Monday, September 12th, 2016
ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের ঈদ ভাবনা
September 12th, 2016 at 5:27 pm
ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের ঈদ ভাবনা

কবিরুল ইসলাম, ঢাকা: ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশী। প্রত্যেক মুসলামনাই চান নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে। রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা প্রতিটি মানুষের কাছে ঈদের দিনটা অন্যরকম এক ভালো লাগার। নিজের পরিবার ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চান সবাই। ক্রীড়াঙ্গনের তারকা খেলোয়াড়রাও এর বাইরে নন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ইভেন্টের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ছুটি নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন পরিবারের সাথে ঈদ উৎসব পালন করতে। ঈদ উল আযহাকে সামনে রেখে সবাই ব্যস্ত পশু কেনায়। কেউ কেউ কিনেছেন, কেউ আবার কিনবেন। ক্রীড়াঙ্গনের তারকারা ঈদের ছুটিটা কে কিভাবে কাটাবে সেটাই জানাযাক এবার।

জাহিদ হোসেন (ফুটবল):

আমার বাবার ক্যান্সার তা তো জানেন। ওনার কেমোথেরাপি চলছে। সামনে আরেকটা দেয়া হবে। বাবা এখন কিছুটা সুস্থ। বাবাকে নিয়ে মা ভাই বোন মিলে টাঙ্গাইলে ঈদ করব। ঈদের পশু ইতিমধ্যে কেনা হয়ে গেছে। আসলে ঈদের আনন্দ এবার তেমন হবে না। বাবা সুস্থ থাকলে হয় তো অন্যরকম একটা ঈদ হতো। তারপরও ঈদের দিন নামাজ পড়ব। পশু কুরবানী দেব। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হবে। এরপর সামনে প্রিমিয়ার লিগ খেলা আছে। ঈদের ছুটি খুব বেশিদিনের নয়। ১৫ তারিখ ঢাকায় ফিরে এসে ক্যাম্পে যোগ দেব। কারণ ২০ তারিখ থেকে আমাদের ক্লাব চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলা আছে। সব মিলে ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই ঈদ পালন করব।

মো. তকলিস আহম্মেদ (ফুটবল):

জাতীয় দলের এ উইঙ্গার ইনজুরিতে আছেন তিনমাস ধরে। তাই ঈদের ছুটি আলাদাভাবে নিতে হয়নি তাকে। ইনজুরির কারনে নিজ ক্লাব চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়েও মাঠে নামতে পারছেন না। তাই মন খুব একটা ভালো নেই তকলিসের। তবে খুশীর খবর হচ্ছে আগামি দেড় মাসের মধ্যেই ফের মাঠে নামতে পারবেন তিনি। ইতোমধ্যে রানিং ও জিম শুরু করে দিয়েছেন। ইনজুরির সাথে যুদ্ধ করলেও ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে বাজার থেকে বড়সর একটা গরু কিনে ফেলেছেন। কোরবানীতো দিতেই হবে। ঈদ উল আযহার মহাত্মইতো পশু কোরবানীতে- জানালেন তকলিস। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের দিন সময় কাটাবেন বিকাল পর্যন্ত। আর বিকেলের পর বন্ধুদের সাথে ছুটবেন মোটরসাইকেলে চড়ে।

মাজহারুল ইসলাম হিমেল (ফুটবল):

সারা বছর খেলা বলেন কিংবা অন্য কারণ ঢাকাতেই বেশি থাকা হয়। ব্যস্ততার কারণে জন্মস্থান কিশোরগঞ্জে খুব একটা যাওয়া হয় না। যেতে চাইলেও পারি না। খুব খারাপ লাগে। সেখানে আমার মা থাকেন। ভাই-বোনেরা আছেন। ঢাকায় স্ত্রী থাকেন। জাতীয় দলে থাকলে তখন ক্যাম্পের ব্যস্ততা। ক্লাবে থাকলেও খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। পরিবারকে খুব একটা সময় দেয়া হয় না। ঈদ আসলে মায়ের সঙ্গে, ভাই-বোনের সঙ্গে ঈদ কাটাতে স্ত্রীকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ চলে যাই। এবারো সেখানেই যাব। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করব। এরপর ঈদের সংক্ষিপ্ত ছুটি শেষে ১৫ তারিখ ক্লাবে (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব) ফিরে আসব। কারণ সামনে আমাদের লিগের খেলা আছে। মানবকণ্ঠের মাধ্যমে আমি দেশবাসীসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ঈদ মোবারক। সবাই ভালো থাকবেন। আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।

রায়হান হাসান (ফুটবল):

টাঙ্গাইলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করি। এবারো করব। ঈদের পশু ইতিমধ্যে কেনা হয়ে গেছে। ঈদের দিন নামাজ শেষে পশু জবেহ করব। আমি নিজেই পশু জবেহ করব। অনেকে পশু জবেহ করতে ভয় পায়। আমি পাই না। এরপর বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরবাইকে ঘুরে বেড়াব। আত্মীয়-পরিজনের বাড়িতে যাব। ঈদের পর ১৬ তারিখ ঢাকায় ফিরে ক্লাবে যোগ দেব। কারণ সামনে আমাদের বিপিএল ম্যাচ আছে। এছাড়া ভুটান ম্যাচ সামনে রেখে জাতীয় দলের ক্যাম্পও হয় তো শুরু হয়ে যাবে। সব মিলে ব্যস্ততার মধ্যেই দিন পার করব।

দিদারুল আলম (ফুটবল):

আমি রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির খেলোয়াড়। খেলি ঊইঙ্গার পজিশনে। প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সিতে মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলেছি। ভুটানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এএফসি এশিয়ান প্লে-অফ ম্যাচে না খেললেও দলে ছিলাম। এবারের ঈদটা অন্যরকম আনন্দ নিয়ে এসেছে আমার জীবনে। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন ছিল, সেটা পূরণ করতে পেরেছি। কক্সবাজার জেলার রামু এলাকার ছেলে আমি। প্রতিবারের ন্যায় এবারো রামুতেই ঈদ করব। কুরবানীর পশু বাবা-চাচারা কিনে এনেছেন। আমি ঈদের দিন নামাজ পড়ব। কুরবানীর পশু জবেহ দেখব। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াব। এরপর আত্মীয় বাড়িতেও যাব। এভাবে ঈদ উদযাপন করব।

মেজবাহ আহমেদ (অ্যাথলেট):

আমার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট। এবার বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করা হচ্ছে না। এশিয়ান বিচ টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার কারণে ঢাকায় ক্যাম্পেই ঈদ করব। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে না পেরে খুব খারাপ লাগছে। তারপরও বলব আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়। দেশ আমাদের কাছে আগে। দেশের হয়েই আমরা খেলি। এবার এশিয়ান বিচ টুর্নামেন্টে ৬০ মিটার দৌড়ে অংশ নিব। সেটার প্রস্তুতিই এখন চলছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার খেলা থাকার কারণে দেশের বাইরে ঈদ করেছি। বাড়িতে থাকলে বাবার সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। এরপর পশু কুরবানীসহ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হতো। প্রতিবার যেভাবে ঈদ করি, সেভাবেই করতাম। এখন যেহেতু করতে পারছি না; কি আর করা? রিও অলিম্পিক থেকে আসার পর বিচ টুর্নামেন্ট নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারি।

ফরহাদ আহমেদ শিতুল (হকি):

দেশের বাইরে ২০১০ সালেও ঈদ করেছি। এবার জার্মানিতে ঈদ করব। জাতীয় দলের ক্যাম্প এখানে চলছে। দেশে থাকলে পরিবারের সঙ্গে রাজশাহীতে ঈদ করতাম। হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এসব করতে পারছি না বলে কিছুটা খারাপ লাগছে। তারপরও সতীর্থরা থাকায় কষ্ট কিছুটা কম লাগছে। জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই এখন জার্মানি আছেন। আরো কয়েকজন আসবে। আমরা এখানে ক্যাম্প করার পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে শিগগিরই ম্যাচ খেলব। পরিবারের সদস্যরা যেহেতু বাংলাদেশে. সেহেতু মানবকণ্ঠের মাধ্যমে পরিবার, দেশবাসীসহ সবাইকে আমার ঈদ শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

জেসিমুজ্জামান হিমেল (শ্যুটার):

গত মাসে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করেই চুয়াডাঙ্গা চলে এসেছি। প্রতিবারের ন্যায় এবারো জন্মস্থান চুয়াডাঙ্গায় ঈদ করব। গত দুই বছর জাতীয় দলের খেলা ছিল। ব্যস্ততার কারণে গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা, ভাইয়ের সঙ্গে ঈদ করতে পারিনি। খারাপ লেগেছে। এবার খুব ভালো লাগছে। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করতে পারব। ঈদ উপলক্ষ্যে কুরবানীর পশু ইতিমধ্যে কেনা হয়ে গেছে। ঈদের দিন বাবা-ভাইয়ের সঙ্গে নামাজ পড়তে যাব। এরপর পশু কুরবানী হবে। সেটা তদাকরি করব। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপার তো থাকেই। সেটাও করব। পরে বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেব। চুয়াডাঙ্গায় এবার বেশি সময় থাকা হবে। কারণ ঈদের পর এখানে ক্যাম্প করব। একজন বড় ভাই আছেন ওনার কাছে ফিটনেস ট্রেনিং নিয়ে কাজ করব। আগামী মাসের শুরুতে ঢাকায় ফিরব।

সোনিয়া আক্তার টুম্পা (সাঁতারু): 

ঈদ এবার ঢাকাতে আমার কর্মস্থল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাম্পে করব। এবার ঝিনাইদাহ যাওয়া হচ্ছে না। কারণ ১৫ তারিখ ভারতের মুর্শিদাবাদে যাচ্ছি। সেখানে লং সুইমিং একটা টুর্নামেন্টে অংশ নিব। সেখানে ১৯ কিলোমিটার সাঁতারের একটা ইভেন্ট আছে। সেখানে পার্টিসিপেট করব। পূর্বেও বহুবার ঢাকাতেই ঈদ করেছি। জাতীয় দলের খেলা থাকার কারণে। আসলে ঢাকায় ঈদ করতে যে খারাপ লাগে এমন নয়। তবে পরিবারকে খুব মিস করি। কিন্তু কী করব বলুন? আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়। দেশের স্বার্থই আমাদের আগে দেখতে হয়। পরিবারের সঙ্গে ঈদ না করলেও, ফোনে সবার খোজ-খবর নেই। এটা হরহামেশাই করি। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমার খোজ-খবর নেয়া হয়। আসলে ব্যস্ততার ভিতর দিয়েই ঈদটা চলে যাবে।

সম্পাদনা: তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার


অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর

অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর