Monday, February 24th, 2020
করোনাভাইরাসঃ সংক্রামণ বাড়ছে ২৯ দেশেই, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬১৯
February 24th, 2020 at 3:45 pm
কভিড-১৯ রোগে প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্বজুড়ে মহামারী পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- ডাব্লিউএইচও
করোনাভাইরাসঃ সংক্রামণ বাড়ছে ২৯ দেশেই, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

চীনে একদিনে আরও ১৫০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। চীনের বাইরেও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছেভ। দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিতে আংশকাজনক হারে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, কভিড-১৯ রোগে প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্বজুড়ে মহামারী পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- ডাব্লিউএইচও।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) চীনসহ করোনা আক্রান্ত দেশগুলোর দৈনিক সরকারি প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ২ হাজার ৬১৯ জনে, যার মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে চীনের বাইরে। আর বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ছুঁইছুঁই করছে বলেও নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা এএফপি ও সিএনএন।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, রোববার চীনে মোট ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে নতুন এ করোনাভাইরাসে, মৃত্যুর ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে হুবেই প্রদেশেই। চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৫৯২ জনে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, রোববার দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৪০৯ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যে সংখ্যা আগের দিন ছিল ৬৪৮। এতে করে সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ১৫০ জনে। আর চীনসহ ২৯টি দেশ ও তিনটি অঞ্চল মিলিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৯ হাজার ৩৫৬ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

রোববার চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আরও আটজনের মৃত্যু হওয়ায়, সব মিলিয়ে চীনের বাইরে  মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭ জন। এর মধ্যে ইরানে আটজন, দক্ষিণ কোরিয়ায় সাতজন, জাপানে চারজন, ইতালিতে তিনজন, হংকংয়ে দুইজন এবং ফিলিপিন্স, ফ্রান্স ও তাইওয়ানে একজন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাস নিয়ে বেশ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত শনিবার ‘সংক্রামক রোগজনিত সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করার পরদিন দেশটিতে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায় যে, রোববার সেখানে নতুন করে ১৬১ জন ভাইরাসটির সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। করোনাভাইরাস জনিত রোগ কভিড-১৯ -এ দেশটির চেওংদো একটি হাসপাতালে এদিন ৬২ বছর বয়সী আরেক পুরুষ রোগীর মৃত্যু হওয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ার কভিড-১৯ রোগে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (কেসিডিসি) তথ্যানুযায়ী, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ১১৫ জন দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর দায়েগুর একটি গির্জা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন, সেখানে ’রোগী ৩১’ নামে পরিচিত ৬১ বছর বয়সী এক নারী প্রার্থনায় যোগ দিয়েছিলেন পরে যার শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। দেশটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রধানত চেওংদো কাউন্টি ও নিকটবর্তী দায়েগু শহরেই ছড়িয়েছে। এই দুটি এলাকাকে ‘স্পেশাল কেয়ার জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে, দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে প্রাদুর্ভাব কীভাবে ছড়িয়েছে তার প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষগুলো; কেননা ‘রোগী ৩১’ এর সাম্প্রতিক বিদেশ ভ্রমণের কোনো রেকর্ড নেই।

মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস মানুষের দেহে এসেছে- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। এ রোগের কোনো প্রতিষেধকও মানুষের জানা নেই।  আক্রান্ত রোগীদের লালা ও শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে চীনা বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, নভেল করোনাভাইরাস যেভাবে ছড়াচ্ছে, তাতে সার্সের চেয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার সঙ্গেই এর মিল পাওয়া যাচ্ছে বেশি। আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও সহজে এবং দ্রুত গতিতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সার্স ও মার্স ভাইরাসের মতোই করোনাভাইরাস পরিবারের নতুন এই সদস্যের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নভেল করোনাভাইরাস’; আর এই ভাইরাসের সংক্রমণে ‘ফ্লু’ সদৃশ্য উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯।

সংক্রামণ শুরুর হবার পর প্রথম মাস খানিক নোভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ চীন ভূখন্ডের মধ্যেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই চীনের বাইরেও বিভিন্ন দেশে দ্রুত বাড়তে থাকে নোভেল-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালি ভাইরাস উপদ্রুত এলাকাগুলো অবরুদ্ধ (কোয়ারেন্টাইন) করে ফেলার মত কঠোর ব্যবস্থা নিতেও শুরু করে। সবশেষ সোমবার থেকে করোনা আক্রান্ত ইরানের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্ক তাদের সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে দেয়।  কিন্তু এতোসব পদক্ষেপেও মৃত্যুর মিছিল থামছে না।


সর্বশেষ

আরও খবর

কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রাখা ব্যক্তি শনাক্ত

কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রাখা ব্যক্তি শনাক্ত


কুমিল্লার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দ্রুতই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দ্রুতই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ


দেবীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড নিছক দূর্ঘটনা: ইউএনও

দেবীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড নিছক দূর্ঘটনা: ইউএনও


সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যে আক্রান্ত ২৩ জেলা

সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যে আক্রান্ত ২৩ জেলা


ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ

ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ


ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু


পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড


মিরপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার

মিরপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার


কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী