Wednesday, August 24th, 2016
ইয়াসির আরাফাতের ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী
August 24th, 2016 at 11:40 am
ইয়াসির আরাফাতের ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী

ডেস্ক: পেরিয়ে গেছে রহস্যজনক মৃত্যুর দশ বছর, তবু আজও প্রতিটি ফিলিস্তিনি’র মনে গাঁথা আছে ইয়াসির আরাফাত’র ছবি। এখনো তার জন্ম বা মৃত্যু দিবস অথবা বিশেষ বিশেষ জাতীয় দিবসে সেই ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তার অবর্তমানেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতাগুলো ভরে ওঠে এই মহান নেতার স্মরণে। কারো ঘরের দেয়ালে শোভা পায় তার বাঁধানো ছবি, কারো ডিজিটাল পর্দায় দ্যুতি ছড়ায় তার ছবি সম্বলিত ওয়ালপেপার।  ফিলিস্তিনি মুক্তি সংগ্রামের এই মহানায়ক ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন। ফ্রান্সে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যুকে এখনো রহস্যজনক মনে করে ফিলিস্তিনি জনগণ।

বুধবার এই মহান নেতার জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ২৪ আগস্ট মিসরের কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পুরো নাম মুহাম্মদ আবদেল রহমান আব্দেল রউফ আরাফাত আল-কুদওয়া আল-হুসেইনী। তার বাবা আবদেল রউফ আল-কুদওয়া আল-হুসেইনী ছিলেন ফিলিস্তিনের গাজার অধিবাসী। মা জোয়া আবুল সাউদ ছিলেন জেরুজালেমের অধিবাসী। মাত্র চার বছর বয়সে মা’কে হারান আরাফাত। দল-মত-নির্বিশেষে ফিলিস্তিনী জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ আরাফাতকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ফিলিস্তিনীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসাবে সম্মান করে থাকে।

প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন পিএলও’র চেয়ারম্যান হিসেবে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন সারাজীবন। এছাড়াও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ধর্মনিরপেক্ষ ফাতাহ দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলের অস্তিত্বের সম্পূর্ণ বিরোধী থাকলেও পরে আরাফাত ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত ২৪২ মেনে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন।

জীবনের শেষভাগে আরাফাত ইসরাইলি সরকারের সাথে কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা শুরু করেন। ১৯৯১ সালের মাদ্রিদ সম্মেলন, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি এবং ২০০০ সালের ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলন এর মাধ্যমে আরাফাত ইসরাইলীদের সাথে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রয়াস নেন। ইসরাইলীদের সাথে এই সমঝোতা স্থাপনের জন্য আরাফাতের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার নতজানু নীতির তীব্র নিন্দা করে। ১৯৯৪ সালে আরাফাত আইজ্যাক রবিন ও শিমন পেরেজ এর সাথে অসলো শান্তি চুক্তির জন্য একত্রে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু একই সময়ে হামাস ও অন্যান্য জঙ্গীবাদী সংগঠনের উত্থান ঘটে। যারা ফাতাহ ও আরাফাতের ক্ষমতার ভিত্তি দূর্বল করে দিয়ে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।

২০০২ হতে ২০০৪ সালের শেষভাগ পর্যন্ত আরাফাত ইসরাইলী সেনাবাহিনীর হাতে তার রামাল্লার দপ্তরে কার্যত গৃহবন্দী হয়ে থাকেন। ২০০৪ এর শেষদিকে আরাফাত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কোমায় চলে যান। আরাফাতের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ পায়নি।

অবশ্য পরে প্রকারান্তরে ইয়াসির আরাফাতকে হত্যার কথা স্বীকার করে ইসরাইল। ২০১৩ সালের ১২ জানুয়ারি রেডিও তেহরান পরিবেশিত এক খবরে বলা হয়, ‘ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যে পিএলও’র সাবেক প্রধান ইয়াসির আরাফাত হত্যায় তাদের হাত ছিল। ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান ইয়াসির আরাফাত হত্যাকান্ডে হাত থাকার কথা এই প্রথমবারের মতো স্বীকার করলেন শিমন পেরেজ। তিনি বলেন, ‘ইয়াসির আরাফাতকে হত্যা করা ঠিক হয়নি, কারণ তার সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক সৃষ্টির সুযোগ ছিল। ইয়াসির আরাফাতের অবর্তমানে পরিস্থিতি আরো খারাপ এবং জটিল হয়ে উঠেছে।’

খবরটির বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০০৪ সালের ১২ অক্টোবরে ইয়াসির আরাফাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ফ্রান্সের একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হয়ে বরং দ্রুত অবনতি হতে থাকে। অল্প সময়ের ব্যবধানে অর্থাৎ ১১ নভেম্বরে তিনি বিষক্রিয়ায় সেই হাসপাতালেই মারা যান। এ কারণে ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর খবর শোনার পরপরই বিশ্লেষক মহল এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ববর্গ এমনকি কোনো কোনো নিউজ মিডিয়াও তার মৃত্যুকে সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছিল।

বার্তা সংস্থাগুলো লিখেছিল আরাফাতের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি বরং বিষাক্ত প্লুটোনিয়ামের সাহায্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তার জামা কাপড়ে প্লুটোনিয়ামের উচ্চমাত্রা খুঁজে পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি ইয়াসির আরাফাতকে বাংলাদেশের জনগণ মহান বন্ধুর মর্যাদা দিয়েছে। ১৯৭৪ সালে লাহোরে ওআইসি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু তাকে সম্ভাষণ জানান। এর ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাকে পরম বন্ধুর মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন ও ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ান। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা নিজ নিজ শাসনামলে ফিলিস্তিনিদের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতকে অকুণ্ঠ সমর্থন অব্যাহত রাখেন। তিনি একাধিকবার রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন, অসংখ্যবার ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতি করেছেন। ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আমন্ত্রণে ঢাকায় এসেছিলেন ইয়াসির আরাফাত, উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া। এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বর্ণবাদবিরোধী বিশ্বনন্দিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরিল।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ইয়াসির আরাফাত তার জীবন-যৌবন উৎসর্গ করেছিলেন মুক্তির সংগ্রামে। তার ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো ভক্তিপূর্ণ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

প্রতিবেদন: ইয়াসিন, সম্পাদনা- এস. কে. সিদ্দিকী


সর্বশেষ

আরও খবর

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ


হাঁটাহাঁটি করছেন ওবায়দুল কাদের

হাঁটাহাঁটি করছেন ওবায়দুল কাদের