Monday, July 18th, 2016
কিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ
July 18th, 2016 at 8:59 pm
কিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ

দেলোয়ার মহিন, ঢাকা: ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজকে সংক্ষেপে বলা হয় ঢাকা কলেজ। ঐতিহ্যবাহী এই কলেজ ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুলাই সোমবার উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেব প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে ১৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ।

এই বিষয়ে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোয়াজ্জম হোসেনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি নিউজনেক্সটবিডি ডটকম প্রতিবেদককে বলেন, কিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ? এই দিনে ঢাকা কলেজের কোনো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী না বলে দাবি করেন তিনি। তাহলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন এই প্রতিষ্ঠানের (ঢাকা কলেজ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কবে তা আমার জানা নেই। তবে আমি জেনে পরে বলতে পারবো।

তবে কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে আমরা ২০ নভেম্বর পালন করে থাকি। কিন্তু সঠিক ভাবে কলেজের প্রতিষ্ঠার দিন অধ্যক্ষের জানা নেই বলে জানান তিনি।

ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য কলেজের সকল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষে কাছে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন আজকে কিসের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আজ কোনো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী না। এমনটাই বলে শিক্ষার্থীদের পাঠিয়ে দেন।

একই ভাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সম্পর্কে অধ্যক্ষর কাছে জানতে চাইলে তিনি তাদের না করে দেয়। তিনি বলেন, এই দিনে ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তবে নেতা কর্মীদের ঠিক রাখতে তাদের মিষ্টি খাওয়ানো হয়।

এদিকে, উইকিপিডিয়াতে কলেজের প্রতিষ্ঠার তারিখ ১৮ জুলাই ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দ উল্লেখ্য করা থাকলেও তা অস্বীকার করছেন ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোয়াজ্জম হোসেন।

তিনি বলেন, যেখানে যেখানে এই তারিখ দেয়া আছে তা ভুল। আমরা এই তারিখ পরিবর্তন করবো।

সকল শিক্ষার্থী চেয়েছিল আজ ক্যাম্পাস সাজবে নববধূর সাজে। দলবেঁধে সবাই আসবে প্রিয় ক্যাম্পাসে। সকাল থেকেই নবীন-প্রবীণের মিলনমেলায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠার কথা ছিল। নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে থাকার কথা। যে যার মতো বাদ্যযন্ত্র বাজাতো। সব মিলিয়ে উত্সব আর কোলাহলমুখর থাকার কথা ছিল কলেজ ক্যাম্পাস। তবে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো কলেজের সকল শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করছে। যে-যার মতো আড্ডায় মেতে আছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে কারোর মধ্যে ওভাবে কোনো আনন্দের ছাঁপ নেই।

জানা যায়, ১৮৩০-এর দশকে সরকার এক শিক্ষানীতি গ্রহণ করে এবং সে নীতিমালায় যে শিক্ষানীতির প্রচলন হয়, তা মূলত পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষা নামে পরিচিতি পায়। পরবর্তীকালে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ এপ্রিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন  লর্ড বেন্টিকের নিকট একটি প্রতিবেদন পেশ করে, তখন থেকেই শুরু হওয়া বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী যা বর্তমানে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলনামে পরিচিত।

এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতে একদিকে যেমন বদলে যেতে থাকে সমাজের সামগ্রিক চালচিত্র, তেমনি শিক্ষার্থীদের মানসসম্মুখে পাশ্চাত্যের কলাবিদ্যা, বিজ্ঞান এবং দর্শনকে উন্মোচিত করে। শিক্ষা এবং সমাজব্যবস্থার এ ইতিবাচক পরিবর্তনে সেসময়ের গভর্নর জেনারেল লর্ড অকল্যান্ড এবং জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কতগুলো কেন্দ্রীয় কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ব্যয়ের কথা উল্লেখ এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা তার যথাযথ অনুমোদনসাপেক্ষে ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী স্কুলকে একটি কলেজে বা একটি আঞ্চলিক উচ্চতর ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়, যার নাম দেয়া হয় ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ বা সংক্ষেপে ঢাকা কলেজ।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/ডিএম/জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস


শিক্ষা ক্যাডারের সংলাপ: পিছিয়ে রাখা চলবে না

শিক্ষা ক্যাডারের সংলাপ: পিছিয়ে রাখা চলবে না


আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর


শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির এক বছর

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির এক বছর


দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু

দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!

তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!


সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?