Sunday, July 3rd, 2022
আমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
November 19th, 2016 at 11:54 am
আমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

লিটন চন্দ্র ভৌমিক: আমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; কিছুক্ষণ পরপর চেঞ্জ হতো তার ভৌগোলিক আবহাওয়া—মেঘ, রোদ, বৃষ্টি; কিছুক্ষণ পরপর রাজনৈতিক, প্রশাসনিক আবহাওয়া; দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া; শিক্ষার্থীদের আন্দোলন; পুলিশের সাথে সংঘর্ষ; অনির্দিষ্টকালের বন্ধ। আমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ভূস্বর্গ, সুন্দর প্রকৃতি, পাহাড়ের সারি- ঝর্না- সাঁটল ট্রেন- ঝুলন্ত সেতু- বোটানিক্যাল গার্ডেন; সবমিলিয়ে অপরুপ রানী।

দেখা হতো হয়তো রাসেল ভাইয়ের সাথে—যিনি মার্কসবাদ, পুঁজিবাদ থেকে আলোচনা শুরু করে করে সাম্রাজ্যবাদে এসে থামতেন। জটিল বিষয়ে আলোচনা করা প্রণব দা, যার আলোচ্য বিষয়—দার্শনিক জ্যাক দেরিদা, ফুকো, সিমন দ্যা বাভোয়া; মাথার উপর দিয়ে চলে যেতো!

হকিয়ার, ব্রুসিয়ার, ব্রাশ, তুলি হাতে সেই চারুকলার জুটন, আজিজ, সাইফ, অসিত, হীরা, সুমি সবার সাথে হয়তো দেখা হতো। মেজবাহ ভাই, সাজু ভাই যারা গলা জড়িয়ে গান গাইতো ঝুপড়ীতে—‘আলু বেচো পটল বেচো’, ‘বুক টানটান করে দাঁড়া’। দেখা হতো জুনিয়রদের সাথে মুহূর্তে মিশে যাওয়া পান্না দা, প্রবীর দা, সাজ্জাদ ভাই, সাইফুদ্দিন ভাইয়ের সাথে; বন্ধু প্রবাল মজুমদার সাথে—যার স্লোগান আজও শুনি—‘পুলিশের কালো হাত, ভেঙ্গে দাও গুঁড়িয়ে দাও… কমাতে হবে কমিয়ে দাও …’। হয়তো দেখা হতো মিজান ভাইয়ের সাথে, যিনি এসে বলতেন—‘মুনির ভাই খিচুড়ি বাড়াই দেন, আর চামচ ৩/৪ টা দেন, ওই সবাই মিলে শুরু কর’। ঝুপড়ির প্রিয়মুখ কাঞ্চন দা, তমাল ভাই, নিপুন ভাই, হেলাল ভাই, জুলেখা আপু, দিপাদি, রিমি দি, মন্টি দি’র সাথেও আড্ডা হতো। ২ টা চা’কে চারজন মিলিয়ে খেতাম—সেই রিজন, সুমন, দীপান, বিজয়, নাহার, নান্সিরাও থাকতো। থাকতো অর্থনীতিবিভাগের শাকিল ভাই—‘লেখা দিও, ইয়েসের ম্যাগাজিনে’।

chittagong_university

থাকবে কি আমার ক্লাসমেটরা—বর্ষা যার কাছে ১০০ টাকা পাই; মল্লিকা’র শীটের মেইন কপি আজও দেয়া হয়নি; শেষকথা হয়নি সুপ্তির সাথে। বইয়ে দাগ দেয়া নিয়ে আজও রাগ ভাঙ্গেনি শাহরিয়ারের। রাজীব, মামুন, সুপ্রিয়, সাদেক, হাসান, অমিত, মোসলেম, জাহেদদের সাথে ভালো বন্ধুত্ব হওয়ার আগেই শিক্ষা জীবন শেষ। দেখা হতো ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের সাথে—যারা দেখা হলেই বলতো—‘ওসব রাজনীতি-ফাজনিতি, আড্ডা ছাড়ো মিয়া; ইকোনমিক্স ভালো করে পড়’। দেখা হতো আন্তঃডিপার্টমেন্ট বন্ধু- আজাদ, স্বান্তনা, মনসুর, নাসিমুল, দেবাশিষ, মামুন, শোভিক, শান্তাদের সাথে। দেখা হতো হালিম ভাই, হায়দার ভাই, মুনির ভাইয়ের সাথে—যারা দূর থেকে দেখলেই চা বানাতে শুরু করেন। দেখা হতো ‘মনে কী দ্বিধা রেখে গেলে চলে সে দিন … কী ভেবে ফিরালে মুখখানি–. কী কথা ছিল যে মনে’—শামসুন্নাহারের দিকে চলে যাওয়া তরুনীটির সাথে!

আজও কি আছে—চাকসু’র ৮ টাকা বিরিয়ানি? ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো যায় হারিয়ে যায়, মিলিয়ে যায় হাওয়ায়’ ‘বন্ধু তোমায় এ গান শোনাব বিকেল বেলায়’ সেই সব সাটল ট্রেনের গান! ট্রেনের সীট দখল! একটা গোল্ডলিফ ৭/৮ জনে টানা!

আজও বাংলার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভীড় জমায় মফস্বল থেকে আসা তরুণরা; যাদের বাবা-মা প্রতিদিন সন্তানের পাশ হওয়ার দিন গোনে। রাষ্ট্র সমাজের প্রতি ক্ষোভ থাকা যুবকটি এখানেই হাত মুষ্টিবদ্ধ রাখে। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নদেখা যুবকটি ছোট সংগঠনে সামিল হয়। ভিসি’র চা-নাস্তার জন্য বরাদ্ধ ৪ লাখ—গবেষণায় বরাদ্ধ ২ লাখ হলেও কিছু যুবক স্বপ্ন দেখে নিজ উদ্যোগে রিসার্চের। সাজিদ নিজ খরচে ব্যাঙের পিছনে সারাদিন কাটাতো; সারাদিন রং চা গিলে গিলে নতুন কিছু ভাবতো ফিজিক্সের ছাত্রটি। সেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একবসাতেই গান লিখে ফেলা যুবক নির্ঝর নৈঃশব্দ্য; রাতারাতি নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলা শুভরাজ বিশ্বাস; মুহূর্তে স্লোগান বানানো রিজোয়ানুল কবির রিজন; একদিনের সিদ্ধান্তে এক্সিবিশন করা রাজীব দত্ত; কিছু কাগজ দিয়ে একক্ষনেই দেয়ালিকা বানিয়ে ফেলা ঊর্মি। ক্ষণিকের উত্তেজনায় আমিও খুলেছিলাম কিছু সংগঠন (কোনোটার আয়ু ১ মাসের বেশি ছিলো না)। হাসনাত ভাই, সুমন দা, বিশ্বজিত দা, কনক দা মিলে খুলে ফেলেছিল ‘বিজ্ঞান আন্দোলন’; সুমি দি, ছোটন আপু’র ‘প্রগতির পরিব্রাজক দল’; বিনির্মাণ, ল্যাম্পপোস্ট, লালপতাকা, উত্থান পর্ব … অজস্র ছোটসংগঠনের বড়স্বপ্নের তারুণ্যদের আবারও দেখতে পেতাম।

আমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়—আমি আবার জন্ম নিলেও পড়তে চাইবো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

liton

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও পিএইচডি শিক্ষার্থী, ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।


সর্বশেষ

আরও খবর

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য জেসিআই ঢাকা ওয়েস্ট ও বিআইটিএম এর “প্রজেক্ট হোয়াইট ক্যাপ”

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য জেসিআই ঢাকা ওয়েস্ট ও বিআইটিএম এর “প্রজেক্ট হোয়াইট ক্যাপ”


উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন


জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন


এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর


মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদন শুরু ২৫ নভেম্বর

মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদন শুরু ২৫ নভেম্বর


দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর


৫ অক্টোবর থেকে খুলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল

৫ অক্টোবর থেকে খুলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল


৫৪৩ দিন পর খুলল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

৫৪৩ দিন পর খুলল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান


দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


এবার এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হবে ৩ বিষয়ে

এবার এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হবে ৩ বিষয়ে