Monday, October 17th, 2016
আ.লীগের সম্মেলন: চলছে শেষ মুহূর্তের সাজ-সজ্জা
October 17th, 2016 at 1:10 pm
আ.লীগের সম্মেলন: চলছে শেষ মুহূর্তের সাজ-সজ্জা

ইয়াসিন রানা: আগামী ২২-২৩ অক্টোবর বাংলাদেশের বৃহৎ এবং প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। সম্মেলনকে স্বার্থক এবং সুন্দর করতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের জন্য বেছে নেওয়া রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজাতে ব্যস্ত কারিগররা।উদ্যান ও মঞ্চ সাজানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী কাল ১৮ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা হবে মঞ্চ সাজানোর কাজ।

উদ্যান ও মঞ্চের পাশাপাশি ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে সাজ-সজ্জার ব্যবস্থা করেছে দলটি। তবে তা হচ্ছে একটি নির্ধারিত ডিজাইনে, যা কেন্দ্র থেকেই ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

পুরো সম্মেলনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ আর্টিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বলেন, ১৮ অক্টোবরের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি। তবে সম্মেলন সাজ-সজ্জার বিষয়টা অনেকটা বিয়ে বাড়ির মত। সব কাজ শেষ হলেও কিছু কাজ বাকি থেকে যায়। সর্বপরি আমরা ২০ অক্টোবরের মধ্যে আনুসঙ্গিক কাজগুলোও শেষ করবো।

সম্মেলনের প্রস্তুতি উপলক্ষে ঢাকার অনেকগুলো সড়ক ও স্থান সাজানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কয়েকটি ডিজাইন নির্দিষ্ট করে দিয়েছি এবং তা সিডি আকারের দিয়েছি। যারা স্থানীয় পর্যায়ে সাজ-সজ্জার কাজ করবে তারা আমাদের ডিজাইন অনুসারেই কাজ করতে হবে।

তিনি আরো জানান, প্রতিদিনই নেতাকর্মী ও দর্শনার্থী মিলে ২০ থেকে ২৫ হাজার লোকের সমাগম হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মাঝে মাঝে দর্শনার্থীদের ভীড়ে আমাদের কাজ করতেও সমস্যা হয়।

এবারের সম্মেলন আওয়ামী লীগের ইতিহাসের অন্যান্য সম্মেলনে থেকে অনেকটাই ব্যতিক্রম। সম্মেলনে নতুন নতুন নিয়ম করা হয়েছে যা আগে কখনোই ছিল না।

এবারই প্রথম সম্মেলনের প্রচার-প্রচারণা এবং সাজসজ্জার জন্য প্রদান করা হয়েছে নির্দেশনা-

১. সম্মেলন সংক্রান্ত তোরণ, দেয়াল লিখন, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে বঙ্গবন্ধু, নেত্রী, সজীব ওয়াজেদ জয়, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও প্রয়াত জাতীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না।

২. মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-কমিটি প্রেরিত ডিজাইনের আলোকে সাজসজ্জা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

৩. লাল সবুজ ও আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকার রং ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

৪. শালীনতা ও সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে শুধুমাত্র ব্যক্তি, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদবী ব্যবহার করা যাবে। কোনো নিজস্ব ছবি ব্যবহার করা যাবে না।

৫. সরকারের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাইলাইটস করতে হবে।

৬. সাজসজ্জা বিষয়ক তথ্যের জন্য ও সাজসজ্জা উপ-কমিটির সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এবারই প্রথম সাজসজ্জা এবং প্রচারণার দিক-নির্দেশনা শেখার জন্য জেলা এবং উপজেলা বা সকল নেতাদের দেওয়া হয়েছে সিডি। যা দেখে নেতারা সহজেই বুঝতে পারবে এবারের সম্মেলনের সাজসজ্জা এবং প্রচারণার নিয়মনীতি।

ইতোমধ্যেই সম্মেলনের প্রচার শুরু হয়েছে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং গ্রাম পর্যায়ে চলবে এ প্রচারণা।

সাজানো হবে বিভিন্ন রংয়ের তোরণ, দেয়াল লিখন, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। ঢাকা শহরের প্রবেশ পথগুলোতে থাকবে বিশাল বিশাল গেট।

সম্মেলনের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সাজতে শুরু করেছে নতুন সাজে। উদ্যানের চারপাশে লাগানো হয়েছে লাল নীল হলুদসহ বাহারি আলোকসজ্জা। তৈরি হচ্ছে সু-বিশাল মঞ্চ, নেতাকর্মীদের বসার জন্য বানানো হয়েছে বৃহৎ প্যান্ডেল, মঞ্চের চারপাশে থাকবে বিভিন্ন ধরনের কারুকাজের তৈরি অলংকার, নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য থাকবে মেডিকেল ক্যাম্প, খাবারের জন্য থাকবে ফুড কর্ণার।

সম্মেলনে প্রবেশের জন্য থাকবে ৭টি গেট। প্রধানমন্ত্রীর গেট, ভিআইপি গেট, ভিভিআইপি গেট, তিন নেতার মাজার গেট, মন্দিরের সামনে একটি গেট, বাংলা একাডেমির সামনে একটি গেট, টিএসসিতে একটি এবং চারুকলার সামনে একটি গেট থাকবে।

সম্মেলনে প্রত্যেকের জন্য থাকবে আলাদা থাকার ব্যবস্থা। যেমন ভিভিআইপি, ভিআইপি, বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তি, ডেলিগেটস, বিশিষ্ট ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ, থাকবে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ ঢাকার আশাপশের নেতাকর্মী এবং জাতীয় পর্যায়ের নেতারা।

এবারের সম্মেলনে আগত ব্যক্তিবর্গকে আপ্যায়ন করবে ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ মহানগর।

এবার সম্মেলনে শুধু ঢাকা শহর সাজবে না, পাশাপশি সাজবে সারা দেশ। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এবং বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা ঢাকায় আসতে পারবে না তারা এলাকায় থেকে যেন মনে করতে পারে তাদের দলের সম্মেলন হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন এমন কি গ্রাম পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অফিসের আশেপাশের পুরো এলাকা সাজানো হবে।

সম্মেলনকে স্বার্থক করতে সম্মেলনের সাজসজ্জা উপ-কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আওয়ামী লীগের এ সম্মেলন হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মিলন মেলা। সম্মেলনকে সর্বোচ্চ ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। সম্মেলনের সাজসজ্জা শুধু ঢাকার মধ্যেই নয় দেশের জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়েও থাকবে।

তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যদি সম্মেলনে আসতে না পারে তার পরও সে যেন বুঝতে পারে তার দল আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে।

তিনি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাঠের ভিতর কেউ কোনো প্রকার ব্যানার, পোস্টার ফেস্টুন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। অযথা হাতে তালি দেওয়া যাবে না।

সকাল ১০টা থেকে সভানেত্রী সম্মেলন স্থলে আসবেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকবেন।

সম্মেলনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সম্পাদকরা।

তিনি বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার যে পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের আছে তা প্রকাশ করা হবে। নেতাদের সু-সংগঠিত করা হবে এবং যারা দলের নেতৃত্ব দেবার জন্য নির্বাচিত হবেন তাদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনা দিবেন সভানেত্রী।

সাজসজ্জা নিয়ে তৃণমূলের নেতাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সম্মেলনকে সামনে রেখে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। তৃণমূলের নেতারা সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে সাজসজ্জা বিষয়ে যে দিক-নির্দেশনা দিয়েছে সে অনুযায়ী ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।

সম্মেলনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সম্মেলনের আগ পর্যন্ত থাকবে এ উত্তেজনা।

সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়া নিয়ে আইনি দিক খতিয়ে দেখছে বিএনপি

খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়া নিয়ে আইনি দিক খতিয়ে দেখছে বিএনপি


চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারছেন না খালেদা জিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারছেন না খালেদা জিয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুল

লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুল


বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানাতে গিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারি

বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানাতে গিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারি


প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো


দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু

দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু


মারা গেলেন মওদুদ আহমদ, রাষ্ট্রপতির শোক

মারা গেলেন মওদুদ আহমদ, রাষ্ট্রপতির শোক


যুবলীগের এক নেতাকে কোপাল আরেক যুবলীগে নেতা

যুবলীগের এক নেতাকে কোপাল আরেক যুবলীগে নেতা