Monday, April 20th, 2020
করোনার দিনলিপি ২০২০
April 20th, 2020 at 1:57 pm
করোনার দিনলিপি ২০২০

কাজি ফৌজিয়া;


আজ অন্য সকালের মত কোন মৃত্যু সংবাদ দিয়ে শুরু হয়নি। পরিবারের লোকজনের খবরাখবর নিতে মেসেঞ্জারে কল করি বাংলাদেশ-আমেরিকা-ইউকে মিলিয়ে ৭ জন ছিলাম।পারিবারিক ভাবে আলোচনা করলাম আত্মীয়-স্বজন আর পরিচিতদের মধ্যে কে কে খারাপ অবস্থায় আছে আর আমরা কি করতে পারি।
করোনাকালে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে গ্রূপ-কলে কথা বলা যেন এক ধরনের মানসিক থেরাপি, অস্থির সময়ে প্রযুক্তি এনেছে স্বস্তি! বেলা সারে বারটায় রেজা ভাই আর ভাবি কল দিয়ে বললেন যে এক বাংলাদেশী ভাই মারা গেছেন আমি যেন সাপোর্ট করি ফিউনারেল এর জন্য। খোঁজ নিয়ে জানলাম উনার দাফন হয়ে গেছে। রেজা ভাই আর একটি বিষয় নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন তা হল জ্যাকসন হাইটস এর আইটি বিজনেসম্যান সোহাগ কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। “আজ তার স্ত্রীও মারা গেছেন আর ছোট দুইটি বাচ্চা সিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রা নিয়ে গেছেন।”
আমি কথাটি শুনে বললাম উনার স্ত্রী ভাল আছেন – আর যতদূর জানি বাচ্চারা খালার কাছে আছে। ভাই বললেন আমি লিঙ্ক পাঠাচ্ছি আপনি দেখেন ,- আমি ফেইসবুকে দেখলাম অসংখ্য পোস্ট! আবার কিছু পোস্টে দেখলাম – না বাচ্চাদের মা অসুস্থ তিনি ঘরেই আছে তবে বাচ্চারা তাদের আত্মীয়দের কাছে আছে।-


আমার বন্ধু শামিম ও আমার মেম্বার ডালিয়া কল করে বলল “আমারা খবর টি শুনে ভীষণ কান্নাকাটি করেছি এই ভেবে যে ঐ ছোট বাচ্চারা মা-বাবা ছাড়া কেমন করে বাঁচবে।”
ফেইসবুকে ও অনেকেই অনেক কষ্টের কথা লিখেছেন ; আর সারা সোশালমিডিয়া জুড়ে ইন্নালিল্লা। গত কিছুদিন দেখছি কে বা কারা একজন জীবিত মানুষ কে নিয়ে “মারা গিয়েছে” “ইন্নালিল্লাহ” – পোস্ট দেয় আর একদল মানুষ না জেনে শেয়ার করতে শুরু করে।এমন কত পোস্ট যে আমাদের ভুল প্রমাণিত করতে হয় ।
আমার প্রশ্ন হল মহামারির এমন ক্রান্তিকালে মানুষ যখন এমনিতেই প্যানিক সময় পার করছে তখন তাদের আরও প্যানিক না করলেই কি নয়?

দিন বাড়ার সাথে সাথে অনেক বাংলাদেশীর ভাই-বোনের মৃত্যু সংবাদ আসতে শুরু করে। অন্যদিনের মত আজও অনেক কল পেলাম যাদের খাদ্য সহযোগিতা লাগবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে করোনার চেয়ে যেটা বড় প্রব্লেম আমাদের সামনে তা হল রুটি রুজি বিহীন মানুষের খাদ্য সমস্যা।


নিউ ইয়র্ক সিটির তরফ থেকে স্কুল গুলিতে প্রতিদিন সকল শ্রেণীর মানুষকে খাবার দেওয়া হচ্ছে নানান জায়গায় ফুড পেন্ট্রি ও চালু হয়েছে কিন্তু আমাদের দেশী মানুষজন স্কুলে বা ফুড পেন্ট্রির লাইনে যাচ্ছেন না, এর কারণ হতে পারে সামাজিক লজ্জা বা দেশী খাবার দেওয়া হয় না। সিটির পক্ষ থেকে বয়স্কদের জন্য রান্না করা খাবার ও পাঠানো হচ্ছে। বার বার প্রচার করা হচছে কোথায় খাবার পাওয়া যায়। আমাদের মত করে অনেক দেশীয় সমিতি সংগঠন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এগিয়ে এসেছে খাদ্য সামগ্রীর সহযোগিতা নিয়ে। রমজান মাস সবাই চেষ্টা করছে মুসলিম কমিউনিটি কে সহযোগিতা করতে।
আমি চিন্তা করছি এত বড় একটি দেশে সরকারি সাহায্য পেয়েও এই হাল, তাহলে বাংলাদেশের মত দেশের কি হাল? আরেকটি চিন্তা হল সবাই তো আমরা আমেরিকা নিয়ে চিন্তিত কিন্তু কেউ কি ভেবেছে এই রমজান মাসে প্রবাসীরা লক্ষ লক্ষ টাকা রেমিটেন্স পাঠায় দেশে আত্মীয় স্বজনদের রোজা ও ঈদ পালনের জন্য – যাকাত দেয়ার জন্য।এইবার রোজায় প্রবাসীরা নিজেরাই কষ্টে আছেন , তারাই টিকে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন – তারা তো তেমন কোন টাকা পাঠাতে পারবে না তাহলে দেশের আত্মীয় স্বজন রা কেমন করে বাঁচবে। আর যাকাত না পেলে গরিব মানুষরাই বা কেমন করে বাঁচবে। করোনা নামক অণুজীব তো শুধু জীবন ই কেড়ে নিচ্ছে তা নয়, বিশ্বব্যাপী তৈরি করছে ভয়াবহ বেকারত্ব, খাদ্য সংকট।


আজ আর একটি খবরের উপর সামাজিক মাধ্যম সরব ছিল তা হল মিশিগান গভর্নরের লক ডাউন আদেশ এর বিরোধিতা করে হাজার হাজার ট্রাম্প অনুসারীরা মিছিল করেছে।বিক্ষোভকারিরা নানান রকমের সাইন ফেস্টুন ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ করে,তাদের বক্তব্য তারা আর ঘরে থাকবে না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা খবরের ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় প্রতিবাদ-কারীরা মাস্ক বা গ্লাভস ব্যবহার করেনি। উলটো তারা একে অপরকে চকোলেট ক্যান্ডি বিতরণ করছিল।


তাদের বক্তব্য তাদের ঘরে বসে থাকবে না তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। সকল ব্যবসাই এসেন্সিয়াল নামক সাইন ও তারা বহন করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মানুষ মরে যায় যাক তবু ইকনমি সচল থাকুক বক্তব্যর পক্ষে এমন বড় সমাবেশ খুবি চিন্তার বিষয়।ফেইসবুকে যারা কাওরান বাজার আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছবি দেখে অনেক কষ্ট পেয়েছিল এই ভেবে যে বাংলাদেশের মানুষের অশিক্ষা বা কুশিক্ষার কারণে এমন হয়েছে তবে মিশিগান কে দেখে আপনারা কি বলবেন?
তাই ত আমি বলি অসচেতন বা অতিরিক্ত ভাগ্য ভরসা-কারী সব দেশেই আছে।করোনা যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে তখন ও কিছু অ-সেচতন মানুষ হাজার হাজার মানুষ কে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

১৯/০৪/২০২০

লেখক: মানবাধিকার কর্মী


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন ২১ জনের মৃত্যু

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন ২১ জনের মৃত্যু


ডিসেম্বরের মধ্যে দেওয়া হবে ১০ কোটি টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে দেওয়া হবে ১০ কোটি টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


করোনায় সারাদেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু

করোনায় সারাদেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু


বিমানবন্দরে শুরু হলো করোনার পরীক্ষামূলক পরীক্ষা

বিমানবন্দরে শুরু হলো করোনার পরীক্ষামূলক পরীক্ষা


করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, চার মসে সর্বনিম্ন

করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, চার মসে সর্বনিম্ন


করোনায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু


প্রতি মাসে ২ কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার

প্রতি মাসে ২ কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার


করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে

করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে


এপ্রিলের মধ্যে দেশে ২৪ কোটি ডোজ টিকা আসবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এপ্রিলের মধ্যে দেশে ২৪ কোটি ডোজ টিকা আসবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২০৭৪

করোনায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২০৭৪