Tuesday, December 27th, 2016
এর জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে: মান্না
December 27th, 2016 at 8:04 am
এর জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে: মান্না

নিউজনেক্সটবিডি:

রাষ্ট্রদ্রোহ ও সেনা উস্কানির অভিযোগে দীর্ঘ ২২ মাস কারাভোগের পর জামিনে মু্ক্তি পেয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। মু্ক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। কেন তাকে দীর্ঘ ২২ মাস কারাভোগ করতে হলো? কী ছিলো তার আপরাধ? শরীরের অবস্থা বা এখন কেমন এসব বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবিনে বসে নিউজনেক্সবিডি ডটকমের সাথে আলোচনা হয় নাগরিক ঐক্যের আহ্ববায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার। তার সাথে কথা বলেছেন নিউজনেক্সবিডি ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার আশিক মাহমুদ।

কেমন আছেন জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না জানান শরীরের একাধিক সমস্যার কথা। তিনি বলেন, “আমার হার্টে দু’টা ব্লক আছে। যে কোন সময় এ্যাটাক হতে পারে। ভয় পেয়েছিলাম যখন জেলে ছিলাম। কারণ সেখানে কোন চিকিৎসা পাওয়া যাবে না। এমনি সমস্যা খুব বেশি না। আমার শরীরে যে সমস্যা তা চিকিৎসা নিলে ঠিক হয়ে যেতো। কিন্তু জেলে থাকা অবস্থায় হাসপাতালে যেয়ে কোন চিকিৎসা পাওয়া যেতো না। এ জন্য হার্ট ও কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। জেলে যাবার আগে কিডনিতে আমার কোন সমস্যা ছিলো না। এখন কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে কতখানি সমস্যা সে বিষয়ে এখনো কিছু জানি না।এছাড়া সারা শরীরে ব্যথা। আর এসিডিটির সমস্যা আছে।”

বিএসএমএমইউ’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মান্না বলেন, “জেলে থাকার সময় একবার চেষ্টা করলাম চিকিৎসার জন্য, ওরা এডমিট করলো না। সে সময় আমাকে পিজিতে এডমিট করা হয়েছিলো। কিন্তু ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা পরিচালক আমার এডমিট প্রপোজাল বাতিল করে দেন। আমি তিনবার কার্ডিয়াক সিসিতে ভর্তি ছিলাম। এমন একজন রোগীকে তিনি ভর্তি হতে দেননি।”

দেশের গণতন্ত্র সুফল কি সাধারণ মানুষ পাচ্ছে জানতে চাইলে মান্না বলেন, “গণতন্ত্র মানে নির্বাচন এমন ধারণা এখনো বাংলাদেশে বিরাজ করছে। আসলে গণতন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা। নির্বাচন তো ক্ষমতার পালা বদল। বাংলাদেশের কারাগারে বিনা বিচারে ১২-১৬ বছর ধরে মানুষ জেল খাটছে। তাদের প্রতি রাষ্ট্রের কি কোন দায়বদ্ধতা নেই? আমাদের সমস্যা গণতন্ত্র মানে নির্বাচন হয়ে গেছে। আমার জীবন থেকে ২২ মাস কেনো কেড়ে নিলো এর জবাব রাষ্ট্রকে প্রথমে দিতে হবে। এ জন্য রাষ্ট্রের যদি কোন দায়বদ্ধতা থাকে তাহলে সেই দায়ভার নিতে হবে। এটা আমার মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার।”

দীর্ঘ ২২ মাস আপনাকে কেনো আটকে রাখা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, “ক্ষমতায় যখন কেউ থাকে সে সময় অনেক ধরণের লবিং কাজ করে। কে কখন কাকে বুঝায়। মূল ক্ষমতা যার কাছে তাকে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য কতজন কতো রকম কথা বলে। কী বোঝানো হয়েছে সেটা আমি জানি না। সেদিন ওবায়দুল কাদের আমাকে বলতে ছিলেন, যে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছনে আমার মুক্তির জন্য আর যেন বাধা দেয়া না হয়। তখন আমি জিজ্ঞেস করতে পারতাম কিন্তু করিনি- যে উনি কী বুঝে এটা বললেন। যেহেতু উনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছেন তাই আমি তাকে বলতে যাই নাই। আইনগত ভাবে বাধা দেয়া যায় এমন কোন বিষয় নেই যেখানে সরকারের তরফ থেকে বাধা দেয়া হয়নি। জামিনে যেন না বের হতে পারি এর জন্য সকল ধরণের চেষ্টা সরকারের তরফ থেকে করা হয়। তারপরও সরকারের তরফ থেকে এমন কথা কেন বলা হয়েছে আমি জানি না।”

স্বাধীনদেশে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবার বিষয়টা কোন ভাবেই ভুলতে পারছেন না ডাকসুর সাবেক এই ভিপি। তাই বার বারই বলছিলেন, “আমার চিকিৎসার জন্য জেলারকে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে সরকারের তরফ থেকে এপিট ওপিট করা হয়েছিলো। কোর্ট তখন বলেছিলেন একজনের চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আপিল করা কখনো দেখি নাই। পরে সেটা কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই সময় আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কিসের ভিত্তিতে আপনারা মামলা দিয়েছেন? তখন তারা বলেছিলেন ইউটিউবে দু’টা কথোপকথনের সিডি রয়েছে। কিন্তু সেটা সাক্ষ্য আদলতে গ্রহণ যোগ্য হয়নি। আর সাক্ষ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য না থাকলে তো মামলা থাকবে না। এটাও আমি আইনগত ভাবে ফেইস করার চেষ্টা করবো।”

মান্না বলেন, “সেনা উস্কানির মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছিলো। কিন্তু সে ১৬৪ এ স্বীকারোক্তি দেয়নি। সেই ব্যক্তিও ছাড়া পেয়েছেন। আমি যদি সেনা উস্কানি দিতাম তাহলে দুই একজন অফিসারের নাম তো বলতে পারতো। আর এখন তো ফেসবুকে পোষ্ট দিলেও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়।” 

হাসপাতালের কেবিনে সোফায় বসে আক্ষেপ নিয়ে অনবরত এসব কথা বলতে থাকেন মান্না। তিনি বলেন, “দেশে প্রচুর পরিমানে অগণতান্ত্রিক ধারা আছে। যা মানুষের ব্যক্তি, মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে। গণতন্ত্রের লড়াই হচ্ছে মানুষ যেন মানুষের মতো বাঁচতে পারে নিজের অধিকার নিয়ে। সেটা বাদ দিয়ে শুধু ভোট হয়েছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র মানে হলো আমার মৌলিক অধিকার। আমি যদি না খেয়ে মারা যাই তার দায়িত্ব তো রাষ্ট্রকে নিতে হবে।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হঠাৎ কেন আপনাকে দেখতে আসলেন জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান বলেন, “ওবায়দুল কাদের ও আমি একসাথে রাজনীতি করেছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার কথা বলেছেন, এটা এভাবে না বলতেও পারতেন। বিএনপির মহাসচিবও আমাকে দেখতে এসেছেন। আমার ভালো লেগেছে তারা এসেছেন। আমার জাগায় অন্য কেউ থাকলে আমিও তাকে এভাবে দেখতে যেতাম।”

কেন বিনা বিচারে মানুষ দিনের পর দিন জেল খাটছে জানতে চাইলে মান্না বলেন, “আমি জেলখানায় দেখলাম ১২ বছর ১৬ বছর বিনা বিচারে অনেকে জেলে রয়েছে। প্রধান বিচারপতি নিজে উদ্যোগ নিয়ে তাদের মুক্তি দিচ্ছেন। তবে তাদের এই ১৬ বছর কেউ ফিরিয়ে দিতে কি পারবে? এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিলো। একটা সরকার নয় এই সময়ে অনেক সরকার ছিলো। কিন্তু কোন সরকার তাদের কাছে ক্ষমা চায়নি। সরকারের তরফ থেকে কী করলে তাদের এই ক্ষতি কিছুটা পূরণ হবে সে কথাও সরকার কাউকে জিজ্ঞেস করেনি। আমি গণতন্ত্রের লড়াইটাকে চরিত্রগত ভাবে বদলে দিতে চাই। গণতন্ত্রের লড়াইটা শুধু ভোটের লড়াই নয়। এটা মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে প্রত্যেককে এই লড়াই করতে হবে। যে লোকটা আওয়ামী লীগ করছে সে হয়তো দলের মধ্যে গণতন্ত্র না থাকার কারণে মৌলিক অধিকার পাচ্ছে না। আমাদের সবার অনুভর করা উচিত মানুষের মতো বাঁচতে পারি, মানুষের মতো রাজনীতি করতে পারি। এসব নিয়ে একটু সুস্থ্য হয়ে কাজ করবো”- বলেন মান্না।’

তিনি বলেন, “মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য রাষ্ট্র যদি তৎপর না হয় তবে মানুষ খুব অসহায় হয়ে যায়। সে যে লেভেল হোক না কেনো। একটা পর্যায়ে এমন হয়েছিলো যে আমি জীবিত না মৃত। আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা। এসব নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। এখন আমরা অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছি।”

সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং

সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত


বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা

বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা


পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির

পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ  উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে

চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে