Tuesday, September 20th, 2016
কারাবন্দীদের অর্থদণ্ড দিতে অনুমতি লাগবে না
September 20th, 2016 at 6:58 pm
কারাবন্দীদের অর্থদণ্ড দিতে অনুমতি লাগবে না

ঢাকা: কোনো আদালতে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড একত্রে আরোপ করা হলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির প্রতিনিধি বা নিকটাত্মীয় আরোপিত অর্থ কারা ভোগ শেষ হওয়ার পূর্বে বা পরে যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী  ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। রায় প্রদানকারী আদলত যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলায় বা আসামি যে জেলার কারাগারে রয়েছেন সেই জেলার ব্যাংকে।

কারাদণ্ড ও অর্থ আদায়ের দণ্ড পাওয়া কোনো আসামির কারাভোগ শেষে মুক্তি সহজ করার জন্য সার্কুলার(নির্দেশনা) জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

নির্দেশনা অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের স্বজনরা বিচারিক আদালতের অনুমতি ছাড়াই সংশ্লিষ্ট জেলার ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অর্থ দণ্ড পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থ দণ্ড পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট চালানের কপি সরাসরি কারা কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করবে। কারা কর্তৃপক্ষ অর্থ দণ্ড পরিশোধের বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে বন্দিকে মুক্তি দেবেন এবং বিষয়টি বিচারিক আদালতকে অবহিত করবেন।

দায়রা জজ আদালত বা /সমপর্যায়ের আদালত ১-২১৪১-০০০০-১৯০১, চিফমেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসি ১-২১০৭-০০০০-১৯০১, চিফ ‍জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি ১-২১০৮-০০০০-১৯০১।

ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সাজা প্রদানের পাশাপাশি অনেক সময় অর্থ দণ্ড আরোপ করে থাকে। ওই অর্থ দণ্ড পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে আদালত আসামিকে অনাদায়ে এক বছর, ছয় বা এক মাস অথবা স্বল্প মেয়াদে বিভিন্ন দণ্ড দিয়ে থাকে। ওই দণ্ড ভোগের পরেই আসামি কারামুক্তি পেয়ে থাকেন।

কিন্তু অর্থ দণ্ড পরিশোধ করতে পারলে আসামিকে অনাদায়ের দণ্ড ভোগ করতে হয় না। এ কারণে মূল দণ্ড ভোগের শেষ মুহূর্তে এসে তা পরিশোধ করে থাকেন আসামির স্বজনরা। এজন্য কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বজনদের বিচারিক আদালতে পাঠিয়ে থাকেন।

কারাবন্দীদের অর্থদণ্ড পরিশোধ সহজ করার বিষয়ে  মঙ্গলবার সার্কুলার নং ০৫-২০১৬ নির্দেশনা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে (কারা ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত) সার্কুলার জারি করেছেন।

হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এই সার্কুলারের অনুলিপি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেল-কর্তৃপক্ষসহ (আইজি প্রিজন), দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সব কারাগারের জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের  কাছে পাঠানো হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত সার্কুলারে আরো বলা হয়, রায় প্রদানকারী আদালত যে জেলায় অবস্থিত বা যে জেলার কারাগারে আসামি অবস্থান করছেন, সেই জেলার ওই ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে এই অর্থ জমা দেয়া যাবে। এই সার্কুলার জারির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভার অনুমোদন নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারণ জরিমানা আদায় সংক্রান্ত কারাবিধির ৫৩৩ ধারায় বলা আছে, ‘কারা তত্ত্বাবধায়ক অথবা কারা পরিদর্শক জরিমানার অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ জরিমানা প্রদানের জন্য কারাবন্দির প্রতিনিধি বা আত্মীয়স্বজনকে জরিমানার নির্দেশ প্রদানকারী আদালতে পাঠাবেন।’ এর ফলে বন্দিদের স্বজনদের বিচারিক আদালতের অনুমতি নিয়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অর্থ দণ্ড পরিশোধ করতে হত। যার ফলে স্বজনদের অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হত।

গত জুলাই মাসে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পরিদর্শনকালে জরিমানা আদায়ের এই পদ্ধতি সহজ করার জন্য প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে অনুরোধ করেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন আহমদ। পরে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট বরাবর এ বিষয়ে চিঠি লেখার জন্য আইজি প্রিজনকে পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল বরাবর একটি চিঠি লেখেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বন্দিরা অনেক সময় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পেরে কারাদন্ড ভোগ করেন। এতে কারাবাস দীর্ঘায়িত হয়। এর ফলে কারাগারের জায়গা খালি হতে সময় লাগে এবং সরকারেরও ব্যয় বাড়ে। এরপরই প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের রেজিষ্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করে দেন।

ওই কমিটি প্রচলিত বিধানের পরিবর্তে জরিমানা প্রদানের বিষয়টি কিভাবে আরো সহজ করা যায় তার সুপারিশ করেন। ওই সুপারিশ গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুল কোর্ট সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে অনুমোদন দেয়া হয়। এরপরই মঙ্গলবার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।

ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত হয়েছে যে সাধারণত অর্থদণ্ডসহ কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা বিধি অনুযায়ী দণ্ড ভোগ করাকালীন মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে অথবা শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড পরিশোধে আগ্রহী হন। বিদ্যমান জেল কোড এর বিধান অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর অর্থদণ্ড সরাসরি পরিশোধের সুযোগ না থাকায় সাজাপ্রাপ্ত অধিকাংশ বন্দির প্রতিনিধি বা নিকটাত্নীয়দের পক্ষে আদালতে গিয়ে অর্থদণ্ড পরিশোধ করা সহজসাধ্য হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হয়। মামলার নথি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। ক্ষেত্রভেদে ঊর্ধ্বতন আদালতে নথি পাঠানোর কারণে তা সংশ্লিষ্ট আদালতে সংরক্ষিত থাকে না। এসব কারণে সহজে অর্থদণ্ড পরিশোধ করা সম্ভব হয় না।

আবার দণ্ডপ্রদানকারী আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি দূরবর্তী ভিন্ন কোন জেলার কোনো কারাগারে আটক থাকলে বা তাঁর আত্মীয়স্বজন দূরে বসবাস করলে অর্থদণ্ড পরিশোধ কষ্টসাধ্য, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এসব জটিলতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বন্দিরা সময়মতো অর্থদণ্ড পরিশোধ করতে না পেরে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করেন। ফলে কারাবাস দীর্ঘায়িত হয়। সরকারের ব্যয় বাড়ে এবং কারাগারে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।

এ কারনে কোন আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড একত্রে আরোপ করা হলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির প্রতিনিধি অথবা নিকটাত্নীয় সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকে (রায় প্রদানকারী আদালত যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার বা জেলার কারাগারে আসামি অবস্থান করছেন সেই জেলার ব্যাংকে) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা করতে পারবেন।

প্রতিবেদক- ফজলুল হক, সম্পাদনা- জাহিদুল ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার


অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর

অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর