Wednesday, September 21st, 2016
খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছি : কৃষ্ণা
September 21st, 2016 at 2:34 pm
খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছি : কৃষ্ণা

স্পোর্টস রিপোর্টার: অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলারদের হাত ধরে বেশ বড় একটা সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পুরো জাতি এখন কিশোরী এ ফুটবলারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

২৩ সদস্যের দলটির সবাই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা। কারো পরিবারই আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়। অভাব আর অনটনের মধ্য দিয়েই যাদের দিনানিপাত করতে হয়, সেই সব পরিবার থেকে উঠে আসা এ সব ফুটবলারদের শুরুর গল্পটা বেশ কঠিনই ছিল। নানা বাঁধা বিপত্তিকে পাশ কাটিয়ে সাহস আর ইচ্ছে শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আজ তারা একেকটা স্বর্ণের টুকরোতে পরিনত হয়েছেন। নিজেরা যেমন তারকা খ্যাতি পেয়েছেন, তেমনিভাবে লাল-সবুজ পতাকাকে করেছেন আলোকিত। তাদের হাত ধরেই এশিয়ায় মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ এখন সেরা আটে।

সফলতার আলোয় আলোকিত হওয়া দলটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া কৃষ্ণা রানী সরকারের ফুটবলার হয়ে উঠার গল্পটা বেশ করুণই বলা চলে। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে পরিবার, সব পথই ছিল কণ্টকাকীর্ণ। কিন্তু কোন বাঁধাই দমাতে পারেনি তাকে। অদম্য ইচ্ছে শক্তি তার লক্ষ্য থেকে তাকে টলাতে পারেনি চুল পরিমানও। প্রতিবেশীদের নানা কটুক্তি সহ্য করে আজ তিনি পরিনত হয়েছে ১৬ কোটি মানুষের মাথার তাজে।krishna-rani-sharkar-laughs

টাঙ্গাইলের উত্তর পাথুলিয়া গ্রামে জন্ম এবং বেড়ে উঠা কৃষ্ণা রানী সরকারের। পৃথিবীর আলো দেখার পর কখনোই সুখের মুখ দেখেননি। যেদিন থেকে বুঝতে শিখেছেন, সেদিন থেকেই দেখেছেন বাবাকে কষ্ট করতে। দর্জির কাজ করে কোন রকমে সংসারের খরচ চালাতে হতো বাবাকে। রান্নার চুলোয় গিয়ে দেখতেন ক্রন্দনরত মায়ের মুখ। অভাবের সংসার; ছোট ভাইকে নিয়ে ঠিক মতো খেতেও পেতেন না কৃষ্ণা। অর্ধাহার-অনাহারে দিনানিপাত করেছেন।

এত কিছুর পরও কিন্তু থামেনি ফুটবল প্র্যাকটিস। কৌতুহল হচ্ছে? জানতে মন চাইছে কৃষ্ণার কৃষ্ণা হয়ে ওঠার গল্প?

কৃষ্ণার উঠে আসা, দলের নেতৃত্ব দেয়া, পারিবারিক বাঁধা ডিঙ্গানো সব কিছু আমরা জানবো কৃষ্ণা রানী সরকার’র জবানীতেই।

সম্প্রতি এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তার সাথে আলাপ হয়েছে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র। পাঠকদের জন্য কৃষ্ণার সাথে আলোচনার চুম্বক অংশগুলো তুলে ধরা হলো-

এনএনবিডি: বলুন, আপনার ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প।

কৃষ্ণা: স্কুলে পড়াকালীন সময়ে আমাদের ক্রীড়া শিক্ষক গোলাম রায়হান স্যার মহিলা ফুটবল দল গঠন করেছিলেন। ঐ দলে আমিও ছিলাম। কিন্তু বাড়িতে যখন বললাম আমি ফুটবল দলে নাম লিখিয়েছি, তখন কেউ রাজী হননি। বরং মা-বাবা আমাকে বাঁধা দিয়েছিলেন। তাদের এ বাঁধা দেয়ার যথেষ্ট কারনও ছিল। আমার বাবা-মা কেউ শিক্ষিত নন। প্রতিবেশীরা তাদের কান ভারি করার মতো অনেক কু-মন্ত্রই পাঠ করেছিলেন। কিন্তু আমি নিজের লক্ষ্যে অটল ছিলাম। কোন বাঁধাই আমাকে দমাতে পারেনি।

krishna-rani-sharkar-scores
এনএনবিডি: এতো বড় সফলতা পাওয়ার পর এখন অনুভুতি কেমন?

কৃষ্ণা: প্রতিটি সফলতার পেছনের গল্পটাই কষ্টের হয়ে থাকে। আমাদের দল যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তখনি আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। মনে হয়েছে অতীতটা যদি কষ্টের না হতো, তাহলে হয়তো আমি আজ সফলতার আলো খুঁজে পেতাম না। তবে অতীত নিয়ে এখন ভাবতে চাই না। আমি এখন সামনের দিকে যেতে চাই। আমাকে আরো দূর যেতে হবে।

এনএনবিডি: হঠাৎ করেই ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছে হলো কেনো?

কৃষ্ণা: ফুটবলারই হবো এমন কোন ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু রায়হান স্যার যখন আমাকে স্কুল টিমে রাখলেন, তখন থেকেই শুরু বলা চলে। স্কুল দলের হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিতাম। তবে ২০১৩ সালে বাফুফে তৃনমূল পর্যায় থেকে মহিলা ফুটবলার তুলে আনার কর্মসূচী হাতে নেয়। দেশের ৪০টি ভেন্যুতে এক সাথে এ প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচী পালন করা হয়। আমি টাঙ্গাইল জেলা থেকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলঅম। এরপর রাজশাহী ভেন্যুতে এক মাসের একটি ক্যাম্প হয়েছিল। ঐ ক্যাম্পে আমি কোচ হিসেবে গোলাম রব্বানী ছোটন স্যারকে পেয়েছিলাম। সেখান থেকেই আসল যাত্রাটা শুরু।

এনএনবিডি: পুরস্কারের অর্থ কিভাবে খরচ করবেন?

কৃষ্ণা: বাবা আমাদের অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। আগে বাবা দর্জির কাজ করতেন। এখন তিনি সামান্য কৃষিকাজ করেন। পুরস্কারের যে অর্থ পেয়েছি, তার পুরোটাই বাবার হাতে তুলে দিয়েছি। এ টাকা দিয়ে বাবা কৃষি কাজটা একটু ভালো মতো করতে পারবেন। আর আমাদের থাকার ঘরটাওতো বয়সের ভারে ন্যুজ্ব। সেটাকেওতো সংস্কার করতে হবে।

এনএনবিডি : ভবিষ্যত পরিকল্পনা?

কৃষ্ণা: ফুটবলই আমার ধ্যান-জ্ঞান। অনেক বড় মাপের ফুটবলার হতে চাই এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। তবে যদি আপাতত লক্ষ্য বলেন, তাহলে আগামি বছর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বের সেরা তিন-এ থাকতে চাই।

এনএনবিডি: পরিবারে কে কে আছেন?

কৃষ্ণা : বাবা বাসুদেব চন্দ্র সরকার, মা নমিতা রানী ও ছোট ভাই পলাশ চন্দ্র সরকার।

এনএনবিডি : যাদের কাছে আপনি কৃতজ্ঞ…

কৃষ্ণা : আমি আমার তিন কাকা গৌরচন্দ্র সরকার, নিতাই চন্দ্র সরকার, রঞ্জিত চন্দ্র সরকার এবং দুই শিক্ষক সাইম আল মামুন ও গোলাম রায়হান পাপন স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা না সহযোগিতা করলে হয়তো আজও আমি গ্রামের ঐ অবলা মেয়েদের মতোই ঘরের কোনে পড়ে থাকতাম। ফুটবলতো পরে, ঢাকা শহরই চোখে দেখা হতো না। বাড়ি থেকে আমার অনুশীলনের ভেন্যু ছিল প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে। বাবা-মা’র বারণ সত্ত্বেও আমার কাকা আমাকে সাথে করে নিয়ে যেতেন কোচিং করাতে। তিন কাকাই আমাকে দারুন সাপোর্ট দিয়েছেন। ফুটবল কিনে দিয়েছিলেন খেলার জন্য। আর আমার দুই শিক্ষক সব সময়ই আমাকে সহযোগিতা করেছেন।

এনএনবিডি : আপনাকে ধন্যবাদ, কৃষ্ণা।

কৃষ্ণা: আপনাকেও ধন্যবাদ, ধন্যবাদ নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে।

প্রতিবেদন: কবিরুল ইসলাম, গ্রন্থনা: এস. কে. সিদ্দিকী


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার


অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর

অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর