Saturday, August 13th, 2022
‘আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতেই পরিকল্পিত হামলা’
November 10th, 2016 at 1:49 pm
‘আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতেই পরিকল্পিত হামলা’

ডেস্ক: আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতেই পরিকল্পিতভাবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটির আহ্বায়ক জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

 সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার তিনি এতথ্য জানান।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “আদিবাসী  বাঙালির সম্মিলিত ভূমির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সম্পৃক্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর ৬ নভেম্বর পুলিশ ও স্থানীয় মাস্তান বাহিনী হামলা চালায়। বিনা উস্কানিতে সাধারণ নিরস্ত্র জনগণের ওপর গুলিবর্ষণ করে তারা পাঁচ আদিবাসীকে গুরুতর আহত করে। তাদের মধ্যে শ্যামল হেম্ব্রম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।”

তিনি আরো বলেন, “পরে ৮ নভেম্বর মঙ্গল মার্ডির লাশ পুলিশ মিলের পার্শ্ববর্তী গ্রামে ফেলে যায়। পুলিশের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে এ  দুই আদিবাসী মারা গেলেও পুলিশ এ হত্যার দায় নিতে নারাজ। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলের নেতৃত্বে একদল মাস্তান সাহেবগঞ্জে আদিবাসী-বাঙালির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পল্লীতে প্রায় ছয়শো ঘর ও স্কুলে আগুন লাগায়।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “এলোপাথারি গুলি চালানোর ফলে পল্লীর বাসিন্দারা সবকিছু ফেলে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যায়। সেই পল্লীতে প্রায় দুই হাজার পাঁচশো মানুষের বাস ছিল। বর্তমানে প্রায় দুশো আদিবাসী সুগার মিলের পাশে জয়পর ও মাদারপুর নামের দুটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। বাকিরা এখনো পুলিশ ও মাস্তানের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।”

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটির আহবায়ক আরো বলেন, “ওই ঘটনা জানার পর আমরা আট সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পর্যবেক্ষণে আমরা বুঝতে পারি, এটি মোটেও আখের বীজ কাটতে বাধা দেয়ার ফলে সৃষ্ট কাকতালীয় কোনো ঘটনা নয়। আদিবাসীদের জোর করে উচ্ছেদ করতেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়।”

তিনি বলেন, “হামলায় পুলিশ ও সুগার মিলের ম্যানেজার আব্দুল আউয়ালের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বুলবুল ও তার মাস্তান বাহিনীও অংশ নেয়। তারা মিলের শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। মাঠে অন্তত পাঁচটি লাশ পড়ে থাকতে তারা  দেখে। কিন্তু পুলিশের ভয়ে লাশ নিতে পারেনি।”

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরো বলেন, “ঘটনার একদিন পর পুলিশ দ্বিতীয় লাশটি (মঙ্গল মার্ডি) ফেলে যায়। অন্যদের লাশ খুঁজে না পাওয়ায় স্থানীয়রা ধারণা করছে, জড়িতরা লাশ গুম করে ফেলেছে। এ ঘটনায় যেহেতু পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা জড়িত, তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি, এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক।”

আরও পড়ুন

সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ আতঙ্কে পুরুষরা ঘরছাড়া

প্রতিবেদন: প্রীতম সাহা সুদীপ


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার