Saturday, November 5th, 2016
কর্কট অথবা কুম্ভের কবিতা: জিনাত জাহান খান
November 5th, 2016 at 10:47 am
কর্কট অথবা কুম্ভের কবিতা: জিনাত জাহান খান

কর্কট অথবা কুম্ভের কবিতা

১.

দক্ষিণ পাড়ায় শ্মশানঘাটে, চারুগুল্ম ভরা অসংখ্য খাঁদ আছে।  প্রায়শই একজন মানুষ এসে বসে, প্রাণীদের চলার শব্দে দুলে ওঠে যখন তখন। জানেনা ভেলকিবাজি। ক্ষুধাকে নাশকতা মেনে পেটে চালান করে সে।  কবি ভেবে কবিতা শুনতে চাইলে, দ্রুত প্রস্থান ভঙ্গিতে হাত পেতে কিছু মুদ্রা চেয়ে রাখে। মুখে হাসি, হাতের তালুতে তামাক লুকানো কাগজ।  জানে কী সে,  কর্কট না কুম্ভ! আমাদের পাড়ায় হিজল গাছে, কসমিক গানে, শ্যামা পাখি নাচে। দীপাবলি রাতে, রাখাল হাসে…

২.

ছুটি আসছে সামনে।  তুমি যেতে চাও পাহাড়ে, সেদিন ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি সময়ে বলেছিলে, ডাক নাম ধরে ডাকবে আমাকে, দুই পাহাড়ের মাঝে গিয়ে। তার প্রতিধ্বনিতে অন্যান্য সহজিয়া শ্লোক কেঁপে উঠবে। আমি কিন্তু চূড়ায় যাবো, মেঘ থেকে নেবো, ধানি রঙ। স্নানোৎসব হবে পাহাড় থেকে নেমে কিছুদূর এগিয়েই গাঢ় জঙ্গলে। যখন মুখোমুখি হবো, এইসব চিন্তার সমর্থনে পাতাদের দুলুনি দেখবো। কোথাও ঢাকের কাঠি নেচে উঠলো, শরত এলো কী! ফুল ফুটে আছে, কিছুক্ষণ পরেই ঢলে পরবে।

৩.

সকালে আলো হাসে, হাসতে হাসতে গড়ায়…হাঁটু মুড়িয়ে পাঁচ আঙুলে চেপে। গান গাবো, দেবদারু বনে, আকাশ কাঁদছে, ঝড় হবে, আকাশের গড়িমায় বাজ পড়বে, পাহাড় ছুঁয়ে ঢল নামবে। আমি তুমি, তুমি আমি আজ আলো হবো, এই ভোর থেকে আরেক ভোর…

৪.

প্রত্নবিদের গান শুনেছিলে ? ভাষাহীন খননের দীর্ঘ সময়ে , পুরোনো পাথরগুলো ভেঙে ভেঙে কিছু সুর বেজে উঠেছিল ,  ইতিহাস হয়ে যাওয়া রূপোর বাক্সে রাখা হরিতকী ফলে । ঝুরঝুরে পাথর ও বালির নিচে , শ্যাওলা জমে নি , শুধু না দেখা বজ্রকীটে কুরে খেয়ে গিয়েছে সময় । তুমি তার ব্যাথা বুঝেছিলে ? গানের খননে ? ফলটির?

৫.

জ্যোৎস্নার আস্তাবলে ঘোটকীরা দেখে , এক বৃদ্ধ সহিস তার ছেঁড়া তানপুরা নিয়ে একা বসে আছে । মাঝে মাঝে , স্মৃতি বিস্মৃতির মত সেই তানপুরার নিটোল শরীরে , দুহাত বুলিয়ে সে ছেঁড়া ফাটা সুর তোলে , শূন্যে ভাসায় । মসৃন ঘোটকীরা সেই সুরে শূন্যে ভেসে যায় ।

৬.

এই ফুল, লজ্জ্বার আড়ালে ঢাকা , কুড়ি থেকে আলোয় ফুটেছে । ঝরে যাবে কালকেই । তার আগে , অনীশ্বর ফুলের চাদর আমি পেতে দেব তোমার দরগায় । দুই খন্ড মাংস নিয়ে আমার কোনও গর্ব বা অহংকার নেই । নেই লজ্জ্বাও । অসহায় জীবনের তোমার প্রথম খাদ্য  ঝরেছিল নহর হয়ে।

৭.

আর ঠিক অমন ভাবাবেগ নেই, যতটা নিয়ে তারা দূরত্ব দেখেন। সাদাসিধে সে, রাত গভীরে দরজা খুলেদক্ষিণমুখী দাঁড়ায়, ভেবেছিলো বেশ ক’বার। বেড়াতে যাবে শীত এলে…কুয়াশা ও পাহাড়, কানটুপী কিনে রেখেছে গোটা দশেক। অর্শব্যথা ভুলে গিয়ে কাঁচা মাংস খায়! তাকে বলেছি, তাদের কবিতা পড়েন , বোধ ও ব্যক্তি মাঝের দৃশ্যটুকু পাবেন। সে হাসে, বলে, ফসল পেকেছে মাঠে, যেকোনো দিন কেটে আনতে যাবো।

 


সর্বশেষ

আরও খবর

৭২-এর ঝর্ণাধারা

৭২-এর ঝর্ণাধারা


করোনায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু


বইমেলায় আলতামিশ নাবিলের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’

বইমেলায় আলতামিশ নাবিলের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’


নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


ক্রোকোডাইল ফার্ম

ক্রোকোডাইল ফার্ম


সামার অফ সানশাইন

সামার অফ সানশাইন


মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে