Friday, April 17th, 2020
কোভিড-১৯: স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার সঙ্কট কাটছেই না!
April 17th, 2020 at 12:49 pm
কোভিড-১৯: স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার সঙ্কট কাটছেই না!

বিশেষ প্রতিনিধি;

ঢাকা: “ডা. মঈনের অকাল মৃত্যু এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ভোগান্তি ‘ফ্রন্ট লাইনে’ কাজ করা সকল ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মনোবল ভীষনভাবে দুর্বল করে দেবে,” বলেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের এক চিকিৎসক। ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আরেক চিকিৎসক বলেন, “সরকার শুধুমাত্র ডাক্তারদের লাশ দিয়ে এই ঝড় সামাল দিতে চাচ্ছে। কিন্তু লাশ দিয়ে কি বাঁধ দেওয়া সম্ভব?”

সিলেটের করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ টিমের সদস্য ডা. মঈনের দেহে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল ৫ এপ্রিল। দুই দিনের মাথায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সিলেটে ‘ভেন্টিলেটর’, পরবর্তীতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে না পেয়ে ৮ এপ্রিল তিনি নিজ উদ্যোগে ঢাকায় আসেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার থেকে বুধবার মৃত্যুর আগে অবধি তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘লাইফ সাপোর্টে’ ছিলেন।

মৃত্যুর পর দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে তাঁকে “জাতির জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রথম কোভিড যোদ্ধা” আখ্যা দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “ফাঁকা বুলির ‘সাউন্ড গ্রেনেড’ মেরে মেরে তারা নেত্রীকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বিভ্রান্ত করেছেন। আমাদেরসহ (চিকিৎসক) পুরো জাতিকেও বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বিচার করলেও তাদের এই অপরাধের পাপ মোচন হবে না।”

“আমরা দেরী করে ফেলেছি। এই মুহুর্তে মহাহারী পরিস্থিতি ঘোষণা করা উচিত,” বলেন ডা. ইকবাল।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পুরো দেশকেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. ইকবাল আরো বলেন, “আমরা প্রথমে বর্ডার সিল করতে পারিনি। বিদেশ থেকে যারা আসলো তাদের বিচ্ছিন্ন বা সঙ্গনিরোধ করতে পারলাম না। এরপর যখন আমরা ছুটি ঘোষণা করলাম তখন মানুষ ট্রেনে-লঞ্চে-ফেরীতে গাদাগাদি করে বাড়িতে গেল। তারপরে গার্মেন্টস কর্মীদের ঢাকায় ডেকে আনা হলো – আবার ফেরতও পাঠানো হলো। তারাও গাদাগাদি করেই এসেছে-গিয়েছে।”

বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিশেয়ন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদেরও দাবি, সরকার যথা সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণেই করোনা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিউজনেক্সটবিডিকে তিনি বলেন, “এখন এটাকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই তবে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তাঁদের বাঁচাতে চাইলে মানসম্মত পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম) দিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”

সরকার তিনমাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বললেও তা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) মুখপাত্র ডা. নিরুপম দাস। তিনি জানান, সরকারি ডাক্তাররা যে কোনও মানের পিপিই পেলেও বেসরকারি হাসপাতালে যারা চাকরি করছেন তারা কিছুই পাচ্ছেন না। তাদের জোর করে পিপিই ছাড়াই রোগীকে দেখানো হচ্ছে।

“চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে তারাও এটা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন ডাক্তার ডিউটি শেষ করে গেলে আরেকজন ডাক্তার তাঁর পিপিই-টি ব্যবহার করছে,” নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন তিনি।

ঢামেক হাসপাতালের চিতিৎসকও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, “প্রতিটা রোগী দেখার সাথে একবার করে পিপিই বদলানোর নিয়ম। কিন্তু আমরা জীবনে পিপিই পেয়েছিই একবার। তাছাড়া হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা সংক্রান্ত ট্রেনিং নাই। যে কারণে তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।”

মহামারির শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া ডব্লিউএইচও-র প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস শুক্রবার বলেছেন, “কিছু দেশে ১০ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা যখন ঝুঁকিতে থাকেন, আমরা সবাই তখন ঝুঁকিতে।”

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি কোভিড চিকিৎসায় নিয়োজিতদের আত্ম-সুরক্ষা নিশ্চিত করে রোগীদের সেবা দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, “অনেক সময় নিরাপত্তা সামগ্রী পড়লেও খোলার সময় যথেষ্ট সাবধান বা সতর্ক থাকা হচ্ছে না। কিন্তু জীবনুমুক্ত অবস্থা ওটাকে ‘ডিসপোজ’ করাও আমাদের দায়িত্ব।”

এর আগে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, যেসব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমা বাবদ ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।  দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা, যা মৃত্যুর ক্ষেত্রে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

চিকিৎসা সেবাকর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে স্বাচিপ সভাপতি নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “ইতিহাস বলে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা কখনও ভীতসন্তস্ত্র হয়ে পিছিয়ে যায়নি। তবে ইউকে, ইউএসএ, ইতালি, জার্মানি বা স্পেনের মতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিবিড় পরিচর্যা বা চিকিৎসা ব্যবস্থপনার আওতায় আনার মতো সক্ষমতা যে আমাদের নেই, সেটা বিশ্বাস করতে হবে।” 

“মন্ত্রী, ডিজি কেউ আমাদের (চিকিৎসক নেতাদের) কিছু জিজ্ঞেসও করছে না। আমরা উপযাজক হয়ে সাহায্য করে যাচ্ছি,” উল্লেখ করে ডা. ইকবাল আরো বলেন, “আমি আশা করবো, মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ড শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির দাবি, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসহ পুরো সরকার দেশের সকল চিকিৎসক, নার্সদের পাশে রয়েছে।”


সর্বশেষ

আরও খবর

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ


করোনা: আরও ২৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩০৮

করোনা: আরও ২৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩০৮


ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন

ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন


করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু


বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক


সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন


দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার


করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের

করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের


শিশু ধর্ষণের মামলায় দ্রুততম রায়ে আসামির যাবজ্জীবন

শিশু ধর্ষণের মামলায় দ্রুততম রায়ে আসামির যাবজ্জীবন