Friday, October 7th, 2016
‘আমার বাবাই যেন সেই বড় বাজিকর’
October 7th, 2016 at 8:51 am
‘আমার বাবাই যেন সেই বড় বাজিকর’

ঢাকা: সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর অন্যতম প্রাণপুরুষ। বিগত কয়েক দশক ধরে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরের রেইন্ট্রি তলায় অনুষ্ঠিত সংগঠনটির কবিতা উৎসবে অংশ নিয়েছেন সদ্য প্রয়াত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ শামসুল হক।

তার স্মৃতিগন্ধমাখা সেই স্থানে তারই কবিতার উচ্চারণে আর ঘনিষ্ঠজনদের স্মৃতিচারণায় ফিরে ফিরে এলেন কবি।

বৃহস্পতিবার হাকিম চত্বরের   উন্মুক্ত মঞ্চে ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো  ‘সৈয়দ শামসুল হক স্মরণানুষ্ঠান। এই আয়োজনে দেশের নবীন ও প্রবীণ কবিরা ‘সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক’কে নিয়ে স্মৃতিচারণ, গান আর কবিতায় প্রয়াত কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

স্মৃতিচারণে অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, কবি রবীন্দ্র গোপ, কথাসাহিত্যিক ও মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামাল, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, কবির সহধর্মিনী ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক, মেয়ে বিদিতা সৈয়দ হক, রাজনীতিক সুভাষ সিংহ রায়, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি প্রমুখ।

আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, কখনোই ভাবিনি তিনি থাকবেন না, আমাকে তার স্মৃতিচারণ করতে হবে। তার জীবনীশক্তি আমার চেয়ে বেশি, চিরন্তনমৃত্যুর মুখোমুখি থেকেও তিনি লিখে গেছেন। নতুন একটা সিরিজ শুরু করেছিলেন ‘ভাবনার ডানা’ নামে। শেষ দিকে তিনি যখন আর লিখতে পারছিলেন না। তখন অনুলিখন করাতেন। তিনি অনেক ঘোরের মধ্যে ছিলেন। শেষ যোদ্ধা নামে একটি নাটক লিখছিলেন। অনেক কবিতা, গল্প, লিখতে চেয়েছেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে কুড়িগ্রাম গেলেন। সেখানে তিনি সমাহিত হতে চেয়ে সবকিছু ঠিক করে রেখে এলেন। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে শেষ গল্পটা লিখে আমাকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি হাসপাতালের বেডে মাত্র ১৭ দিনে ‘হ্যামলেট’ অনুবাদ করেছিলেন। তিনি সবসময় কবিতার মধ্যে থাকতেন। আমি এখনও বুঝতে পারছি না তিনি আছেন নাকি নেই।

মেয়ে বিদিতা সৈয়দ হক বলেন, আমার শোক দুই ভাগে। একটা হচ্ছে লেখকের জন্য, যিনি খুব বড় মাপের লেখক ছিলেন। আরেকটি দিক হচ্ছে বাবার প্রতি শোক। যে বাবা আমাকে জীবন চিনিয়েছেন, যাকে আমি আর কখনও দেখবো না। এই কষ্ট আমি কাটাতে পারছি না। তিনি রবার্ট ফ্রস্টের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলতেন, যে রাস্তায় কেউ যেতে চায় না, তুমি সেই রাস্তায় বুক উঁচিয়ে হেঁটে যাবে।

ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক বলেন, ‘এ বড় দারুণ বাজি তারে কই বড় বাজিকর’- আমার বাবাই যেন সেই বড় বাজিকর। যার লেখা মানুষের মনে ছড়িয়ে দিয়েছেন বাজিকরের মতো। যিনি বাংলা সাহিত্যের ভূগোল বদলে দিয়েছেন। তার জীবনটাই যেন এক মহাকাব্য। আজকের এ আয়োজন দেখে ভালো লাগছে। সবুজ প্রকৃতির মাঝে সবুজ ব্যাকড্রপ মন ভালো করে দিয়েছে। সবখানে কালো রং দিয়ে আব্বার ছবি। ভালো লাগে না। জীবন বহমান। বাবা বেঁচে থাকবেন তার লেখায়।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, আমরা আশ্রয়হীন হয়ে গেলাম। সংশয়ে, বেদনায়, আনন্দে যার কাছে যাওয়া যেত, আশার বাণী শোনা যেত সেই মানুষটিকে আর পাব না। তার সঙ্গে সময় কাটানো মানেই নতুন কিছু জানা, আনন্দ লাভ করা। হালকা চালের রসিকতার মধ্যেও অনেক গুরুত্ব বিষয়ের ইঙ্গিত থাকতো। বড় মাপের লেখক ছিলেন সৈয়দ হক। রচনাশৈলী, বাক্যগঠন প্রক্রিয়া, নতুন নতুন শব্দ গঠন দিয়ে নিজস্ব গদ্য ভাষার জন্ম দিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।

প্রতিবেদক: প্রতিনিধি, সম্পাদনা: শিপন আলী

 


সর্বশেষ

আরও খবর

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস


করোনা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কবিতা

করোনা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কবিতা


পাথর সময় ও অচেনা বৈশাখ

পাথর সময় ও অচেনা বৈশাখ


৭২-এর ঝর্ণাধারা

৭২-এর ঝর্ণাধারা


বইমেলায় আলতামিশ নাবিলের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’

বইমেলায় আলতামিশ নাবিলের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’


নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


ক্রোকোডাইল ফার্ম

ক্রোকোডাইল ফার্ম


সামার অফ সানশাইন

সামার অফ সানশাইন


মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন