে এসেছে, সেটুকুই যদি এই মামলার অগ্রগতি হয়ে থাকে, তাহলে আমরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত। বাবুল তো ন্যায়বিচার পেলেন না। রাষ্ট্রও হয়তো তাঁকে ক্ষতিপূরণও দেবে না। দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।

বিচার শুরুর ২৪ বছরে মামলার ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৪ জন সাক্ষী আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। এই বিবরণে মনে হবে সাক্ষী হাজির করার দায়দায়িত্ব নিরঙ্কুশভাবে পুলিশ বিভাগের। আইন বলছে, সাক্ষী হাজির করার দায়দায়িত্ব আদালতের। এমনকি কোনো সাক্ষীর হাজিরাজনিত ব্যর্থতার কারণে তাঁকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানে আদালতের হাত লম্বা রেখেছে আইন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তার তেমন কোনো প্রয়োগ নেই।

হতভাগ্য বাবুলের ডাকাতি মামলার বাদী কিংবা তদন্ত কর্মকর্তা কখনো আদালতে হাজির হননি। অথচ এটা জানা গেল না যে আদালত এ জন্য কাউকে শাস্তি দিয়েছেন কি না। ইচ্ছাকৃতভাবে যে সাক্ষীরা আদালতের আদেশ অমান্য করেন, তাঁদের কঠোর শাস্তি প্রাপ্য। আমরা এটা দেখতে চাই যে আদালত চিহ্নিত সাক্ষীদের জরিমানা করেছেন।”

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা কোথায়? শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “ফুটপাতের হকার উচ্ছেদের ফলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা যানজটমুক্ত এবং জনসাধারণের স্বস্তিকর চলাচলের উপযোগী হইয়াছে। রাজধানী শহরে এই দৃশ্যই কাম্য বটে; তথাপি গরিব নিরুপায় হকাররা যে ইহাতে ভীষণ সংকটে পড়িয়াছে ইহাতে সন্দেহ কী। গ্রাম-গ্রামান্তর হইতে আসা এই গরিব লোকেরা রাজধানী ঢাকায় এইটা-সেইটা বিক্রি করিয়া সংসারযাত্রা নির্বাহ করিতেছিল কিন্তু এখন তাহারা দারুন দুরবস্থায় নিপতিত। আর এই কারণে তাহাদের প্রতি খানিক সহানুভূতি দেখানোটা ঘটনার মানবিক দিক বিবেচনায় সঙ্গত বৈকি। কিন্তু ইহা যেমন সত্য তদ্রূপ আবার রাজধানীর কৌলিন্য বজায় রাখা এবং রাজধানীবাসীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাটাও কর্তৃপক্ষের কর্তব্য বিধায় পরিকল্পনাহীনভাবে গড়িয়া ওঠা হকারদের ফুটপাত বাণিজ্য বন্ধ করাটাও অসঙ্গত নহে। বরং ইহাও অতীব জরুরি। বিষয়টি অনেকটা শাঁখের করাতের মতো। তবে গরিব হকারদের জীবনধারণের এই অবৈধ প্রয়াসের অন্তরালে যে অপশক্তি সক্রিয় থাকে বা রহিয়াছে তাহারাই এই ক্ষেত্রে যত অনিষ্টের মূল। তাই এই অর্থলোভী ও সুবিধাবাদী অপশক্তিকে দমন করাটা জরুরি। ইহা স্বয়ং সংশ্লিষ্ট মেয়রও জানেন এবং বোঝেন। তাই তিনি যখন বলেন যে, রাজনৈতিক নেতা নামধারী কিছু চাঁদাবাজ ও সংশ্লিষ্ট থানার কিছু পুলিশ সদস্য ফুটপাতের চাঁদার ভাগ নেন এবং তাহাদের নির্ধারিত লাইনম্যানরা মাঠ পর্যায় হইতে চাঁদা আদায় করেন—তখন বিষয়টি অতি পরিষ্কার হইয়া যায় যে, তিনি ফুটপাতের চাঁদাবাজি সম্পর্কে শুধু নহে কে বা কাহারা ইহার ফায়দাভোগী উহাও বিলক্ষণ জানেন। আর তাই যদি হয়, তাহা হইলে—এইসব চাঁদাবাজ ও পরজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধাটি কোথায়?”

নতুন ইসির যাত্রা শুরু শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “কাজ শুরু করেছে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারা ঘোষণা দিয়েছে, কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার। অতীতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই তারাও আশা করে, বর্তমান ইসি সেসবের ঊর্ধ্বে উঠে আগামী পাঁচ বছর দেশবাসীকে পরিচ্ছন্ন নির্বাচন উপহার দেবে। নির্বাচন কমিশন, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) নিয়ে শুরুতে আপত্তি জানালেও বিএনপি নেতারা এখন বলছেন, তাঁরা স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নেবেন এবং নতুন ইসির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন; তার পরই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁরা অংশ নেবেন কি না। সেদিক থেকে বলা যায়, বর্তমান ইসি সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এখন ইসিকে তাদের কাজকর্মের মাধ্যমে জনগণের আস্থার সেই জায়গাটি ধরে রাখতে হবে এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করতে হবে।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ

বিএফইউজের নতুন সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ


ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান

ফের আসছে দৈনিক বাংলা, সম্পাদক তোয়াব খান


‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’

‘অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আদালতকে জানানো হবে’


ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ

ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ


অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন

অনলাইন নিউজপোর্টাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ওএনএবি) গঠন


অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে

অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক তানু, ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন