Thursday, May 3rd, 2018
আত্মপ্রবঞ্চনা নয় বরং আত্মসমালোচনা
May 3rd, 2018 at 11:34 pm
আত্মপ্রবঞ্চনা নয় বরং আত্মসমালোচনা

মাসকাওয়াথ আহসান: বৃটিশেরা রেলপথ স্থাপন করেছিলো জন্যই উপমহাদেশে রেলগাড়ি চলে। নইলে গাধা-গরুর গাড়ি থেকে বড় জোর বাসের প্রচলন হতো এখানে।

উপমহাদেশের মুসলমান শাসকরা যখন হারেম নির্মাণে ব্যস্ত; তখন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় গড়ছিলো বৃটিশেরা; সেই ধারাবাহিকতায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নইলে মাদ্রাসা-মক্তবের বেশি এগুতো না উপমহাদেশ। হিন্দু রাজারাও ছিলো বিলাসী; উন্নাসিক; ফলে হিন্দুদের শিক্ষা-ব্যবস্থাও ধর্মীয় শিক্ষাকে ঘিরে আবর্তিত হতো বৃটিশরা না এলে। দক্ষিণ এশিয়ায় বৃটিশেরা উপনিবেশ গড়তে পারেনি আফঘানিস্তানে; সে দেশটাকেই দেখলেই বৃটিশরা না এলে উপমহাদেশের কী হাল হতো বোঝা যায়।

ভারতবর্ষের কিছু ছেলে লণ্ডনে গিয়ে শিক্ষিত হয়ে ফিরে এসে তাদের মনে হয়; তারা নিজেরাই কেন “রাজা” হবে না। সুতরাং শুরু হয়, দেশপ্রেমের নামে রাজনীতিকে আজকের এ জায়গায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি। এ সময় ইগোর লড়াই শুরু হয় কথিত উচ্চবর্ণের হিন্দু ও কথিত অভিজাত মুসলমানদের মাঝে। হিন্দু-মুসলমান প্রান্তিক মানুষ; যারা মিলেমিশে থাকতো; তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার কাজটি তারা করতে চায়। সুতরাং দেশভাগের জন্য হিন্দু-মুসলমান বিভাজনের কারণ তৈরীর ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। আসলে কথিত উচ্চবর্ণের হিন্দু ও কথিত অভিজাত মুসলমানদের রাজনীতির রাজা হবার বর্ণবাদি কৌশল ছিলো এগুলো।

বৃটিশরা ভারতবর্ষ থেকে দু’শো বছরে যে সম্পদ লুন্ঠন করেছে; গত ৭০ বছরে ভারতবর্ষের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকরা অনেক বেশি সম্পদ লুন্ঠন করে পশ্চিমে নিয়ে গেছে। কাজেই ৪৭-এ স্বাধীনতার বিষয়টি গুটিকতকের রাজা হয়ে ওঠার উচ্চাকাংক্ষা হিসেবে স্পষ্ট। বরং সমঝোতা প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে সত্তরের দশকে স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা থাকলে; অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো অবকাঠামো ও পরিকাঠামো তৈরি হতো উপমহাদেশে।

‘৪৭-এর স্বাধীনতার পর থেকেই ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠবে এ আশংকায় কথিত উচ্চবর্ণের হিন্দু ও কথিত অভিজাত মুসলমানরা নিজ নিজ ইতিহাসের ন্যারেটিভ তৈরির মামুদের নিয়োগ দেয়। তারা বড় বড় চশমা পরে; ভ্রু কুঁচকে মুখাবয়বের জ্যামিতিতে অথোরিটি এনে “বৃটিশ” শত্রুর কাকতাড়ুয়া তৈরি করে দেশি শোষকদের শোষণ হালাল করে। অথচ একটি বৃটিশ পাসপোর্টের জন্য ভারতবর্ষের মানুষের হাহাকার ও ইঁদুর দৌড়ের কমতি নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে অনৈতিক, শঠ, প্রতারক রাজনীতিক ও ভাঁড় বুদ্ধিজীবী জুটেছে দক্ষিণ এশিয়ায়; ফলে তাদেরকে সব জায়গায় বৃটিশ ভূত খুঁজতে হয়। অথচ ভূত যে এরা নিজেরাই তা বুঝতে সাধারণ মানুষের আর বাকি নেই।

পুনশ্চঃ আজ খোদ বৃটেনেই স্যার ডাকের আকুতি নেই; আমলাতন্ত্রের দম্ভ নেই; রাজনীতিতে জবাবদিহিতা আছে; জনমানুষের বাক-স্বাধীনতা আছে; গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা আছে। তার মানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃটিশরা তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার করেছে। অথচ ভারতীয় উপমহাদেশে স্যার ডাকের আকুতি, আমলাতন্ত্রের দম্ভ, রাজনীতিতে চরম জবাবদিহিতার অভাব, দুর্নীতি-লুন্ঠন সর্বব্যাপী, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভঙ্গুর। এর সমালোচনা করলেই রাজনীতিবিদদের পিঠ-বাঁচানো বুদ্ধিজীবীরা বৃটিশের জুজুর গপ্পো এনে বলে; সব বৃটিশের দোষ; অরা এইগুলি শিখাইয়া গেছে। আমরা দুগ্ধপোষ্য শিশু আছিলাম। এই শঠতার মাধ্যমে নিজেদের দোষ আড়ালের চোখ সাফাইয়ের খেলাটা একঘেয়ে ও বিরক্তিকর। সেই প্রেক্ষিতেই এই লেখার প্রসঙ্গগুলোর অবতারণা।

Bangladesh writer

লেখক: ব্লগার ও প্রবাসী সাংবাদিক


সর্বশেষ

আরও খবর

ধর্ম: প্রশ্নই জগতের প্রাণপ্রবাহ

ধর্ম: প্রশ্নই জগতের প্রাণপ্রবাহ


অপকর্মের উৎস মাদরাসা!

অপকর্মের উৎস মাদরাসা!


যাপনে নয়, জীবন উদযাপনের

যাপনে নয়, জীবন উদযাপনের


কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই

কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই


যে গল্পের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই

যে গল্পের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই


অবরুদ্ধ সভ্য চিন্তার স্রোত !

অবরুদ্ধ সভ্য চিন্তার স্রোত !


কাশ্মীর: দক্ষিণ এশিয়ার কাইজ্জার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত!

কাশ্মীর: দক্ষিণ এশিয়ার কাইজ্জার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত!


পুলিশ সেবা সপ্তাহ ২০১৯:  তুমি কী আমার বন্ধু!

পুলিশ সেবা সপ্তাহ ২০১৯: তুমি কী আমার বন্ধু!


বট-খেজুরের সখ্য এবং ‘রক্ত-রস’ রহস্য

বট-খেজুরের সখ্য এবং ‘রক্ত-রস’ রহস্য


চরিত্রবান

চরিত্রবান