Wednesday, April 15th, 2020
করোনায় ফসল কাটতে খেমজুরের সংকট নিরসনে করনীয়
April 15th, 2020 at 2:39 pm
করোনায় ফসল কাটতে খেমজুরের সংকট নিরসনে করনীয়

রুহুল আমিন;

“লাগলে মাথায় বৃষ্টি বাতাস/উল্টে কি যায় সৃষ্টি আকাশ”!

১৩ এপ্রিল নিউজ পেপারে পেলাম নাটোরের বাগাতি পাড়ায় খেতেই গম পুড়ে ফেলেছে কৃষক। কারন ফলন ভালো হয় নি আর এতে বিঘাপ্রতি ৬/৭ হাজার টাকা লোকসান। ভীষন মর্মাহত হলাম। এত কষ্টের সোনা ফসল এভাবে নষ্ট হলো আর কৃষি দপ্তর কিছুই করতে পারলো না!

যাই হোক আজকের মুল প্রসঙ্গ ফসল কাটাতে ক্ষেত মজুরের সংকট নিয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি দিন। করোনার করুন পরিস্থিতিতে খেত মজুরের অভাবে ফসল কাটার জন্য সারা দেশের কৃষক দিশেহারা।

কারো ঘরে আগুন লাগলে কিংবা ডাকাত পড়লে সেটা দিনের বেলায়ই হোক আর রাতের বেলায়ই হোক ঘুমসহ সব কাজকর্ম বিসর্জন দিয়ে মানুষ ঝাপিয়ে পড়েন পানি, লাঠি, সোটা হাতে। অনেকের মৃত্যু ঝুঁকিও থাকে এবং মৃত্যুবরন করেনও। এখানে দল মত ধর্ম বর্ন গোত্র ভেদাভেদ থাকে না। সবাই যোদ্ধা। বন্যা, মহামারিতেও এরাই এগিয়ে আসেন। এটা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি। কেন মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে নেই? নিরস্ত্র বাঙ্গালীরা কিভাবে বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানী সশস্ত্র হায়ানাদের উপর?

নার্গিস, আইলা, সিডরে মানুষ কি ঘুমিয়ে ছিল! কোন জাতি, কোন দল, কোন ধর্মের, কোন পেশার লোক অংশগ্রহন করেন নাই বা করেন না!কে বাদ ছিল?

আজ অমানিষার ঘোর অন্ধকারে কৃষক কুল সব কিছু থেকেও যেন সর্বহারা। আতঙ্ক ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা। আপনি এবং আপনার চারিধারে যারা আছেন উপদেষ্টা হিসাবে তাছাড়া সকল দলের বিজ্ঞজন, বুদ্ধিজীবিগন, সাধারন জনগন সকলেই চিন্তিত। বিভিন্ন শ্রেনী পেশার পরামর্শকগন একটাই পরামর্শ দেন যে ফসল কাটার এই মৌসুমে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় মজুরদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যাবস্থা করা। তারা আরও পরামর্শ দেন মজুরকালীন সময়ে কিভাবে একজন মজুর নিজেকে করোনা থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

আমার মাথায় চক্কর মারে এসব কথা শুনে। কারন আমি মনে করি এসব যুক্তি সময়ক্ষেপন ও অর্থ ব্যায়ের নিছক নিরর্থক যুক্তি। আপনি কি ভাবেন বা কি পদক্ষেপ নিবেন আমি জানি না। তবে আমি মনে করি এর জন্য একটা সহজ উপায় বের করা দরকার। আর সেটা পারে রাষ্ট্রীয় একটা মাত্র আদেশ এবং কিছু উৎসাহমুলক পদক্ষেপ। আর তা হোল ঘরে আগুন লাগলে, ডাকাত পড়লে, যুদ্ধ লাগলে উপরে উল্লেখিত লোকজনই এগিয়ে আসেন এবং সকল এলাকাতেই এসব লোকই এখনো বসবাস করেন। তারা এখন সবাই করোনার কারনে কর্মহীন এবং হোম কোয়ারেটাইনে আছেন। তারা কেন স্বেচ্ছায় ঝাঁপিয়ে পড়েন না এবং ঝাঁপিয়ে পড়তেও কেন আদেশ দেন না বা উৎসাহিত করেন না! ওনাদের মধ্যে অনেকেই সংস্থার নামে, ব্যাক্তি নামে, বেনামে, ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি করে সরকারের নিকট থেকে বিশাল অংক কামিয়েছেন এবং এখনও কামান, ভবিষ্যতেও কামাবেন। ডাকাতি, ছিনতাই করেও বহু লোক জীবিকা চালায়। তাদেরকে বলুন প্রত্যেক এলাকায় কৃষি বা মজুরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন লোককেও ফসল কাটতে মাঠে নামতে হবে। ফসল কাটতে টেকনিক্যাল শিক্ষা লাগে না। লাগে শুধু একটা কাস্তে। এখানে জীবন সংশয়েরও ঝুঁকি নেই। শুধু মাত্র রোদ বৃষ্টিতে একটু কষ্ট হবে।

মুক্তিযোদ্ধারা যদি এর চেয়ে হাজারগুন কষ্ট সহ্য করে, না খেয়ে, আরাম আয়েস ছেড়ে, জীবনকে বাজী রেখে দেশ স্বাধীন করতে পারেন তাহলে এলাকার লোকজন কেন এই ছোট কাজটা করতে পারবে না! এটাও একটা যুদ্ধ। এখানে যুদ্ধের মত তো জীবন যাত্রায় ভয়াবহ কোন অনিয়ম নেই, নেই খাবাবের কোন ভাবনা! তাহলে কেন ওনারা নামবেন না! সরকারী লোকজনতো ২৫ মার্চ দুপুরের মধ্যেই উধাও। এলাকায় চলে গেছেন। প্রায় ২০/ ২২ দিন বসা। এদের ভিতরে যারা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা আছেন তাদেরকেই দায়িত্ব দিন এই কাজটি সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করার। তারপরেও একটা জিনিস প্রয়োজন। আর তা হোল তাদেরকে প্রয়োজনীয় ইনসেন্টিভ দিতে হবে। মানবিক এই কাজের জন্য একটা সনদ দিতে হবে। কেবল তাহলেই এ সকল লোকজন উৎসাহিত হবেন এবং কৃষক দুশ্চিন্তামুক্ত থাকবেন। সোনার ফসল ঘরে আসবে। সব মানুষের জীবন বাঁচবে।

করোনায় চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত সকল ব্যাক্তিই কিন্তু খেয়ে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে, জীবনকে সংশয়ের মধ্যে রেখে যুদ্ধ করছেন। এটা চলমান জ্বলন্ত উদাহরন।


সর্বশেষ

আরও খবর

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ


করোনাকালের খোলা চিঠি

করোনাকালের খোলা চিঠি


সিগেরেট স্মৃতি!

সিগেরেট স্মৃতি!


পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট

পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট


দাদন ব্যাবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী ঠেকাও

দাদন ব্যাবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী ঠেকাও


করোনায় যা যা করা যেতে পারে

করোনায় যা যা করা যেতে পারে


প্রানের জন্য ত্রান

প্রানের জন্য ত্রান


খালিদী এবং তার আন্তর্জাল সাংবাদিকতা

খালিদী এবং তার আন্তর্জাল সাংবাদিকতা


বিদায় মুক্তিযোদ্ধা খোকা

বিদায় মুক্তিযোদ্ধা খোকা


আমারে নিবা মাঝি!

আমারে নিবা মাঝি!