Saturday, August 13th, 2016
এই, ঝালমুড়ি!
August 13th, 2016 at 5:14 pm
এই, ঝালমুড়ি!

অজিত সরকার, ঢাকা: নাম তার জুলহাস হাওলাদার। পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা। তবে, সবসময় ঘড়ি, টাই, কোট, প্যান্ট ও চশমা পরে ফিটফাট হয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন বলে লোকে তাকে টাই ঝালমুড়ি মামা বলেই ডাকেন। রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ফুটওভার ব্রিজের নিচে ভাসমান ঝালমুড়ির দোকান এই জুলহাসের।

ঝালমুড়ি বিক্রেতা হলেও পোশাক-আশাকে সবসময় খুব পরিপাটি থাকেন জুলহাস। এই কারণে অনেকের ধারণা, এই টাই পরিহিত ঝালমুড়ি মামা অনেক শিক্ষিত। চাকরি না পেয়েই হয়তো ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন। তাছাড়া, তার ঝালমুড়ির বস্তাতে লাগানো আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও তার বাবার মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র।

জুলহাসের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানার ঝালকাঠিতে। জুলহাসের বাবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তসলিম হাওলাদার ও মা রিজিয়া বেগম। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে জুলহাস সবার বড়। জুলহাসের বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব পড়ে তার উপর। মা আর ভাই-বোনদের নিয়ে কতদিন আর কত রাত অনাহারে-অর্ধাহারে কেটেছে জুলহাসের জীবন। এই অভাব আর অনটনের জোয়াল টানতে না পেরে অবশেষে প্রায় ১৩ বছর আগে ঢাকায় পাড়ি জমান জুলহাস। শুরু করেন পান-সিগারেট বিক্রি। এরপর মাছ বিক্রি থেকে শুরু করে ইট ভাঙ্গার কাজসহ নানা কাজ করে বেড়িয়েছেন তিনি। তাতেও কোনভাবে ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি জুলহাসের।

অবশেষে বেঁচে নেন ঝালমুড়ি বিক্রির পথ। প্রতিদিন প্রায় ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকার ঝালমুড়ি বিক্রি করেন জুলহাস। তবে, ঘড়ি-টাই, কোট ও চশমা পরে ফিটফাট হয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করা প্রসঙ্গে জুলহাস বলেন, ‘দেশের সব জায়গায় এখন সরকারের ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া লেগেছে সুতরাং আমি নিজে কেন ডিজিটালাইজড হবনা।’ পড়াশুনার গন্ডি কতদূর জানতে চাইলে জুলহাস বলেন, ‘অভাব-অনটনের কারণে পড়াশুনাটা আর করা হয়নি কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্রও দুঃখ নেই আমার। তবে, কেউ কেউ আমাকে দেখে উচ্চশিক্ষিত বেকার মনে করে। তাদের ধারণা চাকরি না পেয়ে বাধ্য হয়েই ঝালমুড়ি বিক্রি করছি আমি।’

ঝালমুড়ি খেতে আসা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘মাঝে মাঝে শাহবাগ এলাকায় ঘুরতে আসি। সেক্ষেত্রে সুযোগ পেলেই ঝালমুড়ি খেতে আসি এই টাই ঝালমুড়ি মামার দোকানে। মামার ঝালমুড়ি অনেক সুস্বাদু।’ নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভদ্রলোক জানান, অনেকের মুখে এই টাই ঝালমুড়ি মামার কথা শুনেছি। শাহবাগ এলাকা দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করলেও এই ঝালমুড়িওয়ালার কথা খেয়াল থাকেনা। আজ এই পথ ধরে কাজে যাচ্ছিলাম তাই দেখা হলো আবার ঝালমুড়িও খাওয়া হলো।

সংসার জীবনেও বেশ সুখে আছেন জুলহাস। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকেন রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির কাজীপাড়া গলির ১৭/৩ নম্বর বাড়িতে। দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার খরচসহ প্রতিদিন ৫০ টাকা সঞ্চয়ও করেন জুলহাস। এই জমানো টাকা দিয়ে ইতোমধ্যে বাড়িতে একটি ঘর করার কথাও ভাবছেন তিনি। তবে, অনেক আগে থেকেই বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে জুলহাসকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে চাইলেও কখনো কারো কোন সাহায্য নিতে রাজি হননি তিনি। কোনকিছুতে বিন্দুমাত্র লোভ-লালসাও নেই জুলহাসের। শত দুঃখের মাঝেও কখনো ভেঙে পড়েননি তিনি। সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তার নিজ কর্মগুণে।

সরকারের কাছেও কোনকিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই জুলহাসের। তবে, পুলিশ ভাইদের একটু সহ-মর্মিতায় ফুটপাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করেই আজীবন সকলের মাঝে টাই ঝালমুড়ি মামা হয়ে বেঁচে থাকতে চান জুলহাস।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এএস/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!

রাজনৈতিক কড়চায় শফী’র মৃত্যু!


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!

ওসি প্রদীপের বিচার ! রাষ্ট্রের দায়!!


সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত  বন্ধুত্ব

সীমান্ত জটিলতায় চীন-ভারত বন্ধুত্ব


প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ

প্রসঙ্গ:করোনা কালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অমানবিক আচরণ


ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান

ভোটের ঈমান বনাম করোনার ঈমান


কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ


করোনাকালের খোলা চিঠি

করোনাকালের খোলা চিঠি


সিগেরেট স্মৃতি!

সিগেরেট স্মৃতি!


পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট

পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট