Tuesday, July 5th, 2022
‘আপা আরেকটি ভালো ছবি নেব…’
August 20th, 2016 at 10:17 pm
‘আপা আরেকটি ভালো ছবি নেব…’

ঢাকা:  ২১ আগস্ট, ২০০৪। সেদিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের একটি প্রতিবাদ সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মুহুর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় অসংখ্য মানুষের দেহ। কিন্তু নেতাকর্মীদের তৈরি মানব ঢালের কারণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। বীভৎস ওই ক্ষণের সাক্ষী ফটোসাংবাদিক এস এম গোর্কি।

ঘটনার ঠিক আগের মূহুর্তে শেখ হাসিনা কাছে এস এম গোর্কির অনুরোধ ছিলো- ‘আপা আরেকটি ভালো ছবি নেব…।’

ওই সময় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রধান ফটোসাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এস এম গোর্কি। ভয়ঙ্কর ওই গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন তিনিও। ওই ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে এই ফটো সাংবাদিক জানান, ওই দিন মঞ্চের সিঁড়ির কাছেই ছিলেন তিনি। এক সময় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর  ছবি নেয়ার জন্য মঞ্চে ওঠেন। বক্তব্য শেষ হওয়ার আগে শেখ হাসিনার কিছু ভালো ছবি নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

তার কথায়,  ‘বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগে আমি তাকে অনুরোধ করলাম, আপা আরেকটি ভালো ছবি নেব। নেতাদের এমন অনুরোধ আমরা প্রায়শই করে থাকি। এক্ষেত্রে তারাও আমাদের সহযোগিতা করে থাকেন। আমার অনুরোধে তিনি দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, তোদের আর ছবি তোলা শেষ হয় না। আচ্ছা, তোল। এর ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রথম গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়।’

হামলার সময়কার অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রথম শব্দ শোনার পরপরই শেখ হাসিনাকে মানবপ্রাচীর করে নিরাপদ করা হয়। তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ভাই, মায়া ভাই, ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী মামুন ভাইসহ অনেকেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফেলেন।’

gorki

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষী হিসেবে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তাতেও তিনি এই ফটোসাংবাদিকের কথা উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সালের ১১ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল কবীর উপকারাগারে সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে শেখ হাসিনার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬১ ধারা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয়, যা আদালতে দেওয়া নথিতেও সংযুক্ত এবং অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা জানান, আনুমানিক পাঁচটা ২০ থেকে ২২ মিনিটের দিকে তার বক্তব্য শেষ হয়। এরপর তিনি ট্রাক থেকে নিচে নামার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন, এমন সময় ফটোসাংবাদিক এস এম গোর্কি ছবি তোলার সুযোগ চাইলে শেখ হাসিনা একটু থামেন। ঠিক তখনই, সম্ভবত দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হয়। বিপদ বুঝতে পেরে তিনি এবং ট্রাকের ওপরে থাকা অন্যরা মাথা নিচু করে শুয়ে বা বসে পড়েন। এরই মধ্যে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। ট্রাকে অবস্থানরত নেতারা মানবঢাল তৈরি করে তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

প্রতিবেদন- ময়ূখ ইসলাম, সম্পাদনা: প্রীতম সাহা সুদীপ


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার