Wednesday, August 24th, 2016
আবু জাফর শামসুদ্দিন’র ২৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী
August 24th, 2016 at 2:59 pm
আবু জাফর শামসুদ্দিন’র ২৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক: ধর্ম নিরপেক্ষ প্রগতিশীল সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক আবু জাফর শামসুদ্দিন’র ২৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার। ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট এই খ্যাতিমান কলাম লেখক পৃথিবীর সাথে সকল বন্ধন ছিন্ন করেন।

১৯১১ সালের ১২ মার্চ, গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে আবু জাফর শামসুদ্দীন  জন্মগ্রহণ করেন। একই গ্রামের প্রভাত পন্ডিতের পাঠশালায় তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনের শুরু। তিনি ১৯২৪ সালে স্থানীয় একডালা মাদ্রাসা থেকে জুনিয়র মাদ্রাসা পরীক্ষা ও ১৯২৯ সালে ঢাকা সরকারি মাদ্রাসা থেকে হাই মাদ্রাসা পরীক্ষা পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হলেও পরীক্ষা না দিয়ে তিনি কলকাতা চলে যান এবং সাংবাদিক জীবন শুরু করেন।

দৈনিক সোলতান পত্রিকায় সাব-এডিটর হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। কিছুদিন সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক  ইত্তেফাক, দৈনিক পূর্বদেশ ও  দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীতে সহকারী অনুবাদকের পদে কর্মরত থাকেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

প্রথম জীবনে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের (এম.এন রায়) ‘র‌্যাডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির’ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাপ’ (১৯৫৭) গঠিত হলে তার প্রাদেশিক সাংগঠনিক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ঐতিহাসিক কাগমারি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কেন্দ্রীয় আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন চলাকালীন তিনি পালন করেন সক্রিয় ভূমিকা। উদার দৃষ্টিভঙ্গি, গভীর মানবিকতাবোধ ও সমাজপ্রগতির ভাবনা তার চরিত্রের বিশেষত্ব। তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট সোসাইটি, বাংলা একাডেমীর কার্যনির্বাহি পরিষদ, বাংলাদেশ আফ্রো-এশীয় লেখক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন।

উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। তার প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি গল্প এবং প্রবন্ধও রচনা করেন। তার রচনায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫), জীবন (১৯৪৮), রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮), ল্যাংড়ী (১৯৮৪), চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪),  Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩), সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭), লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।

এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। শিল্পীর সাধনা (১৯৬৭) ও পার্ল বাকের সেরা গল্প (১৯৬৮) তার দুটি অনুবাদগ্রন্থ।

সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮), সমকাল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৯), একুশে পদক (১৯৮৩), শহীদ নূতনচন্দ্র সিংহ স্মৃতিপদক (১৯৮৬), মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) এবং মৃত্যুর পর ফিলিপস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন।

উপন্যাস, ছোট গল্প ও মননশীল প্রবন্ধ লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়াও তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, মারঠি, জাপানি ভাষায় অনুদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন ও সম্পাদনা – এস. কে. সিদ্দিকী

 


সর্বশেষ

আরও খবর

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ


হাঁটাহাঁটি করছেন ওবায়দুল কাদের

হাঁটাহাঁটি করছেন ওবায়দুল কাদের