Sunday, August 28th, 2016
খালেদার বক্তব্য জঙ্গিবাদে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার সামিল
August 28th, 2016 at 11:04 pm
খালেদার বক্তব্য জঙ্গিবাদে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার সামিল

ঢাকা: গুলশান, কল্যাণপুর ও নারায়নগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গি বিরোধী অভিযান সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, ‘শতভাগ সফল জঙ্গি বিরোধী অভিযান সম্পর্কে বেগম খালেদা জিয়া যে মনগড়া, বানোয়াট তথ্য প্রদান করেছেন তা অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং জঙ্গিদের কার্যক্রমকে সহায়তা তথা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার সামিল। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের এ ধরণের কুরুচিপূর্ণ, দূরভিসন্ধিমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদ লিপিতে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

প্রতিবাদ লিপিতে জানানো হয়- শনিবার জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, সরকারের নানা অপকর্ম থেকে জনদৃষ্টি সরিয়ে দিতেই এখন জঙ্গি জঙ্গি করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে গুলশানের হলি আর্টিজেন বেকারিতে যে ঘটনা ঘটলো, এটারও কিন্তু তদন্ত সেরকম কিছু হয়নি। জনগণের কাছে পরিষ্কার করেনি, কে জড়িত, কিভাবে ঘটনাটি ঘটলো।

খালেদা জিয়া বলেন, গুলশানের ঘটনা যেতে না যেতেই আরেকটা ঘটনা ঘটলো কল্যাণপুরে। সেটার ছবি পত্রপত্রিকায় দেখেছেন। সবাই মারা গেলো, এরা অল্প বয়সের, শিক্ষিত ইয়াং ছেলেপেলে। বোঝা যায় যে, এটা সাজানো ঘটনা। কিন্তু যে কথাটা তারা (সরকার) বলতে চায়, আমরা জঙ্গি নির্মূল করার জন্য তাদের হত্যা করেছি। আমরা বলবো, আজকে কেনো সত্যিকারের জঙ্গি ধরলে, তাদের জীবিত কেনো ধরা হলো না ? জীবিত ধরা হলে সত্যিকারের তথ্য পাওয়া যেতো তাদের কাছ থেকে।

প্রতিবাদ লিপিতে সাম্প্রতিক জঙ্গি অভিযান সম্পর্কে ডিএমপি জানায়, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহত জঙ্গিদের হামলায় ২ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ২০ জন দেশি বিদেশি মানুষ নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যৌথ বাহিনীর সফল অভিযানে সকল জঙ্গি নিহত হয় ও ৩২ জন দেশি বিদেশি জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি, গ্রেনেড, ছোঁরা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামত বিশ্লেষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে গুলশান হামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন বাসস্থানের অবস্থান, অর্থদাতা, অস্ত্রদাতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বাসস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক ও গ্রেনেড সংরক্ষনে ব্যবহৃত বালু ভর্তি বস্তাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, হামলায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সদস্যই ছিল আত্মস্বীকৃত জঙ্গি। তারা তাদের পরিবার থেকে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। জঙ্গিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ এ মামলায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে সোয়াটের সাথে গুলি বিনিময়ে নিহত হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

প্রতিবাদ লিপিতে আরো জানানো হয়, কল্যাণপুরে জঙ্গিদের সাথে গুলিবিনিময়ে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি, গ্রেনেড, ছোঁরা ইত্যাদি আগ্নেয়াস্ত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত ইলেকট্রনিক ডিভাইসে আত্মস্বীকৃত জঙ্গিদের বিভিন্ন ধরণের অডিও, ভিডিও ও স্থির চিত্র পাওয়া গেছে। যা তাদের জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার পক্ষে অকাট্য প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত। তদন্তে জানা যায় এ জঙ্গিরা দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা ছিল।

অভিযানে জীবিত উদ্ধার আসামি রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছে। যেকোন ঘটনায় পুলিশের উদ্দেশ্য থাকে সকল আসামিকেই জীবিত গ্রেফতার করা। কিন্তু যখন কোন অভিযানে পুলিশের জীবন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় ও সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি/বোমা ছুঁড়ে তখন অবশ্যই পুলিশ আইনগতভাবে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ জান-মাল রক্ষার্থে সন্ত্রাসীদের প্রতি গুলি ছুঁড়েছে যাতে ৯ জন সন্ত্রাসী নিহত ও ১ জনকে জীবিত গ্রেফতার করা হয়। যদি ঘটনা সাজানো হতো তাহলে রাকিবুল হাসান রিগ্যানকে জীবিত রাখা হতো না।

এছাড়া ঘটনাস্থলের চারপাশে অনেক বাসিন্দা ঘটনা সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত  সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গুলশান, কল্যাণপুর ও নারায়নগঞ্জে তিনটি অভিযানই দিনের আলোতে সংঘটিত হয়েছে। এজন্য এসকল অভিযানের কার্যক্রম স্থানীয় জনগণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা পুলিশকে সাধুবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন।

দেশি/বিদেশী বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের কার্যক্রমকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষার্থে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের পেশাদারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেখানে আত্মোৎসর্গ করেছেন সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের মত দায়িত্বশীল একজন নাগরিকের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু পুলিশকেই নয় বরং সমগ্র জাতিকে হতাশ করে। যেখানে নিহত জঙ্গিদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন তাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততার নিন্দা জ্ঞাপন করে লাশ গ্রহণে অসম্মতি জ্ঞাপন করছেন সেখানে এমন বক্তব্য কুরুচিপূর্ণ, দূরভিসন্ধিমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

বিজ্ঞপ্তি, সম্পাদনা: প্রীতম সাহা সুদীপ


সর্বশেষ

আরও খবর

কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হচ্ছেন ইরফান সেলিম

কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হচ্ছেন ইরফান সেলিম


বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ


করোনা: আরও ২৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩০৮

করোনা: আরও ২৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩০৮


সেনাপ্রধান ফেইসবুকে নেই: আইএসপিআর

সেনাপ্রধান ফেইসবুকে নেই: আইএসপিআর


ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন

ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন


করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু


বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক


সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন


দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার