Friday, September 9th, 2016
কোরবানির গরমে পুড়ছে মসলার বাজার
September 9th, 2016 at 7:05 pm
কোরবানির গরমে পুড়ছে মসলার বাজার

দেলোয়ার মহিন, ঢাকা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে সকল ধরনের মসলার দাম। মুদিপণ্যের বাজারও অস্থির।কয়েকদিনের ব্যবধানে ভারতীয় হলুদের মূল্য কেজিপ্রতি ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়। প্রতি কেজি আদা ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। রসুনের (দেশি) মূল্য কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি ভারতীয় এলাচ (মান ভেদে) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ভারতীয় জিরার কেজিপ্রতি মূল্য বাজার ৭০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়। ইরানি জিরা ৫০ টাকা বেড়ে ৩৮০ টাকায় ও টার্কিশ জিরা ২০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

bazar-mosla-3কেজিপ্রতি সরিষা ৬৫ থেকে ৮০ টাকা, পাঁচফোড়ন ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, জায়ফল খোসা ও বিচি ছাড়া এক হাজার টাকা, খোসা ও বিচিসহ ৮০০ টাকা, দারুচিনি ২৭০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়, গোলমরিচ (কালো) ৮৫০ টাকা ও গোলমরিচ (সাদা) বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪৮০ টাকায়।

কারওয়ান বাজার মসলা ব্যবসায়ী খলিল জানান, পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও খুচরা বাজারের চাহিদা বাড়ায় মূল্য কিছুটা বেড়েছে।

একই বাজারে মসলা কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, সারা বছর মসলার মূল্য স্থিতিশীল থাকলেও কোরবানির ঈদ এলেই তা বেড়ে যায়। কারণ কোরবানির মাংসের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো মসলা।

 এদিকে রাজধানীর মুদিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। যা গত এক সপ্তাহ আগে আদা বিক্রি হতো ৭০ টাকায়। রসুনের (দেশি) দাম কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, আমদানি করা রসুন ১৮০ টাকা এবং মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩৮ ও ভারতীয় ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের দাম রয়েছে আগের মতোই।

বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মূল্য বেড়েছে বলে জানান ডিম ব্যবসায়ীরা। ২০ টাকা বেড়ে ৪৮ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন,  বাজারে দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিমের চাহিদা বেশি থাকলেও এর সরবরাহ কমে হওয়ায় বাজার চড়া।

bazar-mosla-2কাঁচাবাজার ঘুরে  দেখা গেছে, প্রতিকেজি শসা ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৩০ টাকা, গোল বেগুন ৪০ টাকা, শিম ৩০  টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা,  আলু ১৫ টাকা, গাজর  ২০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, উস্তা ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেঁপে  ২০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, ক্যাপসিক্যাম ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, প্রতিটি ফুলকপি ৫০ টাকা, সবুজ ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ১০০ টাকা ও লাউ ৩০ টাকা, জালি কুমড়া ২৫ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এবং প্রতিহালি কাঁচকলা ৩০ টাকা ও লেবু ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, বাজারে লালশাক, লাউশাক, ডাটা  পুঁইশাকের আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং লেটুস পাতা প্রতিটি ১৫ টাকা, পুদিনাপাতা ১০০ গ্রাম ২০ টাকা, ধনেপাতা প্রতি ২৫০ গ্রাম ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা, আমদানি  পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকা, চায়না বড় রসুন ৭০ টাকা, দেশি রসুন ৬০ টাকা, একদানা রসুন ১০০ টাকা, চায়না আদা ২৮০ টাকা, আমদানি আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, শুকনা মরিচ ১৬০ টাকা  থেকে ১৭০ টাকা, মরিচের গুঁড়া ২২০ টাকা, ধনিয়া ৭৫ টাকা, দারুচিনি ৩০০ টাকা, এলাচি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, জিরা ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, ভেশন ৫০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১০৫ টাকা, ভারতীয় মশুর ডাল ৭০ টাকা, খেসারি ডাল ৪২ টাকা, মুগ ডাল ১২৫ টাকা, ছোলা ৫০টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪০ টাকা, মাসকলাই ১শ টাকা,  খোলা চিনি ৪৪ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫২ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন খোলা ১১৫ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন ১১৯ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৪  টাকা, লতা আটাশ ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, মোটা চাল ৩৫ টাকা, জিরা নাজির ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা, চিনি গুড়া ১০০ টাকা, পারিজা ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর-২৮-৪৪ টাকা, বিআর-২৯-৪২ টাকা, হাসকি ৪২ টাকা, স্বর্ণা ৩৫ টাকা থেকে ৩৬ টাকা, লাল বিরই ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজারে দেখা গেছে, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের বেশি প্রতিহালি ইলিশ ৫ হাজার  টাকা। এককেজি ওজন এবং তার বেশি ওজনের ইলিশের হালি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, জাটকা ইলিশ ১০০০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা, চায়না পুঁটি ১৩০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, চিংড়ি (বড়) ১ হাজার ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২৩০ টাকা, সিলভার কার্প ১৩০ টাকা, শিং মাছ ৮৫০ টাকা, বজরি টেংরা ৩৫০ টাকা, নলা মাছ ২৫০ টাকা, আইড় মাছ ৭০০ টাকা, কার্ফু মাছ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিবেদন: দেলোয়ার মহিন, সম্পাদনা- জাহিদুল ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার


অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর

অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর