Monday, November 7th, 2016
‘ওই জালানার পাশে আমি থাকতাম’
November 7th, 2016 at 10:05 pm
‘ওই জালানার পাশে আমি থাকতাম’

ইয়াছিন রানা, ঢাকা: ‘ওই যে তিন তলার বাম পাশের চার নম্বর জালানাটি দেখতে পারছেন ওই জালানার পাশেই আমি থাকতাম।’

নাজিম উদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ঘুরতে আসা আব্দুর রহমান নামের একজন(যিনি এই কারাগারে বন্দী ছিলেন)বন্দীর সঙ্গে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদক এভাবেই তার থাকার স্থানটি দেখানোর চেষ্টা করেন।

আব্দুর রহমান বলেন, এই ভবনের নাম হলো মেঘনা। এখানে মোট ৮টি ওয়ার্ড ছিল। দুই তলা এবং তিন তলায় দুটি করে ওয়ার্ড আর নিচে চারটি। নিচের ডান পাশের যে টিনশেড দেখছেন এটা ছিল মসজিদ।আমি তিন তলার বাম পাশে অবস্থিত ১ নাম্বার ওয়ার্ডে থাকতাম।

আব্দুর রহমান তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্য নিয়ে ঘুরতে এসেছেন কারাগারে। সাথে সাথে তার অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছেন তাদের।

তিনি বলেন, আমি যখন কারাগারে তখন আমাদের ওয়ার্ডের ইনচার্জ ছিল শ্রী যোজ্ঞ নামের এক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। ইনচার্জকে মেট বলা হয়। ওয়ার্ডে বন্দী দুই ধরণের, প্যাকেজ ও ফাইল। আমি ছিলাম প্যাকেজের বন্দী। সাপ্তাহে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে থাকতাম। যারা টাকা দেয় না তাদের কেচকি ফাইলে রাতে ঘুমাতে হত। কেরানিগঞ্জে এমন এখনও চালু আছে কি না জানি না।

আব্দুর রহমান আরো জানান, আমি থাকাকালীন ওয়ার্ডে বন্দী ছিল ২৭৮ জন। সবার জন্য দুইটি টয়লেট। সকালে প্যাকেজের বন্দীদের জন্য এক বালতি পানি রাখা হতো গোসল ও কাপড় ধোয়ার জন্য। আর যারা ফাইলের বন্দী তারা হাউজের পানির জন্য সকালে উঠেই দৌড় দিত গোসলের জন্য। মাঝে মাঝে গোসল করতে পারতো সামান্য পানি দিয়ে আবার পারতোও না।

তিনি জানান, এখন এই হাউজে আপনি যে সুন্দর পানি দেখতেছেন এই পানি আমরা ছেকে গোসল করতাম।দিনে মাত্র এক ঘন্টা পানি সরবরাহ করা হতো।

ওসমান নামের আর এক সাবেক বন্দীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কারাগারে থাকতে তো সব জায়গা দেখা হয়নি তাই এবার দেখতে আসলাম। কারণ ওয়ার্ডের সীমানার বাইরে গেলেই ব্রেকিং ফাইল। ব্রেকিং ফাইল মানেই শাস্তি। তাই পুরো কারাগারটা ঘুরে দেখার জন্য আসলাম।

তিনি আরো বলেন, এখন যে শান্ত কারারক্ষীদের দেখতে পাচ্ছেন এদের ক্ষমতা একেক জন মন্ত্রীর চাইতে বেশি দেখাতো।আর এই যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আমরা হাটার সময় দেখে দেখে হাটতাম বন্দীদের কফের কারণে আর মাছি তো ছিল অগণিত।

এক সাপ্তাহের কারাগার প্রদর্শনীর মাধ্যমে কারাগার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার অনেকটাই সুযোগ হয়েছে।অনেকেই এখানে এসে সেলফি তুলে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করেছেন।এছাড়া কারাগারে এসে সাবেক বন্দীরা নিজের সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলো স্মরণ করছেন।

সম্পাদনা: জাহিদ

 


সর্বশেষ

আরও খবর

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ


আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই


করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু

করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু


করোনায় আক্রান্ত শচীন

করোনায় আক্রান্ত শচীন


নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান

নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান


শুক্র ও শনিবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে

শুক্র ও শনিবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে


মতিঝিলে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, শিশুবক্তা রফিকুলসহ অন্তত ১০ জন আটক

মতিঝিলে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, শিশুবক্তা রফিকুলসহ অন্তত ১০ জন আটক


ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর