Wednesday, January 4th, 2017
খুন করাটাই বিএনপি জামায়াতে চরিত্র: প্রধানমন্ত্রী
January 4th, 2017 at 9:06 pm
খুন করাটাই বিএনপি জামায়াতে চরিত্র: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: গাইবান্ধা-১ আসনের সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন খুনের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারবিরোধী আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি জামায়াত এখন গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে জানিয়ে এদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান সরকার প্রধান।

বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গাইবান্ধার সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য লিটনের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু সে জামায়াতের বিরুদ্ধে সবসময় ছিলো, এমনকি গোলাম আজম ওখানে মিটিং করতে চেয়েছিলো, সেই মিটিং ও করতে দেয়নি, বাধা দিয়েছিল। সেই থেকে জামায়াতের একটা ক্ষোভ ওর ওপর ছিলো। ওকে বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আর অবশেষে তারা সেই হত্যাকাণ্ডটা ঘটালো।

মানুষ খুন করা বিএনপির চরিত্র এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মানুষ খুন, মানুষ হত্যা করা এটা হচ্ছে বিএনপির চরিত্র। কাজে আজকে লিটন হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমি। সাথে সাথে যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদেরও যেভাবে হোক খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। আর সাংবাদিকদের বলবো, চরিত্র হনন করতে চাইলে করেন, কিন্তু একটা মানুষের জীবন যাবে, এই ধরনের ঘটনা না ঘটানোই ভালো। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হলো, সে একটা মহা অপরাধী। আর কিছুই না, যেহেতু সে গোলাম আজমকে বাধা দিয়েছে, যেহেতু জামায়াতকে বাধা দিয়ে সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে আসছে, ওখানে জামায়াতবিরোধী একটা অবস্থান নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে শক্তভাবে ছিলো, যে কারণে আজকে তাকে জীবন দিতে হলো।

প্রধানমন্ত্রী সকলকে গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাই হোক আমি জানি না, ওদের (বিএনপি-জামায়াত) আরো কী পরিকল্পনা আছে। কারণ, যখন তারা নির্বাচন করলো না, ব্যর্থ হলো। নির্বাচন ঠেকাতে পারে নি। আন্দোলন করে সরকার উৎখাতে ব্যর্থ হয়ে এখন গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। এটা তো বিএনপি জামায়াতে একটা চরিত্র। খুন করাটাই তাদের চরিত্র।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার চরিত্রটাই হচ্ছে অপরাধীদের মদদ দেয়া। অপরাধীদের লালন পালন করা। খালেদা জিয়া অন্যায় শুধু নিজে করেই নাই, আরো যারা অন্যায় করেছে তাদের মদদ দিচ্ছে। দেশবাসীর কাছেও আমি এর বিচার চাই।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসীর কাছে আমি এটা বলবো, আমাদের লিটনের হত্যাকাণ্ড আমরা মেনে নিতে পারি না। সেই সাথে সাথে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের আরো সোচ্চার হতে হবে। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না। এর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কাজেই তার জন্য সবাই আমার মনে হয় প্রস্তুত হবেন।

সম্প্রতি কয়েক বছরে গাইবান্ধায় বিএনপি-জামায়াতে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, গাইবান্ধা এমন একটা জায়গা, বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ। এখানে একেবারে জামায়াতের একটা সন্ত্রাসী এলাকা। ওই এলাকাতে একসময় জামায়াতে এমপিও ছিলো। সেখানে আওয়ামী লীগ করা যায়এমন অবস্থাও ছিলো না। আর বিএনপির আন্দোলন হচ্ছে জ্বালাও পোড়াও মানুষ হত্যা করা। এই মানুষ হত্যাটা গাইবান্ধায় সব থেকে বেশি হয়েছে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই সুন্দরগঞ্জে জামায়াত যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, আওয়ামী লীগের প্রায় দেড়শো থেকে দুইশো নেতাকর্মীর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে এবং পুড়িয়ে দেয়। রেললাইনের ফিসপ্লেট তুলে দিয়ে চারজনকে হত্যা করে। পুলিশ ফাড়িতে আগুন দিয়ে লুটপাট করে, ৪ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর আসে ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা প্রকাশ্যে ঢাকা-রংপুর রাস্তা অবরোধ করে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে। নয় জন মানুষকে পুড়িয়ে মারে। পুরো এলাকাটা তাদের কব্জায় ছিলো। এরপর ২০১৫ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত অবরোধ চলাকালেও ওই এলাকায় প্রচণ্ড তাণ্ডব শুরু হয়।

প্রয়াত সংসদ সদস্য লিটনের স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, লিটন ছাত্রলীগের কর্মী ছিল। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে সে পড়াশোনা করতে যায়। সেখানে সে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা আনার পর আওয়ামী লীগ করা শুরু করে। ওখানকার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আমরা তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিই। এবং সে সংসদ সদস্য হয়।

লিটনের ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওর ওপর বারবার হামলা হয়েছে। একটা ঘটনা আমার খুব খারাপ লাগে। মাঝখানে একটা ঘটনা ঘটে গেলো, একটা বাচ্চা ওর গুলিতে আহত হয়। সেটা নিয়ে পত্র-পত্রিকা এমনভাবে লেখালেখি করলো এবং ওকে একটা ‘অ্যাসাসিন’ করলো। ঘটনা যেটা ঘটলো, সেটা আর কেউ তুলে ধরলো না, যে ওকে মারার জন্য ‘অ্যাম্বুশ’ করে রাখা হয়েছিলো। যেহেতু ও সবসময় সতর্ক ছিলো কাজেই ও কেনোমতে সেখান থেকে বেঁচে আসে। ওই সময়ের গোলাগুলিতে যে ছেলেটা আহত হয়, বাচ্চা; সেও কিন্তু আমাদের আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলো। কিন্তু সেই ঘটনাটাকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে এমনভাবে লেখা হয়, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, তার বন্দুকের লাইসেন্স জব্দ করা হয়। তার অস্ত্রটা নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে আতঙ্কে থাকতো, যেকোনো সময় তাকে আক্রমণ করবে। ঠিক সেই ঘটনাটাই ঘটলো। ওর বাসার ভেতরে ঢুকে ওকে গুলি করে হত্যা করলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বিএনপি আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছে এবং জামায়াত তাদের দোসর। যেহেতু আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি, যেই যুদ্ধাপরাধীরা খালেদা জিয়ার কাছে খুবই পবিত্র ব্যাক্তিত্ব ছিলো। একজন অপরাধীকে তারা মন্ত্রী বানিয়ে পুরস্কৃত করেছে, কাজেই তাদের একটা ক্ষোভ রয়েছে; যারা বিচার করেছে তাদের শেষ করে দেয়ার। কাজেই এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য খালেদা জিয়া তাণ্ডব শুরু করেছিল, এতে কোনো সন্দেহ নাই। আর জীবন দিয়ে গেল আজকে আমাদের একজন সংসদ সদস্য।

বিরোধী দলে থাকাকালে চিত্র তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি  বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, আমি যখন বিরোধী দলে তখন আমাদের সংসদ সদস্য এস এম কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করলো। এমনকি হত্যাকণ্ডের পর আমাদের সংসদে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও করতে দেয় নি। একটা নিন্দা প্রস্তাব একটা শোক প্রস্তাবও তুলতে দেয় নি। অবশ্য এটাতে বিএনপি জড়িত। এরপর যখন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হলো তখনও ওই একই ঘটনা আমরা দেখেছি।

তিনি বলেন, যেহেতু হত্যা করা, খুন করা, খুনীদের প্রশ্রয় দেয়া বিএনপির চরিত্র। তাদের সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ক্ষমতায় থাক আর বিরোধী দলে থাক, হত্যা তারা করেই যাবে। ওই একটা কাজে তারা সফলতা দেখাতে পারে। দেশের উন্নয়ন তারা করতে পারে না।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন বছর পূর্তির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছিল। আর ১২ তারিখ আমরা শপথ নিয়েছিলাম। আমাদের তিন বছর পূর্ণ হলো। এই তিন বছর আমরা অত্যন্ত সফলতার সাথে দেশ পরিচালনা করেছি। দেশের উন্নয়নের কাজের গতিটা আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য আজকে উন্নয়নটা দৃশ্যমান হচ্ছে। মানুষ আজকে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারছে। গ্রাম থেকে শহর সকল পর্যায়ে উন্নত হচ্ছে।

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক সকলকে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি তার বক্তব্যে ছাত্রলীগের সময়কার কিছু স্মৃতিচারণও করেন। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদক: এস, সম্পাদনা: জাহিদ

 


সর্বশেষ

আরও খবর

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু


ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


করোনায় আরও জনের ১৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯১

করোনায় আরও জনের ১৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯১


৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে সাকিব

৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে সাকিব


খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


করোনায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৯৬

করোনায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৯৬


অভিজিৎ রায় হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১ জন

অভিজিৎ রায় হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১ জন


সব মহাসড়কে টোল আদায়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সব মহাসড়কে টোল আদায়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর