Wednesday, February 28th, 2018
কাক সরিয়ে মহানগরীর দখল নিয়েছে মশা
February 28th, 2018 at 10:23 am
কাক সরিয়ে মহানগরীর দখল নিয়েছে মশা

মাসকাওয়াথ আহসান, মশারা প্রথমে বিমানবন্দর দখল করে একটি বোয়িং উড়িয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কতৃপক্ষ তাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলে; মশারা শর্ত দেয়; মহানগরী থেকে কাকেদের আধিপত্য সরাতে হবে।

কতৃপক্ষ অনেক অনুনয় বিনয় করেন, কাকেরা তো আমাদের কথাই শোনে না। সম্মানিত লোকের উপস্থিতিতে কাকদের অন্তর্দলীয় কোন্দলের কা-কা রবে সভা ভন্ডুল হয়ে যায়। আপনারা যদি পারেন দখল নেন। নিষেধ করছে কে!

মশারা গিয়ে লাইভ টেলিভিশন টকশোতে ঢুকে পড়ে। কোন বক্তা সুন্দর করে গুছিয়ে মিথ্যা বললেই মশা গিয়ে পায়ে কামড় দেয়। খুব অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যায় বক্তারা। কোন বক্তা কাউকে তেল দিয়ে কথা বললেই, মশা গিয়ে কানের কাছে বলে, অন্যরে তেল না দিয়া এরপর নিজের পায়ে তেল দিয়া আইসেন।

একদল মশা গিয়ে দখল করে কয়েল কোম্পানী। ম্যানেজারকে ঘিরে ধরে বলে, আগের চেয়ে বেশী ফাঁকি দিয়া কয়েল বানাবেন। একটু সুস্বাদু করবেন, যেন আমরাও কয়েলে কামড় দিয়া টেস্ট পাই।

মরটিন-এরোসল কোম্পানী দখল করে মশারা সাফ সাফ জানিয়ে দেয়, আগের চেয়ে পানি বেশী দিবেন। দরকার হইলে একটু ঘুমের ওষুধ গুলে দেবেন; মানুষ যেন পড়ে পড়ে ঘুমায়। এইসব মরটিন-এরোসল কেনা লোকেদের চর্বি পুরু হয়; শুঁড় দিয়া রক্ত নিয়া আসতে সময় লাগে। তাই ঘুমের ওষুধটা মাস্ট।

মশারা গিয়ে দখল করে বইমেলা। কোন লেখক নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ পুশ সেল করার জন্য হা করে অনুরোধ করা মাত্র মশা ঢুকে যায় মুখে। কোন রোমান্টিক গ্রন্থ প্রণেতা ভক্ত তরুণীকে প্রেম নিবেদনের সময়; মশা তরুণীর কানের কাছে গিয়ে বলে, এই দিয়া এই লোক আইজ মোট চারজনরে প্রেম নিবেদন করলো। অমনি তরুণী কেটে পড়ে।

কোথাও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনে কেউ বেশী বিশেষণ ব্যবহার করে কোন লেখককে আকাশে তুলে দেবার চেষ্টা করলেই মশারা হুল ফুটিয়ে এমন কান্ড করে যে বক্তাকে তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে হয়। কোন লেখক দৌড়ে গিয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে প্রগলভ হয়ে বাইট দেবার চেষ্টা করলেই মশা এসে বাইট দিয়ে দেয়।

মশারা যেহেতু বিমানবন্দরের বোয়িং উড়িয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম; তাই তারা কোন মোটিভেশনাল স্পিকারকে বা বডিগার্ড-অলা হুজুরকে হেলিকপ্টারে করে ওয়াজ-নসিহত করতে যেতে দেখলেই একযোগে হামলা করে হেলিকপ্টার উড়িয়ে নিয়ে মধুপুরের বনের মধ্যে রেখে আসে। মোটিভেশনাল স্পিকাররা দমে যায়। সিদ্ধান্ত নেয়, যা করার ফেসবুক লাইভেই করতে হবে। কিন্তু বডিগার্ড-অলা হুজুরেরা ফতোয়া দেয়, এইসব মশা কতল করা ওয়াজিব।

হুজুরের ভক্ত-আশেকানরা সারাদিন মশা-মারায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকারের কাছে “মশার বিনিময়ে খাদ্য” (মবিখা) প্রকল্পের আবেদন জানায় হেলিকপ্টার হুজুর। ভোটের আগে হুজুরদের খুশী রাখা বাঞ্চনীয়। তাই প্রকল্প অনুমোদন হয়ে যায়।

মশারা তখন সরকারের নীতি-নির্ধারকদের পিছে লেগে যায়। সরকার উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য মশা মারার ব্যাট আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ক্রয় কর্মকর্তা দলবল নিয়ে মশা-মারার ব্যাট কেনার জন্য স্পেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে; মশারা তার কান ঘিরে ধরে বলে, ব্যাট কিনতে চীনে যান। এতে মশাও মরবে না; ব্যাটও ভাঙ্গবে না।

একজন খ্যাতিমান ব্যাংক উদ্যোক্তা মশার মহানগরী দখলের প্রেক্ষিতে বলেন, এই মশাগুলোর দেশপ্রেমের ঘাটতি রয়েছে। এদের জন্য আমার বই পড়া বাধ্যতামূলক করা হোক।

এটা শুনে অর্থমন্ত্রীর দুঃশ্চিন্তা হয়। উনার বই পড়ে আবার মশারা একযোগে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা উড়াইয়া নিয়ে গেলে বিপদ। এমনিতেই বিভিন্ন ব্যাংকে যথেষ্ট অর্থ-ঘাটতি রয়েছে।

মশার কামড়ে নগরবাসী অতিষ্ট হয়ে ওঠে। জনগণের সমালোচনার মুখে সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, আবহমান কাল ধরে মশা রয়েছে। মশার কাছ থেকেই মানুষ প্রথম সুরের ধারণা পেয়েছে। সেই থেকেই গান-বাজনার প্রচলন। মশাতো শিল্পেরই অংশ।

পুরবাসী এরপর আকুল হয়ে মশার গান শুনতে থাকে। কাকেরা খুবই ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে। অনেক কাক আক্ষেপ করে বলে, কেন যে মশার মত কন্ঠে সুর নিয়ে জন্মালাম না!

লেখক: ব্লগার ও প্রবাসী সাংবাদিক


সর্বশেষ

আরও খবর

ফেসবুক ভেরিফাইড হলেন আলতামিশ নাবিল

ফেসবুক ভেরিফাইড হলেন আলতামিশ নাবিল


জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আলতামিশ নাবিলের ‘লুমিয়ের থেকে হীরালাল’

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আলতামিশ নাবিলের ‘লুমিয়ের থেকে হীরালাল’


দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস


করোনা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কবিতা

করোনা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কবিতা


পাথর সময় ও অচেনা বৈশাখ

পাথর সময় ও অচেনা বৈশাখ


৭২-এর ঝর্ণাধারা

৭২-এর ঝর্ণাধারা


বইমেলায় আলতামিশ নাবিলের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’

বইমেলায় আলতামিশ নাবিলের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’


নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


ক্রোকোডাইল ফার্ম

ক্রোকোডাইল ফার্ম


সামার অফ সানশাইন

সামার অফ সানশাইন