Tuesday, July 5th, 2016
আর্টিজান ট্র্যাজেডি: বড় হচ্ছে সন্দেহের তালিকা
July 5th, 2016 at 9:40 pm
আর্টিজান ট্র্যাজেডি: বড় হচ্ছে সন্দেহের তালিকা

প্রীতম সাহা সুদীপ, ঢাকা: হিযবুত তাহরীরের পৃষ্ঠপোষক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম ছাড়াও গুলশানের আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন আরো কয়েকজন। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন খোদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, ‘গুলশানের ঘটনায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের ছেলে তাহমিদ হাসিব খানসহ আরো বেশ কিছু নাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহের তালিকায় রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার হওয়া-নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খান পুলিশ হেফাজতেই রয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি, আরো কয়েকজনের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন অন্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।’

gulshan

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর অনেকেই ভেতরে ও বাইরে আশে-পাশে লুকিয়ে ছিলেন। সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অভিযান শেষে ঘটনাস্থলেই ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়। ভেতর থেকে নারী, শিশু ও তিন বিদেশিসহ ১৩ জন এবং আশপাশের এলাকা থেকে আরো ১৪ জনকে উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। পরে তাদের গোয়েন্দা হেফাজতে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অন্যদের ছেড়ে দেয়া হলেও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রাখা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন হাসনাত ও তাহমিদ। তবে এখনও তাদের আটক বা গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

হাসনাত করিম ও তাহমিদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পুলিশ পেয়েছে কী না? জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। আমরা শুধু এইটুকু বলতে পারি, এসব জঙ্গিদের মদদদাতা, অর্থদাতা, আশ্রয়দাতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। জঙ্গিদের পারিবারিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক অবস্থান সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে বলেন, হাসনাত ও তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার রাত নয়টায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে গুলশানের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজান আক্রান্ত হয়। প্রায় ১২ ঘন্টার ‘জিম্মি সংকট’ শেষ হয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ দিয়ে। ওই হামলায় ৯ ইতালীয়সহ ২২ জন নিহত হন। পরে যৌথবাহিনীর উদ্ধার অভিযানে ৬ জঙ্গিও নিহত হন।

ওই রাতে আর্টিজানে জিম্মি ছিলেন হাসনাত করিম এবং তাহমিদ। হাসনাত দাবি করেছেন, তার ১৩ বছর বয়সী সন্তান রাইয়ান করিমের জন্মদিন উদযাপন করতে ওইদিন সন্ধ্যায় স্ত্রী শারমিন পারভীন ও কনিষ্ঠ সন্তান সাফা করিমকে নিয়ে ওই রেস্টুরেন্টে যান তিনি। আর ব্যবসায়ী শাহরিয়ারের ছেলে তাহমিদ পুলিশকে বলেছেন, কানাডা থেকে দেশে ফিরে শুক্রবার ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে হলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়েছিলেন।

gulshan  attack

তবে রেস্টুরেন্টে জিম্মিদশার বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে হাসনাত করিমকে রহস্যজনক ভাবে চলা ফেরা করতে দেখা গেছে। এসময় জঙ্গিদের সঙ্গে তাকে বেশ ঘনিষ্টভাবে কথা বলতেও দেখা গেছে। এই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্ন উঠেছে, ‘কে এই হাসনাত করিম?’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালে নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের পৃষ্ঠপোষকতা করায় হাসানাতকে অব্যাহতি দিয়েছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আর তাহমিদ হাসিব খান কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টার ছাত্র। ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরে তিনি টরেন্টো থেকে দেশে আসেন। দুপুরে বাসায় বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টে যান বলে স্বজনরা জানান।

হাসনাতের বাবা এম আর করিম বলেন, তিন দিন ধরে হাসনাত ডিবির কাছে আছে। তার সঙ্গে দেখা করতে পারছি না। হাসানাতের সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারছি না। এখন কী করতে হবে- সেই পরামর্শ নিতে আইনজীবীর কাছে যাব।

তিনি বলেন, ‘হাসনাতকে সন্দেহের কারণ আছে। তাকে নিয়ে জঙ্গিরা ঘুরে বেড়িয়েছে। কোরিয়ান নাগরিক ফটো তুলেছে। সে এমনভাবে বেরিয়ে এসেছে যেন তার কিছুই হয়নি। তবে সেদিন ঘটনাটা কী হয়েছে, যারা বেঁচে আছেন তারাই কেবল জানেন, রেস্তোরাঁর বয়-বেয়ারারা জানেন। তাদের জিজ্ঞেস করলেই তো হয়, এই লোকের কী ভূমিকা ছিল?’

এম আর করিম বলেন, ‘আমার দাবি, হাসানাতের পাসপোর্ট দরকার হলে ডিবি রেখে দিক। হাসানাতকে ছেড়ে দিক। তারা তদন্ত করুক পুরো বিষয়টা। এরপর তার বিরুদ্ধে কোনো কিছু পেলে ব্যবস্থা নেয়া হোক।’

অন্যদিকে তাহমিদের বাবা শাহরিয়ার খান বলেন, আমি বিশ্বাস করি না সে এমন বর্বর হামলার সঙ্গে জড়িত। তাছাড়া, তার সঙ্গে দু’জন তরুণী ছিল। তারা সবাই খাবার খেতে গিয়েছিল। গার্ল ফ্রেন্ডকে নিয়ে কি কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে যায়!

তিনি বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত আমাদের দেখা হয়নি। শুনেছি তার বান্ধবী দু’জনও জীবিত আছে। তারা সবাই ডিবির হেফাজতেই আছে। আমি অনেক চেষ্টা করেও ছেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারিনি।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/পিএসএস/এসজি


সর্বশেষ

আরও খবর

চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ  উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে

চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি


২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


লন্ডন ফিরছেন আইএস বধু ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শামীমা বেগম!

লন্ডন ফিরছেন আইএস বধু ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শামীমা বেগম!


তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?

তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?


সৌন্দর্যসেবায় আয় কমেছে সবার: বেকার ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা-কর্মী

সৌন্দর্যসেবায় আয় কমেছে সবার: বেকার ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা-কর্মী


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডঃ জিয়া-এরশাদ-খালেদা কর্তৃক খুনিচক্রের স্বার্থরক্ষা

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডঃ জিয়া-এরশাদ-খালেদা কর্তৃক খুনিচক্রের স্বার্থরক্ষা


বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, কথা বলছে ইতিহাস!

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, কথা বলছে ইতিহাস!