Thursday, October 13th, 2016
আধিপত্য নাকি বাণিজ্য?
October 13th, 2016 at 11:17 pm
আধিপত্য নাকি বাণিজ্য?

তুহিন সাইফুল, ঢাকা: রাত পোহালেই ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। গত তিন দশকের মধ্যে এটিই হবে কোন চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম বাংলাদেশ সফর। তাকে বহনকারী বিমানটি দেশের আকাশ সীমায় পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে বিমান বাহিনীর দু’টি জেট বিমান অভ্যর্থনা দিয়ে নিয়ে আসবে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে তাকে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

শি জিন পিং যখন ঢাকায় আসছেন, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দুই মোড়ল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তখন চরমে। এমনকি নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার গ্রুপ (এনএসজি)-তে ভারতের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে চীনের বিরোধিতা, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে চীনের অনুপ্রবেশ বিতর্কসহ বহ্মপুত্রের পানিবন্টন নিয়েও ভারত-চীন সম্পর্ক এখন বেশ তিক্তই বলা যায়। তাই আঞ্চলিক ক্ষমতাধরদের প্রভাব বিস্তারের এই খেলায় হঠাৎ করেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। ফলে চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব মিডিয়াও।

জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকে ঘিরে সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশের আঞ্চলিক মিত্ররা। তবে ধারণা করা হচ্ছে চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে কোন আধিপত্য বিস্তারের কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে না।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে শি জিন পিংয়ের ঢাকা গমন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থাপন করবে নতুন ‘মাইলফলক’। এই সফরের জন্য দুই পক্ষ বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করছে এবং এ সফরের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি মনে করেন, শি জিন পিংয়ের এই সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে ‘নিবিড় সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা’ হবে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে মঙ্গলবার দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসছেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্ব বোধ করছি। আমি বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট জিন পিংয়ের এই সফর দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও গুরুত্ব বহন করবে।’

শি জিনপিংয়ের এই সফর আসলেই কি ‘নিবিড় সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা’ করবে? নিউজনেক্সটবিডি ডটকম-এর এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান জানান, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন যুগের সূচনা করবে কি না- তা হয়তো নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন সরকারের চীনমুখী হওয়ার কোন সুযোগ আছে কি না তার উপর।  

ড. তানজীম উদ্দিন খান বলেন, ‘শি জিনপিং এর এই সফর বেশ প্রাসঙ্গিক। কারণ বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য চীন বেশ আগ্রহী। সেই দিক থেকে বাংলাদেশ চীনকে সম্পৃক্ত করতে চাইবে। এবং এই সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হবে।’

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতায় চাপে পড়তে পারে ভারত। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশল নিয়েও নয়াদিল্লিকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। বার্তা সংস্থা আইএএনএস এর বরাত দিয়ে বুধবার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়।

এই বিষয়টিতে ড. তানজীম উদ্দিন খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভারতকে চাপে রাখবে কি রাখবে না এটা চীনের নিজস্ব ব্যাপার। এখন এই চাপ ভারত নিতেই পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে চীন তো চাইবেই দক্ষিণ এশিয়াতে ভারতের একক আধিপত্য যেন তৈরি না হয়। নিজের বাজার রক্ষার জন্য তার রাজনৈতিক প্রভাবটা বজায় রাখার চেষ্টা তো তার থাকবেই।’

শুধুই কি বাজার রক্ষা, নাকি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ? এই প্রসঙ্গে ড. তানজীম উদ্দিন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৌশলগত গুরুত্ব আছে এর ভৌগলিক অবস্থান আর বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে। তারপর ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠির উন্মাদনাও এখন বেশি ‘এটেনশন’ নিচ্ছে। এসব কারণেই বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।’

sheikh-hasina-and-jinping

তিনি আরো বলেন, ‘চীনের কুটনীতি হচ্ছে সবচেয়ে ‘স্মার্ট’ কূটনীতি। তারা অন্য রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিচার করে আলোচনা করে না। এমনকি সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে চীন সবসময় সতন্ত্র অবস্থান নিশ্চত করার চেষ্টা করে। তারা কখনোই আধিপত্য বিস্তারের দিকে যায় না। চীনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও একধরনের ‘সফট ডিপ্লোমেসি’র চর্চা আছে। যার ফলে তাদের সবসময় প্রায়োরিটি হচ্ছে অর্থনীতি, আধিপত্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘তবে চীন তার ‘অমিমাংসীত এলাকা’ নিয়ে সবসময় স্পর্শকাতর। যেমন- তাইওয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল, চীন কিন্তু সেটাকে স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি। ফলে বিএনপি’র সঙ্গে চীনের দূরত্ব তৈরি হওয়ার পেছনেও এটা একটা বড় কারণ। মানে জাতীয়তাবাদী ইস্যুতে চীন সামান্যতম ছাড়ও দেয় না।’

প্রসঙ্গত, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এর গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে ২৫টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে জানা গেছে। তবে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ কী পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা পেতে যাচ্ছে তা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি। এমনকি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির যে ভয়াবহ ফারাক- তা কতটা কমে আসবে সে বিষয়েও নিশ্চিত বরে বলতে পারেননি কেউ।

তবে জানা গেছে, চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরের ফলে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি, ভৌত অবকাঠামো সড়ক-সেতু, রেল যোগাযোগ, জলপথে যোগাযোগ, কৃষি, সমুদ্র-সম্পদসহ দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো গভীর হবে।

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

গাজায় হামাস প্রধানের বাড়িতে ইসরায়েলের বোমা হামলা

গাজায় হামাস প্রধানের বাড়িতে ইসরায়েলের বোমা হামলা


ঈদের ছুটি শেষে করোনা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

ঈদের ছুটি শেষে করোনা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরছে মানুষ


সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন, করোনামুক্তিতে বিশেষ দোয়া

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন, করোনামুক্তিতে বিশেষ দোয়া


আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড


পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে শেষ মুহূর্তেও ভিড়

পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে শেষ মুহূর্তেও ভিড়


ঈদের দিন হতে পারে হালকা বৃষ্টি

ঈদের দিন হতে পারে হালকা বৃষ্টি


হুমকি উপেক্ষা করে আল-আকসায় ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল

হুমকি উপেক্ষা করে আল-আকসায় ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল


করোনায় আরও ৪০ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ৪০ জনের মৃত্যু