Tuesday, April 14th, 2020
করোনায় যা যা করা যেতে পারে
April 14th, 2020 at 12:11 am
করোনায় যা যা করা যেতে পারে

রুহুল আমিন;

করোনা – অকাজের মেধাবী মনু্ষ্য নির্মিত একটা বৈশ্বিক মহামারির দুর্যোগ – যা নিঃসন্দেহে প্রাকৃতিক দুর্যোগককেও হার মানিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, মহামারী, ভুমিকম্প, সুনামী সাধারনত বড় জোর একটি অঞ্চল, একটি দেশের কিয়দাংশ কিংবা পুরো একটি দেশ সর্বোচ্চ পাশাপাশি দু’একটি দেশ জুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা ধ্বংস হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ বা সংস্থা সহযোগিতার মানবিক হাত বাড়ানোর সুযোগ পায়।

কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ এক যোগে একই আকারে করোনার মত সারা দুনিয়ায় হানা দিয়েছে এমন কোন দৃষ্টান্ত আমার জানা নাই। এই কারনেই এক দেশ আর এক দেশকে কিংবা বিভিন্ন সংস্থা কাঙ্খিত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসতে পারছে না। কারন তারাও আজ আরও বেশী ভয়ংকর রকম ক্ষতিগ্রস্ত। সাধ্য থাকলেও সযোগিতা দুরুহ। করোনায় সারা দুনিয়ার আট’শ কোটি মানুষের ঘুমই কেড়ে নিয়েছে। বিজ্ঞানও হতবিহ্বল, স্তম্ভিত। যে যার মত বাঁচার চেষ্টা করছেন। অতএব এটা পরিষ্কার এখন থেকেই এমনি করেই সকল ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হতে ব্যাক্তি কিংবা রাষ্ট্রের।

বিশ্বব্যাপী এই যুদ্ধে একমাত্র যোদ্ধা হিসাবে বোদ্ধাগন শুধু ডাক্তার, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স অর্থাৎ মেডিকেল ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট লোককেই দেখছেন এবং প্রাধান্য দিচ্ছেন। সুযোগ সুবিধা বাড়ানোরও যুক্তি তুলে ধরছেন এবং বাড়ানোও হচ্ছে। কিন্তু আমি দেখছি রাস্তা পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত কর্মীসহ সবাই যোদ্ধা। কারন উল্লেখিত যোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আরাম আয়েস ছেড়ে কাজ করে যাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু অন্যান্য জনতাও যে আয়েস আছে তা কিন্তু নয়। অন্ততপক্ষে সবাই আতঙ্কিত তো।

যাই হোক, যোদ্ধারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন পেটে দানা পানি পড়ছে নিরলস যু্দ্ধ করে যাচ্ছেন। শিল্প কলকারখানা সুবিধার আওতায় আসছে। কিন্তু তাই বলে অনাহারী লোকজন সামান্য ত্রানেরও সুবিধা পাবে না! বাংলাদেশে হয়তো দু’কোটি লোক অর্থাৎ ৫০ লক্ষ পরিবার হঠাৎ নেমে আসা তান্ডবে অনাহারী। পরিবার প্রতি মাত্র মাসে ৬ হাজার টাকা করে দিলে মাসে মোট ৩ হাজার কোটি টাকার ত্রান দেয়া সম্ভব। কিন্তু কেন এটা পারা যাচ্ছে না, কেন? করোনা মুলত মানবের শরীর থেকেই শরীরে ছড়ায় এটা নিশ্চিত। তাহলে মানুষগুলোকে নিয়মনীতির মধ্যে আনতে হবে। সচেতন করতে হবে। বেত্রাঘাত করে নয় কৌশলে। যতদিনে এটা পারা না যাবে আর যতদিনে নিরাময়যোগ্য ঔষধ বের না হবে ততদিনে শৃঙ্খলার মধ্যে চলার কোন বিকল্প নাই। কিন্তু বহু লোক এই রোগের নাম শুনেছে কিন্তু করনীয় কি তা জানে না।

দ্রুত গতিতে যা যা করা যেতে পারে তা হল –

১। লক ডাউন শতভাগ কার্যকর করতে হলে অন্ততপক্ষে ৫০ লক্ষ পরিবারকে পরিবার প্রতি কমপক্ষে ৬ হাজার টাকা করে হলেও, ঘরে ঘরে ত্রান পৌঁছে দিতে হবে।

২। প্রত্যেক পাড়ায় মহল্লায় হাট বাজারের, গ্রামে গঞ্জের মোড়ে মোড়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চৌকি বসাতে হবে যাতে লোকজন অকারনে জড়ো বা চলাফেরা করতে না পারে। শুধু মাইকিং করে চলে গেলেই চলবে না এবং ঐ সব মোড়ে মোড়ে প্রজেক্টরের সাহায্যে বড় পর্দায় নিয়মনীতিগুলোর নিয়মিত প্রচার চালাতে হবে।

৩। দেশে ১৮ কোটি মানুষ প্রত্যেককে চেক আপ বা পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।

৪। দেশে মোট থানা কমবেশী ৬৫০ টি। প্রত্যেক থানায় গড়ে দু’ লাখ ৭৭ হাজার লোকের বাস। প্রত্যেক থানায় ৫০ জন ডাক্তার নিয়োজিত করলে মোট ডাক্তার লাগে ২৬ হাজার ৫ শ জন। চেক আপের জন্য প্রত্যেক ডাক্তারের ভাগে পড়ে ৫ হাজার ৫ শ ৪০ জন লোক। দেশে ডাক্তার সংখ্যা মোট ১ লাখ। এক্ষেত্রে ছাত্রদের প্রশিক্ষন দিয়ে শুধু চেক আপের জন্য দ্রুত তৈরী করতে হবে।

৫। চেক আপের পর করোনা বহনকারী ও সম্ভাব্য আক্রান্তকারী আলাদা করে প্রয়োজীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কিটসহ চেক আপ সংক্রান্ত সব উপকরন ঠিক থাকলে এ কাজটি করতে সর্বোচ্চ ১ মাস লাগার কথা।

অতএব এর কোন বিকল্প দেখি না।

রুহুল আমিন


সর্বশেষ

আরও খবর

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ

কালের হিরো খন্দকার খোরশেদ


করোনাকালের খোলা চিঠি

করোনাকালের খোলা চিঠি


সিগেরেট স্মৃতি!

সিগেরেট স্মৃতি!


পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট

পাঠকের-জনতার ‘মিটেকড়া-ভীমরুল’ এবং একটি পর্ট্রেট


দাদন ব্যাবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী ঠেকাও

দাদন ব্যাবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্বভোগী ঠেকাও


করোনায় ফসল কাটতে খেমজুরের সংকট নিরসনে করনীয়

করোনায় ফসল কাটতে খেমজুরের সংকট নিরসনে করনীয়


প্রানের জন্য ত্রান

প্রানের জন্য ত্রান


খালিদী এবং তার আন্তর্জাল সাংবাদিকতা

খালিদী এবং তার আন্তর্জাল সাংবাদিকতা


বিদায় মুক্তিযোদ্ধা খোকা

বিদায় মুক্তিযোদ্ধা খোকা


আমারে নিবা মাঝি!

আমারে নিবা মাঝি!