Monday, June 13th, 2016
খিলাফতের ভ্রান্ত লড়াই বনাম ফাঁপা চ্যাট-শো
June 13th, 2016 at 5:41 am
খিলাফতের ভ্রান্ত লড়াই বনাম ফাঁপা চ্যাট-শো

মাসকাওয়াথ আহসান: সুশাসনের অভাবই আজকের এই কুরুক্ষেত্র রচনার মূল কারণ। জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে আর কিছু নয় জনমানুষকে তাদের প্রাপ্য ন্যুনতম সম্মানটি দিলে সামষ্টিক সমাজ আজ সন্ত্রাস দমনে সরকারের সহযোগী হতো। ক্ষমতা নামের সোনার ডিম দেয়া রাজহাঁস হচ্ছে জনমানুষ। তাকে জবাই করে ফেলতে লোভাতুর নির্লজ্জ ক্ষমতা কাঠামো।

কুখ্যাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘আইদার ইউ আর উইদ আস; অর এগেইন্টস আস’ ডকট্রিনের রোগী ছিলো বিগত বিএনপি-জামাত প্রশাসন। আওয়ামী লীগ এই একটি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে তাদের প্রশাসনে। 

বিগত আড়াই দশক ধরে আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির ক্ষমতায় যাবার কাবাডি খেলার সুযোগে জামাত ব্যবসা বৃদ্ধি করেছে; সাংগাঠনিক ভিত্তি পাকাপোক্ত করেছে; তাদের কল্পিত ‘খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদের’ সমস্ত প্রস্তুতি নিয়েছে। আর খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা চেষ্টা করেছেন পরস্পরকে দোষারোপ করার বালিশ ছোড়ার খেলায় জিততে। একজন আরেকজনকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়ে একাই আমৃত্যু শাসন কায়েমের জেদী খেলায় ব্যস্ত থেকেছেন। অপরাধীরা যখন দেখেছে উনারা সবসময় একে-অপরের ঘাড়ে দোষ দিয়ে চলেছেন; অপরাধীরা বুঝে গেছে এ হচ্ছে অপরাধের অভয়ারণ্য। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এমন সাপে-নেউলে সম্পর্ক রাজনীতিকদের মাঝে নেই।

এই সাপে-নেউলে সম্পর্কটি আমাদের সমাজ চরিত্রে প্রতিফলিত প্রতিদিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আয়নায় ধরা পড়ে সমাজের তিক্ত বাস্তবতা। সমাজে সক্রিয় খুব কম মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়; যারা সংঘর্ষকে প্রশমন করতে চান। বেশীরভাগ মানুষই মনের অজ্ঞাতে সংঘর্ষবাদী। সেটাও একটা কাল্পনিক আধিপত্য কায়েমের যুদ্ধ।

আর জামাতের ক্যাডাররা যখন বাংলাদেশকে ক্রমে ক্রমে হোম বানানোর জন্য পেশাদারিতার সঙ্গে কাজ করেছে; আওয়ামী লীগ-বিএনপি ক্যাডাররা তখন বিদেশে সেকেন্ড হোম বানানোর লক্ষ্যে কাজ করেছে। ভাবটা এমন, গরীব মানুষের ছেলেরা তাদের রাজনৈতিক বলিখেলার পর ক্ষমতার বার-বি-কিউ-এর মাংস হবে; আর নিজের সন্তানেরা বিদেশে থাকবে পাস্তা-ভাতে। এ কাজ জামাতের অনেক নেতাও করেছে। কিন্তু তাদের ক্যাডারদের জন্য তাদের পরিকল্পনা ছিলো। জামাত দরিদ্র মানুষকে রেশন দিয়ে গ্রামের পর গ্রাম “ইসলাম” সরিয়ে “জামাতে ইসলাম” প্রতিষ্ঠা করেছে; বৃত্তি দিয়ে মেধাবী ছাত্রদের পড়িয়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভালো ফলে প্রণোদিত করেছে; সমাজ মনোস্তত্বে খিলাফত ও শারিয়ার ভ্রান্ত ভাবনাগুলোকে ঢুকিয়ে দিয়েছে মসজিদে পাঁচওয়াক্ত নামাজের সময় একসঙ্গে পেয়ে যাওয়া বড় শ্রোতাগোষ্ঠীকে। এরা ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন করিয়েছে শারিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়াতে।

এরকম কোন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বিএনপির তো ছিলোই না; আওয়ামী লীগও ব্যর্থ হয়েছে স্বদেশ ও সাংস্কৃতিক আবহকে পরমতসহিষ্ণু রাখতে। বিএনপি’র কর্মীরা বসন্তের কোকিল। কিন্তু আওয়ামী লীগে খুব অঙ্গীকারাবদ্ধ কর্মী ছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের স্বজনপ্রীতি ও পদ-পদবী-নির্বাচনী মনোনয়ন বেচাকেনার মাধ্যমে সেই কমিটেড কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে হাইব্রীডদের যাদের কথা বলার ভঙ্গী অবিকল সেই ছাত্রজীবনে দেখা শিবির কর্মীদের মতো। কথায় কথায় আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাল্লাহ, আল্লাহ আপনার হেদায়েত করুক এরকম ভাষারীতি।

ছোটবেলায় আমরা শিখেছি সবাইকে সালাম দিতে হয়। অন্য ধর্মের মানুষকে আদাব বলা যায়। বা কেউ আগে সালাম দিলে সালামেই প্রতিউত্তর, নমস্কার বললে নমস্কারেই প্রতি উত্তর। বাংলায়, আশা করি আপনি ভালো আছেন বললেও তার অর্থ একই দাঁড়ায়। বিদায় বেলায় আবার দেখা হবে, ভালো থাকুন বলা যায়। একসঙ্গে ধর্মীয় উতসব পালন করা যায়। ধর্ম ব্যাপারটা একান্ত ব্যক্তিগত। সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিমানুষের নিবিড় সম্পর্কটি প্রদর্শনের বিষয় নয়। আর সৃষ্টিকর্তা একজনই; প্রতিটি ধর্মের সার কথা, সত্য-সুন্দর-মঙ্গলের নৈতিকতা; সুতরাং এ নিয়ে মানবিকভাবে বিভাজিত হবার কোন কারণ নেই।

অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই বিভাজনটিই হলো রাজনীতির প্রধান জ্বালানী। এটি খুব সহজ হয়েছে চাররকমের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখায়। শিশুকালেই চাররকম চিন্তাগৃহে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হলো শিশুদের। একজন দেখা হলে বলে সালাম, আরেকজন বলে আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহি বারাকাতুহু, আরেকজন রোজার দিনে বলে, রামাডান মুবারক। আগে কেউ কেউ খোদা হাফেজ বলতো; এখন আল্লাহ হাফেজ শব্দবন্ধটির খই ফুটছে দুর্নীতিমুখর সমাজের জিহবাগুলোতে।

সমাজের সাংস্কৃতিক-কর্মী যারা; তাদের দায়িত্ব ছিলো এই বিভাজিত ভাবনা ও ভাষারীতির শিশু-কিশোরদের, মানুষদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ঐক্যসূত্রে ফিরিয়ে আনা; যার নাম “মানবতা”। তারা এই দায়িত্বপালন না করে সাংস্কৃতিক মোড়ল হতে চেয়েছে। সমাজের সচেতন শ্রেণীর আত্মকেন্দ্রিকতাই আজকের কুরুক্ষেত্রের নির্মাতা। 

ধর্ম বিষয়টি আন্তর্জাতিক দর্শন। আর সংস্কৃতি বিষয়টি যার যার ভূমিসঞ্জাত। ইহুদী-খ্রীস্টীয় ও ইসলাম ধর্মের উতপত্তি স্থল একই। ঐ অঞ্চলের সব ধর্মের মানুষের পোশাক একই। কিন্তু ধর্মগুলো যখন জগত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লো তখন অঞ্চল অনুযায়ী পোষাক পরা মানুষেরাই ধর্মগুলো গ্রহণ করলো। কিন্তু বাংলাদেশে মনে করা হলো সৌদী আরবের মানুষের মত জোব্বা বা হিজাব না পরলে সাচ্চা মুসলমান হওয়া যাবে না।

আবার আরেকটি অংশ গজিয়ে উঠলো যারা নিজেদের প্রগতিশীল দাবী করে প্রগতিশীলতার দফাদার হয়ে উঠলো। যেহেতু দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ নমঃশূদ্র থেকে মুসলমান হয়েছে; এদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লুকাতে একদল সৌদী জোব্বা-হিজাব পরে ঘুরাকে সংস্কৃতি বলে জাহির করছে; আরেকদল উত্তরীয় পরে-মঙ্গল ঘট জ্বালাকেই প্রগতিশীলতার জাতে ওঠা বলে পরিচয় করিয়ে দিলো। একদল পাতকূয়ার ধর্মশীল ধর্মের ঠিকাদারি নিয়ে সামাজিক পুলিশী করতে শুরু করলো। ইউরোপের খ্রীস্টিয় ধর্মের অন্ধকার যুগের মতো আজকের ইসলামের অন্ধকার যুগেও যাবতীয় সামাজিক পুলিশীর লক্ষ্য বস্তু নারী। আবার ইউরোপের রেস্টোরেশান যুগের মত ভ্যানিটি ফেয়ার ও শো-অফে ব্যস্ত আজকের কথিত প্রগতিশীল সমাজ। তবে রাজনৈতিক চিন্তাভাবনায় এরা সবাই কট্টরপন্থী; ঘটে কিছু না থাকায় আগরবাতিঘট বা মঙ্গলঘট যাই জ্বালুক না কেনো; ফলাফল নেতিবাচক। এরা সব এক একটি বিভাজনের আত্মঘাতী বোমা যেন!

সমাজের এই উপরিকাঠামোর মানুষগুলো যখন এতোটাই বিভাজিত; তখন ভেতরিকাঠামোতে ক্রিয়াশীল “জামাতে ইসলাম” অনায়াসে পেয়ে যায় জিহাদের গরম বিছানা। প্রতিদিন হিন্দুদের হত্যা, অন্যান্য ধর্মের ও আদিবাসী মানুষ হত্যা, লেখক হত্যা, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সক্রিয় পুলিশ ও তাদের পরিবার হত্যার মাঝ দিয়ে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বসে আছে জিহাদের স্বপ্নে উন্মাদ খুনীরা।

এই এক একটি খুনকে কেন্দ্র করে সরকার ও প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী অগোছালো কথা-বার্তা, উদোরপিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর একঘেয়ে ভিলেজ পলিটিক্স, সরকার সমর্থকদের “লুকিং ফর শত্রুজ” ও “গুজবের বিনিময়ে খাদ্য” কর্মকান্ড, অতিপ্রগতিশীলদের বিভাজনকে তীব্র করে অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দেয়া অনলবর্ষী বাহবা কুড়ানো প্রতিক্রিয়া; “এইসব ধামাচাপার দিনরাত্রিতে” মূল অপরাধীর পরিবর্তে পুলিশের গত দেড় দশক ধরে মঞ্চস্থ “জজমিয়াকে ধরেছি” আত্মতুষ্টির সুপারকপ হয়ে ওঠার পথ নাটক যখন চলছে; খিলাফতের জন্য লড়াকু ভ্রান্ত জিহাদীরা তখন অনায়াসে চালিয়ে যাচ্ছে খুন। রাজনীতির নোংরা দাবা খেলার বড়ে অথবা অজ্ঞাত উপায়হীন মানুষ মারা যাচ্ছে ক্রসফায়ারে; অথচ দাবা খেলার রাক্ষস খেলোয়াড়েরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে।

এতো মৃত্যু; এতো রক্তপাত; কিন্তু এতোটুকু বিচলিত নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ও মূলধারার মাধ্যমের চ্যাট শো কারীরা। একেকজন নিজের জীবনাশংকা প্রকাশের রোমাঞ্চে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে; কিন্তু আমরা তো জানি রাজনীতির রাজাকাররা কালে ভদ্রে অপরাধ ঘটানোর ৪০-৪৫ বছর পর বড় জোর মৃত্যুদন্ড পায় বৃদ্ধবয়সে। কিন্তু প্রতিদিন মরে সাধারণ মানুষ, অধিকার বঞ্চিত মানুষ অথবা নৈর্ব্যক্তিক আলোর মানুষ।

খুব সাধারণ মানুষের কথা যদি বলি; তাহলে তাদের মধ্যে কখনো বিভাজন ছিলোনা। ভারতের আজমীর শরীফে মুসলমান-হিন্দু সবাই যায়। বাংলাদেশের পাবনার অনুকূলচন্দ্রের আশ্রমটি হিন্দু-মুসলমান সবার জন্য তাদের দরজা খোলা রাখে। কিন্তু রাজনীতির খুনী খেলোয়াড়েরা সাধারণ মানুষের ঐক্যটিকে ভেঙ্গে দেয় নিজ নিজ স্বার্থে। শান্তির কথা-সংঘর্ষ প্রশমনের কথা এরা মুখে বলে; অন্তরে এদের বিভাজন ব্যবসার বিষ বিক্রির মতলব। সেইখানে নির্বিঘ্নে শারিয়া আইন প্রচলনের মাধ্যমে মুসলিম বাংলার বর্বর কামনাটি সন্ত্রাসীরা পুষে রাখবে; প্রতিদিন মানবতাবাদকে হত্যা করবে; এতো খুবই স্বাভাবিক।

রাষ্ট্র যখন সামাজিক নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়; বায়োস্কোপে ব্লেমগেমের নরভোজী সংবাদ সম্মেলন যখন হতাশ করে উপায়হীন মানুষকে; তখন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কোন মানসিক আশ্রয় যে তার থাকে না।

যে রাষ্ট্রে দুর্নীতি কম; সেখানে ধর্ম প্রদর্শনের বাতিকও কম। যে রাষ্ট্রে শিক্ষার বিকাশ ঘটেছে সেখানে কট্টর ধর্ম মোল্লার ফতোয়া নেই। যে রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটেছে সেখানে কট্টর প্রগতিমোল্লার ফতুয়া নেই।

সুতরাং একে অপরকে দোষারোপ করে পাতকূয়ার ঝগড়া কিংবা রক্তারক্তিতে সমাধানসূত্র নেই। সমাধান সূত্র রয়েছে আত্ম-অনুসন্ধানে। কারণ সংঘর্ষ তো বিনোদন হতে পারে না; সংঘর্ষ প্রশমন ও শান্তিস্থাপন ছাড়া পৃথিবীতে আর কোন মহার্ঘ বস্তু নেই যা আনন্দদায়ী।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক ও ব্লগার।


সর্বশেষ

আরও খবর

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি


বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?


শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?

শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?


প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ

প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ


দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন

দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন


দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন

দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!

লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!


পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ

পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ