Monday, June 27th, 2022
এক যে ছিল কৃপণ শন পোলক!
December 22nd, 2016 at 6:31 pm
এক যে ছিল কৃপণ শন পোলক!

ঢাকা:

ক্রিকেট বৈচিত্রময় খেলা।  খেলাটির উদ্ভব হয় ইংল্যান্ডে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোতে এই খেলা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। অনেক সময় নিয়ে খেলা হয় বলে ফলাফলের বাইরেও ক্রিকেটের মাঠে ঘটে যায় নানা ঘটনা। এমন অনেক ঘটনা আছে যা বছরের পর বছর মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আবার এমনও ঘটনা আছে যা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়, কেউ মনে রাখে না। নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র ক্রীড়া প্রতিনিধি নাহিদ নেওয়াজ হৃদয় পাঠকদের শোনাবেন ক্রিকেটের বিরলতম সব ঘটনা।


১৯৯৫ সালের ৯ জানুয়ারি। সেদিন কেপটাউনের লিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচের খেলা চলছিল। ১০৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন ওই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আঙিনায় পা রাখা এক আনকোরা তরুণ। ৮ নম্বরে নেমে অসামান্য দৃঢ়তায় ৬৬ বলে ৬৬ রানের হার না মানা এক ইনিংস খেলে দলকে এনে দিলেন ৮ উইকেটে ২১১ রানের পুঁজি। জয়ের জন্য এটা বড় কোনো পুঁজি নয় ঠিকই তবে লড়াই তো করাই যায়।

হ্যাঁ, সেদিন বল হাতেও প্রোটিয়াদের হয়ে লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। অ্যালান ডোনাল্ডের সাথে জুটি বেঁধে আগুনঝরা ফাস্ট বোলিংয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ। ৯.৫ ওভার বল করে ৩৪ রানে শিকার করেছিলেন ৪ উইকেট। ১ বল বাকি থাকতেই ইংলিশদের ২০৫ রানে অলআউট করে দিয়ে ৬ রানের দারুণ এক জয় পেয়েছিল প্রোটিয়ারা।

অভিষেকেই ব্যাটে বলে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়া পারফর্ম করা সেই তরুণের হাতেই উঠেছিল ম্যাচসেরার পুরস্কার। তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার শুরুটা হয়েছিল এমনই অসাধারণ। নিশ্চয়ই এতক্ষণে সেই খেলোয়াড়টিকে চিনতে কারো বাকি থাকার নয়। তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন প্রোটিয়া কিংবদন্তী শন পোলক।

  • ২.

১৯৭৩ সালের ১৬ জুলাই পোর্ট এলিজাবেথের একটি স্বনামপ্রসিদ্ধ ক্রিকেট পরিবারে জন্মেছিলেন পোলক। তার ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছিল সেই ছোট্টবেলাতেই। শনের বাবা পিটার পোলক এবং চাচা গ্রায়েম পোলক ছিলেন সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেটের দুজন ‘স্টলওয়ার্ট’। ছোটবেলা থেকেই এমন বিখ্যাত দুজন প্রোটিয়া ক্রিকেট নক্ষত্রের সংস্পর্শে থেকে খুব কাছ থেকে তাদের দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল তার। তাই বলা যায়, যার রক্তে মিশে আছে ক্রিকেট, তিনি আর যাই হোক ক্রিকেটার না হয়ে যাবেন কোথায়!

আজ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে এই ‘পোলক’ পরিবারের মত প্রভাব কেউ বিস্তার করতে পারে নি। শনের দাদু অর্থাৎ গ্রায়েম ও পিটারের বাবা এন্ড্রু পোলকও একজন প্রভাবশালী ক্রিকেটার ছিলেন।

  • ৩.

শন পোলক ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম ফাস্ট বোলার। তার এক্সপ্রেস গতি ছিল না। ছিল না ব্যাটসম্যানের বুকে ভয় ধরানো বাউন্সার কিংবা টো ক্রাশিং ইয়র্কার দেবার ক্ষমতা। খুব বেশি সুইংও করাতে পারতেন না তিনি।

তবে সব বোলারই তার নিজের মতো করে একটা পথ খুঁজে নেয়। ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার পোলকও যথারীতি তাই করেছিলেন। শন পোলকের বোলিংয়ে একটা সহজ সরল ব্যাপার ছিল। লাইন লেংথ ঠিক রেখে একইভাবে বল করে যাওয়া, যেখানে গ্লেন ম্যাকগ্রার সঙ্গে দারুণ মিল ছিল পোলকের। শুধু ম্যাকগ্রা কেন, চামিন্ডা ভাসও অনেকটা একই রকম ছিল। তাদের প্রত্যেকেরই যেটা ছিল সেটা হল বলের লাইন ও লেংথের ওপর অসম্ভব নিয়ন্ত্রণ।

ধারাবাহিকভাবে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বিশেষ করে অফ স্টাম্প করিডোরে একটার পর একটা বল করে যাবার সামর্থ্যে তার ছিল জুড়ি মেলা ভার। গুড লেংথে এক নাগাড়ে বল ফেলে কখনো স্টাম্প লাইনের ভেতরে ঢোকাতেন তিনি আবার কখনো অফ স্টাম্প থেকে কিছুটা বাইরে অ্যাওয়ে মুভমেন্ট হত তার বলে। উইকেট থেকে পাওয়া গতি ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে বলের ল্যাটেরাল সিম মুভমেন্টে ব্যাটসম্যানকে কুপোকাত করাই ছিল তার বোলিংয়ের বিশেষত্ব।

পোলকের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য যে একেবারেই ছিল না তা কিন্তু নয়। ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেকে কার্যকর হিসেবে গড়ে তুলতে উইকেটের আচরণ বুঝে গতির পরিবর্তন, ডেথ ওভারে ইয়র্কার, স্লো অফ কাটার এসব স্কিলও বেশ ভালভাবেই আয়ত্ত করেছিলেন তিনি। পোলকের একটা বৈশিষ্ট্য ছিল যে তিনি ব্যাটসম্যানদের খুব ভাল রিড করতে পারতেন।

নিজের বোলিংয়ের শক্তির জায়গাটায় যেমন জোর দিতেন ঠিক তেমনই নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোও জানতেন তিনি। যেটা পারতেন সবসময় সেটাই ভালভাবে করার চেষ্টা করতেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সীমিত দক্ষতা দিয়ে হাতে গোনা যে সকল বোলার নিজেদের কার্যকারিতার প্রমাণ দিয়েছেন তাদের মধ্যে পোলক ছিলেন অন্যতম সফল একজন বোলার।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মিতব্যয়ী বোলার হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন শন পোলক। ওয়ানডেতে কমপক্ষে ৯০০০ বল করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে ইকোনমি রেটে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গ্রেট কার্টলি অ্যাম্ব্রোসের (৩.৪৮) ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে আছেন শন পোলক (৩.৬৭)। অবশ্য ওয়ানডেতে ৩০০ উইকেট নেয়া বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ইকোনমি রেট পোলকেরই। কিপ্টে বোলিংয়ের জন্য সতীর্থরা তাকে ‘দ্য মাইজার’ উপাধি দিয়েছিল।

১৯৯৮ সালে অ্যাডিলেড ওভালের ফ্লাট ব্যাটিং উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১ ওভার বল করে মাত্র ৮৭ রান খরচায় ৭ উইকেট নিয়েছিলেন পোলক। এটাই ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরমেন্স।

টেস্ট এবং ওয়ানডে দুই ফরম্যাট মিলিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হলেন শন পোলক। প্রথম সাউথ আফ্রিকান এবং বিশ্বের দশম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

  • ৪.

ক্রিকেটে বিশেষ করে পেস বোলারদের জোড়া বেঁধে উইকেট শিকারের একটা চল রয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে পোলক তেমনি জুটি বেধেছিলেন আরেক প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোলাল্ডের সাথে। ডোনাল্ড-পোলক জুটির রসায়নও জমে উঠেছিল বেশ। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ সফল ছিলেন তারা। ‘সাদা বিদ্যুৎ’ নামে পরিচিত ডোনাল্ড এক প্রান্ত থেকে গতির ঝড় তুলতেন। আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা আর ভয়ংকর গতির বাউন্সার দিয়ে ব্যাটসম্যানদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়তেন তিনি। অন্যদিকে নিখুঁত নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাটসম্যানদের রান আটকে চাপে ফেলার কাজটা বেশ সফলতার সাথেই করতেন পোলক।

ডোনাল্ডের পর মাখায়া এনটিনি ও ডেল স্টেইনের সঙ্গেও জুটি হয়েছে পোলকের। একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, তাদের সবার বোলিংই ছিল পরস্পরের থেকে আলাদা ও বৈচিত্রপূর্ণ।

  • ৫.

পোলক পরিবারের মধ্যে শনই ছিলেন ইংলিশ কাউন্টিতে খেলা প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার। কাউন্টিতে ওয়ারউইকশায়ার ও ডারহামের হয়ে খেলেছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বেনসন এন্ড হেজেস কাপের এক খেলায় এজবাস্টনে লেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই দারুণ এক কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের মাত্র দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ‘ফোর ইন ফোর’ অর্থাৎ পর পর ৪ বলে ৪ উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য রেকর্ডের মালিক হয়েছিলেন তিনি।

  • ৬.

ইনিংসের শুরুতে নতুন বলে দারুণ বোলিং করা পোলক লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেও সমান কার্যকরী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে বেশ কয়েকবারই ইনিংসের হাল ধরতে দেখা গেছে তাকে। পোলক খুব ভাল পিঞ্চ হিট করতে পারতেন। অল্প সময়ে দ্রুত রান তোলায়ও বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ক্যারিয়ারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন পোলক।

অভিষেক ওয়ানডেতে খেলা তার ৬৬ রানের ইনিংসটাই এখন পর্যন্ত অভিষেকে ৮ নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড হিসেবে অটুট রয়েছে।

২০০৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশিয়া কাপ সিরিজে ইঞ্জুরড অবস্থায় শন পোলক একজন ‘স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান’ হিসেবে খেলেছিলেন। বেঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এশিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৭ নম্বরে নেমে ১১০ বলে ১৩০ রানের অনবদ্য চোখ জুড়ানো এক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

শুধু সীমিত ওভারই নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি একজন ভাল লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ নামডাক হয়েছিল তার। ৯ নম্বরে নেমে টেস্টে দুটি শতরানের ইনিংস আছে তার। শন পোলকই ইতিহাসের একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি ৯ নম্বরে নেমে একাধিক সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

  • ৭.

ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় এসে বয়সের ভারে বোলিংয়ের ধারটাও বেশ কমে এসেছিল পোলকের। ২০০৬ সালে কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে বোলিং উদ্বোধন করেছিল ডেল স্টেইন-মাখায়া এনটিনি জুটি। তৃতীয় সিমার হিসেবে ম্যাচটি খেলেছিলেন পোলক।

পি সারা ওভালে সেদিন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। জয়াসুরিয়ার হাতে বেধড়ক পিটুনি খেয়ে দিশেহারা পোলক শেষমেশ পেস বোলিং বাদ দিয়ে কিনা শুরু করলেন অফ স্পিন! যেখানে ৩ ওভার পেস বোলিং করে খরচ করেছিলেন ২৫ রান সেখানে ১৪ ওভার অফ স্পিন করে দিয়েছিলেন মাত্র ৩৫ রান! শেষ পর্যন্ত তুমুল উত্তেজনায় পরিপূর্ণ ম্যাচটা এক উইকেটের ব্যবধানে হেরে যায় সাউথ আফ্রিকা!

  • ৮.

দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা সময়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন শন পোলক। নিয়মিত অধিনায়ক হানসি ক্রনিয়ের ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার ঘটনা ফাঁস হবার পর সহ-অধিনায়ক পোলকের কাঁধে ক্যাপ্টেন্সির গুরুভার চাপিয়ে দেয়া হয়। ক্রনিয়ের আজীবন নিষিদ্ধ হওয়ার ওই ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ভিতটাই নড়িয়ে দিয়েছিল। এরকম অনিশ্চয়তায় ভরা কঠিন একটা সময়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করাটা পোলকের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং একটা জব ছিল। তাছাড়া ওই ঘটনার পর অধিনায়কের অনেক ক্ষমতাই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পোলকের কাজ ছিল সবকিছু পেছনে ফেলে পুরো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া। এই দায়িত্ব পালনে তিনি অবশ্য বেশ ভালভাবেই উতরে গেছিলেন।

২০০০ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া পোলক প্রায় তিন বছরের টানা অধিনায়ক জীবনে মোটামুটি সফলই ছিলেন বলা যায়। তবে ২০০৩ সালে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সুপার সিক্সে উঠতে ব্যর্থ হয় পোলকের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের ভরাডুবির দায়ে টুর্নামেন্টের পরপরই তাকে অধিনায়কত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

  • ৯.

এক নজরে শন পোলকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান:

টেস্ট:  ১০৮ ম্যাচে ৩২.৩১ গড়ে রান করেছেন ৩৭৮১। ১৬টি ফিফটি ও ২টি সেঞ্চুরিসহ সর্বোচ্চ ১১১ রান। ২৩.১১ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ৪২১টি। ১৬ বার ইনিংসে ৫ উইকেট ও ১ বার ম্যাচে ১০ উইকেটসহ সেরা বোলিং ৭/৮৭ এবং ম্যাচে ১০/১৪৭।

ওয়ানডে: ৩০৩ ম্যাচে ২৬.৪৫ গড়ে ৮৬.৭০ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৩৫১৯। ১৪টি ফিফটি ও ১টি সেঞ্চুরিসহ সর্বোচ্চ ১৩০ রান। ২৪.৫০ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ৩৯৩টি। ৪ উইকেট ১২ বার এবং ৫ উইকেট নিয়েছেন ৫ বার। ইকোনমি রেট ৩.৬৭ আর সেরা বোলিং ৬/৩৫।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি: ১২ ম্যাচে ১২.২৮ গড়ে ১২২.৮৫ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৮৬। সর্বোচ্চ ৩৬ রান। ২০.৬০ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ১৫টি। ইকোনমি ৭.৬২ আর সেরা বোলিং ৩/২৮।

  • ১০.

শন পোলক ছিলেন আধুনিক ক্রিকেটের সত্যিকারের একজন জেনুইন অলরাউন্ডার। শন পোলকই ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার যার রয়েছে টেস্ট এবং ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই ৩০০০ রান ও ৩০০ উইকেটের যুগলবন্দি! এই অনন্য কীর্তিটি অন্য সবার চেয়ে তাকে আলাদা করে রেখেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা এই কিংবদন্তী অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ বোধ হয় কখনো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে না পারা। ১৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অবশ্য ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাটাও কম লম্বা নয়।

আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে একবার করে টেস্ট এবং ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই সেরা বোলারদের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, একটা সময় তিনি সব সংস্করণের ক্রিকেটেই সেরা অলরাউন্ডারের এক নম্বর জায়গাটি অর্জন করেছিলেন। ২০০৩ সালে ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘উইজডেন’ মনোনীত বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।

২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চিরদিনের মত বিদায় জানান তিনি। যার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের একটি উজ্জ্বল ও স্মরণীয় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।

সম্পাদনা: তুহিন সাইফুল


সর্বশেষ

আরও খবর

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


আলোচনায় কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

আলোচনায় কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা


মহামারিতেও থেমে নেই সংখ্যালঘু পীড়ন

মহামারিতেও থেমে নেই সংখ্যালঘু পীড়ন


বরিশালে সংকটের নেপথ্যে ক্ষমতার সংঘাত

বরিশালে সংকটের নেপথ্যে ক্ষমতার সংঘাত


বিদায় বেলায় কাঁদলেন মেসি, কাঁদালেন বিশ্বকে

বিদায় বেলায় কাঁদলেন মেসি, কাঁদালেন বিশ্বকে


অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস, দুই ম্যাচ রেখেই সিরিজ জয়

অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস, দুই ম্যাচ রেখেই সিরিজ জয়


বঙ্গবন্ধুকে দাফনের আগেই দুই রাষ্ট্রপতি,স্পীকারসহ ২১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়ে যান খুনী মোশতাকের!

বঙ্গবন্ধুকে দাফনের আগেই দুই রাষ্ট্রপতি,স্পীকারসহ ২১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়ে যান খুনী মোশতাকের!


অজিদের বিপক্ষে ফের দাপুটে জয়, নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

অজিদের বিপক্ষে ফের দাপুটে জয়, নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ


টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া ঢাকায়

টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া ঢাকায়


টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতলো বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতলো বাংলাদেশ