Saturday, August 27th, 2016
এবার জিয়ার পালা
August 27th, 2016 at 10:11 pm
এবার জিয়ার পালা

প্রীতম সাহা সুদীপ, ঢাকা: গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার মাস্টার মাইন্ডদের একজন কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরী পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। এখন বাকি রইলেন আরেক মাস্টার মাইন্ড সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা সৈয়দ মো. জিয়াউল হক।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মেজর জিয়া জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন সময় জঙ্গিদের প্রশিক্ষনও দিয়েছেন তিনি। জিয়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের(এবিটি) সামরিক শাখার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি ব্লগার হত্যা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার প্রশিক্ষণে এসব হামলা এত বেশি নিখুঁতভাবে হয় যে, ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিমই (এবিটি) হলো আনসার আল ইসলাম। এ সংগঠনটির সামরিক শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়াউল। সামরিকসহ অন্য প্রশিক্ষণ ও মাঝেমধ্যে মোটিভেশনের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যদের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। এরাই পরে নাম পরিবর্তন করে আনসার আল ইসলাম নামে সংগঠিত হয়েছে। জঙ্গি সংগঠনটি আল কায়েদার মতাদর্শে বিশ্বাসী। সংগঠনটিকে  নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা প্রতিবেদন দাখিল করছি। আশা করছি এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করবে সরকার। এতে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়বে।’

সূত্র জানায়, গত তিন বছরে জিয়াউলের তত্ত্বাবধানে এবিটির অন্তত আটটি স্লিপার সেল তৈরি হয়েছে। প্রতিটি সেলের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে পাঁচজন। সে হিসাবে ৩০ থেকে ৪০ দুর্ধর্ষ ‘স্লিপার কিলার’ তৈরি করেছে জিয়াউল। তারাই ব্লগার, প্রকাশক, মুক্তমনা ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যা করেছে।

এবিটির প্রধান কারাবন্দী মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানী ও পুরান ঢাকার একটি মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ডেন্টের হাত ধরেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেয় সৈয়দ জিয়াউল হক।  মুফতি জসীমুদ্দিন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ধরা পড়ার আগে তিনি একাধিকবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

Zia-00-newsnextbd-

মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানে প্ররোচনা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক। তাকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যম সারির কিছু কর্মকর্তা নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদের জন্য ষড়যন্ত্র করে। তাদের সে ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের জন্য সে সময় যারা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তাদের নেতা হিসেবে পরিচিত এই মেজর জিয়া।

জিয়াকে ধরতে সেই সময় পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকায় জিয়ার শ্বশুর মোখলেছুর রহমানের বাসায় দফায় দফায় অভিযান চালায় পুলিশ। রাজধানীর কয়েকটি স্থানেও জিয়ার খোঁজে চলে অভিযান। কিন্তু আজও ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন তিনি।

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনা সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কিছু সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল। ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর এই চক্রান্ত সেনাবাহিনী জানতে পারে। এ ঘটনার সঙ্গে সেনাবাহিনীর মধ্যম পর্যায়ের ১৪ থেকে ১৬ কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন।

নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকায় সে সময় সেনাবাহিনীর দু’সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- লে. কর্নেল (অব.) এহসান ইউসুফ ও মেজর (অব.) জাকির হোসেন। জব্দ করা হয় এহসানের একটি ল্যাপটপসহ বেশ কিছু জিনিস। এহসানের ল্যাপটপ থেকে অভ্যুত্থান পরিকল্পনার ব্যাপারে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায়।

অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী মেজর জিয়াউল হক তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে বেশ পারদর্শী ছিলেন। তাই সবার সঙ্গে মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগ করতে তাকেই দায়িত্ব দেয়া হয়। এমনকি বিদেশে যেসব প্রবাসী এ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ করতেন জিয়াউল। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর খুনিরা জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অনেকের সঙ্গে মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের যোগাযোগ ছিলো।

মেজর জিয়াউল হকের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নে। তার বাবার নাম সৈয়দ জিল্লুর হক। তিনি সত্তরের দশকে চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে যান। তার বাবা দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি আরবে অবস্থান করেন। জিয়া দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়।

জিয়াউল হক প্রথমে বিয়ে করেন তার মামা বিচারপতি মইনুল হকের মেয়ে লিপিকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০০৭ সালে প্রথম স্ত্রী মারা গেলে তিনি পটুয়াখালীর মোখলেছুর রহমানের ছোট মেয়ে সাফা জোহরাকে বিয়ে করেন। তার শ্বশুর পটুয়াখালী শহরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। শাশুড়ি হামিদা বেগম পটুয়াখালী শহরের শেরেবাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা।

সম্পাদনা- জাহিদুল ইসলাম

 


সর্বশেষ

আরও খবর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত


কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হচ্ছেন ইরফান সেলিম

কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হচ্ছেন ইরফান সেলিম


করোনা: আরও ২৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩০৮

করোনা: আরও ২৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩০৮


সেনাপ্রধান ফেইসবুকে নেই: আইএসপিআর

সেনাপ্রধান ফেইসবুকে নেই: আইএসপিআর


ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন

ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন


করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু


বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক


সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন


দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার