Friday, September 9th, 2016
‘যদি পলিটিক্সই করতে হয়, তাহলে ফিল্মটা হবে কখন?’
September 9th, 2016 at 6:05 pm
‘যদি পলিটিক্সই করতে হয়, তাহলে ফিল্মটা হবে কখন?’

তুহিন সাইফুল :

জাঁ নেসার ওসমান। একদিন ছুটির দুপুরে শহরের পুরনো পথে তার সাথে দেখা। আলো-আঁধারী দৃশ্যাবলী দেখতে দেখতে তিনি শোনালেন, পুনে ফিল্ম ইন্সটিটিউট ফেরত এক যুবকের হঠাৎ বুড়িয়ে যাওয়ার গল্প। আর দেখালেন অসংখ্য মানুষ, যারা মুখোশ বানানোর সুনিপুন কারিগর, অথছ ভগবানের পোশাক পরে বসে আছেন। প্রশ্ন শুরু হয়েছিল তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে, শেষ কোথায় হয়েছিল তা জানতে আপনাকেও হাঁটতে হবে সেই যুবকের কাঁধে হাত রেখে, যিনি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একদিন দেখেন— রূপকথার গল্পের মতো সময়েরও বুড়িয়ে যাওয়া আছে—

এই যে ফিরে আসলেন, এই ফিরে আসাটা মন খারাপ করে নাই?

আমাকে সবসময় বলা হতো, কেউ যদি ফুটবলার বা ক্রিকেটার হতে গিয়ে প্রথমেই মোহামেডানে খেলতে যায়, বেস্ট টিম ইন দ্য টাউন, তাহলে তাকে ১২ নাম্বারে বা তেরো নাম্বারে বসিয়ে রাখা হয়। সে খেলার স্কোপ কম পায়। কিন্তু যদি সে অপেক্ষাকৃত দূর্বল টিমে খেলতে যায় তাহলে সে অন্তত নিয়মিত খেলতে পায়।

এখানে আমি ম্যারাডোনা ও তার ক্লাব নাপোলিকে উদাহরণ হিসেবে টানতে পারি, নাপোলিকে তিনি একাই হিট করেছেন। বলা যায় আপনিও নাপোলিতেই খেলতে আসলেন— নিজের দলকে কতটা হিট করতে পেরেছেন?

অনেকটাই তাই (হাসি)। আমি যদি ইন্ডিয়ায় থেকে যেতাম তাহলে আমাকে প্রতিযোগিতা করতে হতো মৃণাল সেনদের সাথে। এইখানে কে? দেলোয়ার জাহান ঝন্টু! (হাসি)

আপনি তো একসময় বিটিভিতেও ছিলেন, কেমন খেলতে পেরেছেন ওই সময়টায়?

আমি তো দুই বছর ছিলাম, ১৯৮০ থেকে ৮২ সাল পর্যন্ত। ঢুকেছিলাম ক্যামেরাম্যান হিসাবে। আর অ্যাড যা করেছি তা তো বিটিভির না। প্রাইভেট। ওইখানে বিটিভির কোন ইনফ্লুয়েন্স নাই। আমরা আসার পরে বিজ্ঞাপনের ভাষা পরিবর্তন হলো। বাদল ভাই, আফজাল হোসেনরা এসে ব্রাশ আপ করলো। এখন যে অ্যাড হয় সেগুলো সব টেকনোলজি চেঞ্জ হয়ে যাবার ফলাফল, পুনে থেকে পড়ে আসা ছেলেরা এই বদলের পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। আগে একটা ডিজোলভ করতে গেলে হংকং যেতে হতো, একটা সুপার ইমপোজ করতে গেলে ব্যাংকক যেতে হয়েছে। আর এখন তো মাংকি ক্যান ডু ইট ইন বাংলাদেশ। প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতার কারণে অনেক শিক্ষিত লোকজনও কাজ করছে। আগে কিন্তু তেমন ছিল না। পাকিস্তানের সময় ছিলো, ফজলে লোহানি, ফতেহ লোহানি, জহির রায়হান, এরা সবাই শিক্ষিত ভদ্রলোক। ৭১ এর পর এই রকম ভাল ছেলে আর পাওয়া যায় নি। তখন হঠাৎ করে একটা কমার্শিয়াল ধাপ চলে এলো। যেমন ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ঘরাণার, এইসব। ফলে ভাল সিনেমা আর ডেভলপ করলো না।

সবচে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইন্ডিয়ান ছবি ঢুকতে না দেয়ায়। ইন্ডিয়ান একটা দুটো ছবিও যদি ঢুকত, তাহলে কিন্তু কম্পিটিশন হতো। একদম কম্পিটিশন ছেড়ে দেয়ায় বাংলা ফিল্ম দিয়ে দেয়া হলো ‘মেন্টালি রিটারডেট’ কয়েকটা বাচ্চার হাতে। এরা যখন কমার্শিয়াল ফিল্ম করা শুরু করলো, একচেটিয়া, বছরে ৭৮ টা করে ফিচার ফিল্ম বের করলো। ভাবা যায়! কিন্তু ওই গুলো আসলে ছবি হয়নি। সব কমার্শিয়াল হয়ে গেছে। তখন যারা ডিসিশান মেকিংয়ে ছিলেন, তাদের বোধহয় কোথাও একটা ভুল হয়ে গেছে।

তখন তো বাণিজ্যিক সিনেমাতেও ভালো দৃশ্যায়নের চেষ্টা থাকতো, ভাল গল্প, অভিনয় সবই গড়ের উপরে ছিলো। পরে হয়তো ধীরে ধীরে নিচে নামছে। তখন কলকাতাতেও ঢাকাই সিনেমার গল্প নকল করে ফিল্ম হতো, তো আমরা পিছিয়ে পড়লাম কেন?

প্রতিভা থাকলে ছাই দিয়ে তো চাপা দেয়া যায় না। আগুন থাকলে তা বের হবেই।

ঢাকাই সিনেমাতে কারো প্রতিভা ছিলো না?

না, ছিলো। কিন্তু আগুনটারে তোমরা ঢুকতে দাও নাই। বাড়তে দেয়া হয় নাই আসলে। যে কারণে বাদল ভাইদের মতো নির্মাতাদেরকে একটা ফিল্ম করেই চুপসে যেতে হয়েছে।

ঢুকতে দেয়া হয় নাই কেন?

কারণ তখন যারা ছিলো ইন্ডাস্ট্রিতে তারা ফিল্ম ইন্সটিটিউটকে ভয় পেয়েছে। বাদল ভাইকেও কিন্তু বাইরে থেকে ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ বানাতে হয়েছে। সে কিন্তু এফডিসির ভেতরে থেকে করতে পারে নাই। আলী যাকেররা তাকে হেল্প করছে, বাইরে থেকে।

ঢুকতে দেইনি কেনো? এফডিসি কি তখন ঢাকার মাস্তানদের দখলে ছিলো?

মাস্তান নয়, টেকনিক্যালি বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। যেমন আমার কথাই ধরো। আমি যে ফিল্ম বানাতে পারি তা কিন্তু তুমি জানো। কারণ তুমি আমার ফিল্ম দেখেছ। তখন একজন প্রোডিউসার আমাকে নিতে চাইলো। এফডিসির লোকজন তাকে মানা করলো যে, ‘জাঁ নেসারকে নেয়া যাবে না’।

আনোয়ার ভাই (ক্যামেরা) আর টুটুলের (সম্পাদনা) কাজ ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’, যেটা বাংলা সিনেমার জন্য মাইলস্টোন ছিলো। কিন্তু এই ছেলেগুলো কিন্তু পরে আর কাজ পায় নি। না সরকার কোন হেল্প করছে, না কমার্শিয়াল ফিল্মের লোকজন তাদের ডেকেছে। ইন্ডিয়াতে কিন্তু আরডি বর্মণ সত্যজিত রায়কে ফিন্যান্স করেছে। এমন অনেকেই আছে যারা চাইলেই লগ্নি করতে পারতো, নাম ধরেই বলি ট্রান্সকম পারতো, অনেক ধনী ছিলো যারা হয়তো লগ্নি করতো, কিন্তু তারা করেনি কারণ, সেসময় যারা মেকিংয়ে ছিল আমজাদ হোসেন-টোসেন যারা ছিল, প্রায় সবার ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ফিল্মে যদি কোন ভদ্রলোক টাকা ঢেলেছে তাহলে তার টাকাটা মার খেয়েছে। টাকা নেয়া হতো কিন্তু ছবি শেষ হতো না।

এই টাকা কি মেরে দেয়া হয়েছে?

(প্রশ্নের সাথে জোর দিয়ে) মেরে দেয়া হয়েছে! এই সব কারণে হলো কি, ভদ্রলোকেরা সিনেমায় আর লগ্নি করলো না। প্রথম দিকে যখন প্যাকেজ নাটক বানানো শুরু হলো, তখন প্রচুর লোক এসেছে প্যাকেজ নাটক করতে। কিন্তু তারা এখন কই? নাই। যাদেরকেই টাকা দিয়েছে, মেরেছে, খেয়েছে, কিন্তু শেষে আর কাজটা হয়নি।

jean-nesar-osman-2

এই সব কিছু থেকে উত্তরণের কোন উপায় কি আছে?

এখন টেকনোলজি আছে। ডেফিনেটলি, বাংলাদেশ কিছুদিনের মধ্যে ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ডের সিনেমা বানাবে। তুমি বললেই হবে না। পিঁপড়াবিদ্যা বা আরো কিছু ভাল কাজ হয়েছে। যারা দেখেছে, বা যারা দেখে নাই তাদের সবাইকেই বলছি, পিপড়াবিদ্যা ওয়াজ এ ভেরি গুড ফিল্ম। তবে সিনেমা যে আবার ধ্বংস হবে, এটা হবে ‘জাজ ফিল্মস’ এর জন্য। জয়েন্ট ভেনচার-টয়েন ভেনচার করে-টরে আবার ওই নোংরা জিনিসই ঢুকানো হচ্ছে। অবশ্য কিছু ভাল কাজও হয়েছে, ‘শঙ্খচিল’, ‘মনের মানুষ’। যদিও ‘মনের মানুষ’ মে বি ম্যাকিং ইজ ভেরি পুওর, তবুও। রেইনকোট (মেঘমল্লার) দেখছো কিনা জানি না? এইটা একটা বিউটিফুল ফিল্ম। হয়তো হলে তেরো জন লোক, আমি সহ চৌদ্দজন কিন্তু সিনেমাটা খুবই ভালো। কিন্তু যারা কাগুজে বাঘ, এই ‘মোরশেদ-টোরশেদ’, এদের কাজ হয় না। তারা এমন ভাব করে যে, তারা সব জানে পৃথিবীর। কিন্তু সিনেমা দেখলে কান্না আসে। এরা আসলে মার্কেটিং জানে। কিন্তু ফিল্মটা হয়তো জানে না।

রেকর্ডেট এই আড্ডার আগে আপনি কোকাকোলা আর পেপসির বুদ্ধিবৃত্তিক ফাইটের কথা বলছিলেন। তো এখানকার ভাল নির্মাতারা কেনো বুদ্ধিবৃত্তিক ফাইট দিতে পারছে না?

ভেরি সিম্পল। তোমার মালিক কারা? পাকিস্তান আমলে কারো বাসার চাকর, কোন ব্যাংকে দারোয়ান। তারা আজকে মাল্টিন্যাশনাল হয়ে গেছে। তো ওই দারোয়ানটি তার রুচিতেই সিনেমা বানায়। বিদেশে একটা পেইন্টিং কিনলেও সেটা ঠিক করে দেয়ার জন্য প্যানেল অফ এক্সপার্ট থাকে। তারাই ওখানে ঠিক করে দেয় কোন অ্যাড তুমি বানাবে। আমি প্রচুর অ্যাড বানিয়েছি, বাড়ির কাজের মেয়েটি সেই অ্যাড দেখেছে, তার কমেন্টসের ওপরে ছবি ঠিক করতে হয়েছে। এই জিনিস তো বাহিরে নাই, বস। তোমার এখানে মালিকটা কে তা আগে চিন্তা করতে হবে।

‘ঘুড্ডি’ নামের একটা সিনেমায় দেয়ালে পিকাসোর পেইন্টিং ঝুলতে দেখছিলাম। 

সালাউদ্দিন জাকির করা, ঘুড্ডি, তারপর আর একটা সিনেমা করতে পারছিলো বোধহয়। আয়না বিবির পালা। জাকি কিন্তু ফিল্ম ইন্সটিটিউটের ছেলে। তাই তার ফ্রেমে সে পিকাসোরে রাখতো। যারা কমার্শিয়াল করেছে তারা তো কাটপিস দিয়ে কি সব শুরু করে দিলো। এগুলার দোষ কিন্তু আবার স্ট্রেইট সরকারের উপর আসে।

আপনার ভাই সরকারে আছে। ইয়াফেস ওসমান?

না, আমি তো ৪০ বছর আগের সরকারের কথা বলছি।

না, এখন আপনার কি মনে হয়, উনি কি চাইলে পারবে?

তাকে যদি ইনফরমেশন দেয়া হয় সে হয়তো পারবে। কিন্তু ও তো গেছে রূপপুরে, নিওক্লিয়ার টেকনোলজি বানাচ্ছে।

আপনি যদি তাকে সাহায্য করেন?

এটা কিন্তু প্রমানিত যে, ইয়াফেস চুরি করে না, মতিয়া চৌধুরী যেমন করে না। তা মন্ত্রীরা যে পয়সা চুরি না করেও থাকতে পারে তার প্রমাণ তো থাকছে। তাহলে অন্য মন্ত্রীরা কেনো পারবে না আমি তো বুঝি না।

পশ্চিমে তো বানিজ্যিক কিন্তু ভাল কাজ হচ্ছে। ভারতেও হচ্ছে। আমাদের এইখানে তো কমার্শিয়াল ফিল্মই দাঁড়াচ্ছে না?

এখানে ফিল্ম মেকার তো নাই। জাকি ভাইকে একটা দুটো ফিল্মে আটকে ফেলেছ, বাদল ভাই একটা ছবি, আমার একটা ছবি আটকে আছে ১৮ বছর, কমার্শিয়াল ছবি। ফোরটিন রিল ফিল্ম, ওইটা কেটে এগারো রিল করা হলো। রিসেন্টলি দিয়েছি, ইনু ভাই (তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু) আসার পরেই বলেছিলেন, আমি ক্ল্যাসিফিকেশন করে দেবো। এই মুভি অ্যাডাল্টদের জন্য। তারপরও আবার একুশটা কাট দিয়েছে। কুকুর জিভ বের করে হাপাচ্ছে- সেটা নাকি সেন্সর বোর্ডের কাছে খারাপ লেগেছে। এখন সেন্সর বোর্ডে কারা থাকে? যারা ফিল্ম মেকিং জানে না, কিচ্ছু জানে না! বিসিএস পাশ করা আমলারাও সেন্সরের মেম্বার। তাহলে তো হবে না। প্রকৃত শিক্ষিত লোক না আসলে হবে না।

খাবার রেখেছো আঙ্গুর এবং মানুষের বিষ্ঠা। আর জাজ করতে দিচ্ছ কুকুরকে। তো কুকুর কোনটা খেতে বলবে? এখানে জাজ মানুষ হলে সে আঙ্গুর খেতে বলবে। কিন্তু কুকুর হওয়ায় সে মানুষের বিষ্ঠা খেতে বলছে।

এই সেন্সর বোর্ড আমরা তুলতে পারি কিভাবে? কোন বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন?

আন্দোলন করতে আসবে কারা? এখানে সেন্সিবল হিউম্যান বিয়িং কই? কারা আন্দোলন করবে?

ইন্ডিয়াতে ‘উড়তা পাঞ্জাব’কে কিন্তু পিঞ্জিরে (সেন্সর) আটকাতে পারে নাই। এখানে এনামুল কবির নির্ঝরের একটা সিনেমা আটকানো হয়েছিল। নাম ‘নমুনা’। পরে ফিল্মটাকে আর ছাড়তে দেয়া হয়নি। এই লোকটা সিনেমা বানাতে পারে। সিনেমা জানে এমন নির্মাতাদের সিনেমা আটকানো হলে সরকারের তো কিছুটা দায় থাকে? তাই না!

তোমার দেশে তিন বছরের মেয়ে রেইপ হয়! আর হুট করে সিনেমা ভালো হয়ে যাবে! হয় টোটাল সোসাইটি নিয়ে উঠো, না হলে যেভাবে ইচ্ছা চলো। ইউনাইটেড না হলে তো হবে না, একা কি করে পারবে! পুরো শরীরে অসুখ, কিন্তু আঙ্গুলটা খুব সুন্দর। হয়? টোটাল সোসাইটির তেরটা বেজে বসে আছে। আর অনুদান কি হচ্ছে? অনুদানও ওই চেনা মুখ থেকেই হচ্ছে। আমি যদি ইনু ভাইকে ‘ঘোড়া’ সিনেমাটা না দেখাতে পারতাম তাহলে হয়তো হতো না। ‘ঘোড়া’ দেখে ইনু ভাই ঝগড়া করে আমাকে অনুদান দিয়েছে। ওরা বলেছে, ‘জাঁ নেসারকে দেয়া যাবে না। সে ফিল্ম শেষ করতে পারে না।’ ইনু ভাই বলেছে, ‘আমি ওর ফিল্ম দেখেছি।’ তো এই যদি করতে হয়, আমাকে যদি পলিটিক্সই করতে হয়, তাহলে ফিল্মটা হবে কখন?

অনুদান থেকে ভাল ফিল্ম হচ্ছে না কেন? অনুদানের টাকা কি তাহলে অপচয় হয়?

ভাল জায়গায় অনুদান দিচ্ছে না। দিচ্ছে কাকে খোঁজ নিয়ে দেখো না। ভালো ফিল্ম মেকার কই?

ফিল্ম পাড়ায় একটা কথা প্রচলিত যে, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র না হলে অনুদান পায় না।

নাহ, তা কই? বাচ্চাদের সিনেমা বা অন্য কোন সিনেমাতেও তো অনুদান দেয়া হয়।

ইন্ডিয়াতে কিন্তু পরিবেশটা ভিন্ন। ফিল্মে মন মতো কথা বলা যায়। কেউ আটকায় না।

হ্যাঁ, নির্ঝরের ছবিটা কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানকে কে মিমিক করছে। সেটা সেন্সর ধরতেই পারে।

রাষ্ট্রপ্রধানকে কে মিমিক করে যাবে না?

যাবে, তাহলে পুরো সোসাইটি ওভাবে আগাও। একটা ই-মেইল করলে, একটা স্ট্যাটাস দিলে তুমি ধরে তারে জেলে ঢুকায় দিতেছ। সেখানে সেলুলয়েডে আইনা তুমি মিমিক করো রাষ্ট্রপ্রধানকে, ওইটা কেন ছেড়ে দিতে হবে? হয় নাকি?

বাংলা ভাষায় যদি ‘হীরক রাজার দেশ’র মতো সিনেমা বানাতে পারে, তাহলে এখন কেন এমন সিনেমা বানানো যাবে না?

তুমি কে? তুমি তো ভারত নও। তুমি স্বাধীন রাষ্ট্র। আজকে তোমাকে গণতন্ত্র দিচ্ছি, তুমি যদি আমার বিরুদ্ধে কথা বলো, তাহলে আমি কি করে তোমাকে গণতন্ত্র দিবো। (হাসি)

তাহলে তো গণতন্ত্র হলো না?

গণতন্ত্র বলতে তো কিছু নাই, বস। রিয়েলিটি ইজ ডিফ্রেন্ট। মুখে তুমি যাই বলো। টকশো লাইভ যায়? বলে লাইভ, ঘোড়ার ডিমের লাইভ। হঠাৎ করে একটা দেশ ভাল হয়ে যাবে তা কিন্তু না। এটার দোষ কিন্তু আমার, তোমার, আমাদের, এবং সাধারণ মানুষদের। তোমরা কেন মেনে নিচ্ছ? তোমরা মেনে নিচ্ছ তার কারণ কিছু বলতে গেলে হারিয়ে যাবে?

আবার স্মরণ করিয়ে দেই, আপনার ভাইও কিন্তু সরকারে আছে?

সে যাই হোক না কেনো? রিয়েলিটি ইজ রিয়েলিটি। তা তুমি যত ভাইই হও না ক্যানো! তুমি বলতে পারবে না বাস্তবতা অন্যকিছু। এটা রিয়েলিটি। ওখান থেকে বের হয়ে আসতে হলে তো আমাদেরকেই বের হতে হবে। সরকারের কি ঠেকা পড়ছে নাকি, তোমাদেরকে বের করে আনতে হবে। তুমি যদি চাইতে জনগণতন্ত্র, পাবলিক হচ্ছে ওনার অফ দ্যা কান্ট্রি, তো এই মালিকেরাও তো চুপ করে বসে আছে। তো মালিক যদি চুপ করে থাকে, তোমার অসুবিধা কি?

পেটে খাবার আছে বলে কি জনগণ চুপ?

খাবার আছে কি নাই জানার আগে দেখো মাথায় ঘিলু আছে কি না! খাবার তো কুকুরের পেটেও থাকে। যারা টকশো করে, যত বড় বড় বাঘের বাচ্চা, একটাও রাস্তায় নামে? এসি রুমে টকশো করে তিন হাজার টাকা পায়, ওই পর্যন্তই তো দৌড়! রাস্তায় না নামলে কেমন করে হবে?

রাস্তায় নামে না কেনো?

নামবে কেনো? ওর কি ঠেকা পড়েছে? ওর পেটে ভাত আছে। এসি রুম আছে। তুমি রাস্তায় নামলে তোমারে ডেকে নিয়ে অ্যাডভাইজার বানানো হচ্ছে। তুমি কি করবা?

এমন অনেক লোভ তো জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকেও দেখানো হইছে?

তোমার কয়টা বঙ্গবন্ধু আছে? দেশের কথা বাদ দাও, পৃথিবীতে কয়জন বঙ্গবন্ধু জন্মেছে? এরা রেয়ার, বস। সবাই বঙ্গবন্ধু হলে, গোলাম আজম নাগরিকত্ব পায় কেমনে? যাই হোক আজকে কিন্তু নিজে থেকেই জাগতে হবে। ইন্ডিয়া থেকে এসে তোমাকে ফিল্ম বানিয়ে দিয়ে যাবে না।

jean-nesar-osman

এইখানে সিনেমা নিয়ে আপনি একটা পলিটিক্সের কথা বলছেন। ভালো মেকারদেরকে এফডিসিতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আবার আগে যারা মেকার ছিল, তারা তো টাকা পয়সা নিয়ে ভদ্রলোকদেরকে ভালই হেনস্থা করছে। তাহলে শুধু টেকনোলজির সুফলতা দিয়ে ভাল ফিল্ম হবে এটা কিভাবে বলছেন?

মোবাইল দিয়েও তো মানুষ এখন সিনেমা বানাচ্ছে, পাঁচ-দশ মিনিটের সিনেমা বানাচ্ছে। আগে ১০ মিনিটের একটা রিলের জন্য খরচ হতো ৩৬ হাজার টাকা। প্রসেস করতে লাগতো আরো ৫ হাজার। ডেভেলপ করতে আরো পাঁচ, ধরো ফিফটি থাওজেন্ট ফর টেন মিনিটস। আর এখন ১০ মিনিটের কাজের জন্য খরচ হয়, ১০ টাকা। চিটাগাংয়ে এক ছেলে সিনেমা বানিয়েছে মোবাইল দিয়ে, অদ্ভুত সুন্দর! মুখোশ না কি যেনো নাম। মনে নেই। এতো সুন্দর কাজ করেছে। একটা ছেলে মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায় সোসাইটিতে। পুরো সোসাইটির মুখোশ কে তুলে ধরছে। আজকে তুমি আলী যাকের বলো আর যাই বলো, এরা কিন্তু রুলস করতে পারতো। আজকে কেনো তুমি ইন্ডিয়া গিয়ে শ্যুট করতে পারো না?

কেনো পারি না?

কারণ তোমার ওয়ার্ক পারমিট নেই। আর কলকাতার লোকেরা কেন তোমার এখানে শ্যুটিং করে চলে যায়। বিকজ অফ আলী যাকের, গীতি আরা চম্পা, রামেন্দু মজুমদার। তারা কেউ এগুলো দেখেই না। জাতীয়তা বোধ বলতে কিছু তাদের কাছে নাই, আমার মনে হয়। খালি ব্যক্তিস্বার্থ, ব্যক্তিস্বার্থ, ব্যক্তিস্বার্থ!

এই ব্যক্তিস্বার্থে তো এখন প্রায় সবাই ডুবে আছে, তাই না?

ডুবে থাকলে এই হবে। তুমি যদি ব্যক্তিস্বার্থ থেকে না বেরোতে পারো, তাহলে এই হবে। কিন্তু তোমাকে তো ওইখান থেকে বের হইতে হবে।

আমরা কেমন করে বের হবো? আমরা তো ঘুমাচ্ছি। জাগিয়ে দেয়ার দায়িত্ব তো আপনার। আপনার বাবা বলছিলো, ‘নগর পুড়লে দেবালয় এড়ায় না’? আপনি কি জাগানোর চেষ্টা করছেন?

জাগাতে গেলে আমার মাধ্যম ফিল্ম। তুমি ঘোড়া দেখেছ, আমি চেষ্টা করেছি। তোমাদের জাগাতে ডকুমেন্টারি বানিয়েছি। আমার একটা ডকুমেন্টারির শেষে একটা বাচ্চা বলে ‘আমাকে স্কুলে ভর্তি করো’। শিক্ষা না দিলে ডেভেলপ করতে পারবে না। তুমি শিক্ষা দিচ্ছ না। এই যে নুরুল ইসলাম নাহিদ, সিক্সটিজে আন্দোলন করেছে হামিদুল কমিশনের জন্য, অথচ এখন সে এসেই তো পারে না। আমাদেরই জাগতে হবে। কেউ জাগাতে আসবে না। শুনো যেইটাই হোক, ১০ বছর অপেক্ষা করো, দেখো কি হয়? বাংলা সিনেমার চেহারা পাল্টাবেই।

আচ্ছা, নতুন যারা কাজ করতেছে, কামার আহমেদ সাইমন, সরওয়ার ফারূকী, আবু শাহেদ ইমন, তৌকির আহমেদ এদের কাজ দেখে কি মনে হয়?

আমার মনে হয় মেকিং অন্য জিনিস। পাড়ার ছেলেরাও ফুটবল খেলে, আবার বিশ্বকাপেও খেলা হয়। তাতে কি? কেবল বানালেই তো হবে না। হচ্ছে কিনা সেটা দেখা দরকার। কে কে সিনেমা বানালো সেটা দেখার দরকার নাই। হচ্ছে কিনা সেটা দেখো। সচিবালয়ে এতো বড় একটা মিথ্যা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, কানে মাটির ময়না পুরস্কার পেয়েছে। এতো বড় মিথ্যা কথা, হয় কিছু? কানে দেখানো আর পুরস্কার পাওয়া কি একই কথা? হিটে যতো জন আসে সবাই কি বলবে আমি অলিম্পিকে পদক পেয়েছি?

তাহলে কি মাটির ময়না নিয়ে যে মিথ প্রচলিত, সেটা মিথ্যা?

মিথ্যা। নূর (আসাদুজ্জামান নূর) ভাইয়ের মতো লোকের সামনে এমন মিথ্যা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা কিছু বলতে পারি না কেন? কারণ আমাদের কোন কাজ নাই। আমার একটা কাজ আসুক, যদি বলতে পারি, এই দেখ আমার কাজ, এই আমি ফিচার ফিল্ম বানিয়েছি, তারপরে আমি বলতে পারবো।

এখন কিছু করতেছেন?

আমি একটা শেষ করেছি। পঞ্চসঙ্গী। শওকত ওসমানের গল্প। ফ্যামিলি ফিল্ম বলতে পারো। তবে ‘ঘোড়া’র চেয়েও ভাল হয়েছে। ‘পঞ্চসঙ্গী’ রিলিজ হলে ফিচার বানাবো। 

এইখানে কিছুটা সময় থামেন তিনি। একটা বিলবোর্ডের ছায়ায় দাঁড়িয়ে কিছুটা সময় বাতাসে শরীর মেশান। তারপর আবার ঘোরগ্রস্থ মানুষের মতো বলতে থাকেন—

আজকে এজেন্সি গুলা কি করে? শুধু টাকার জন্য কাজ করে। এরশাদের মতো লোক যত বড় স্বৈরাচারী বলো, সে কিন্তু বিদেশী মডেল অ্যালাউ করে নাই, অ্যাডের মধ্যে। যার ফলে হলো কি সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ছেলেদের ডেভেলপমেন্ট শুরু হয়ে গেল। অন্যদেশের অ্যাড যদি তুমি ঢুকতে না দিতে, তাহলে তোমার অ্যাড অন এয়ার করতে হতো! আজকে লাক্স-ফাক্স সব বিদেশ থেকে এড বানিয়ে অন এয়ার করে। এই গুলি বন্ধ করার দায়িত্ব ইনফরমেশন মিনিস্ট্রির প্লাস অ্যাড অ্যাজেন্সিগুলোর। আমাদের অ্যাজেন্সিগুলো তো দালাল। এজেন্টের বাংলা তো দালালই। গালি হিসেবে দেখো না। এরাও এসব করছে ব্যক্তিস্বার্থে। এই দালালিটা কিন্তু ইন্ডিয়ার লোকেরা করে না। ইন্ডিয়ার একটা চোর হলেও সে কিন্তু চাল নিয়ে দালালি করে না।

সাইফ আলী খান বা সালমান খানের বিজ্ঞাপন কিন্তু বাংলায় ডাবিং করে চালানো হয়!

হোয়াই? এটা ইন্ডিয়াতে করো? ইউরোপে করো? তা তো পারো না। তাহলে বন্ধ করো। গ্লোবাল মার্কেটিং বলে হয়তো তোমাকে আটকাবে। হুইচ ইজ বুলশিট। তাহলে কলকাতায় কেন করে না? ওর কেন ওপেন মার্কেট নাই? খালি তোমার বেলায় ওপেন মার্কেট। গরীবের বউ সকলের ভাবী। (হাসি) এটা হয় শুধু মাত্র আমাদের কারণে। তুমি তাদেরকে দোষ দিতে পার না। আলী যাকেররা কেন বলে না, এই চলবে না। আলী যাকেররা যদি সত্যিই দেশটাকে ভালবাসতো, উনি কিন্তু ধরতে গেলে মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় রেডিওতে কথিকা পড়তো। সেই ছেলেগুলো, অথচ অর্থের কাছে সে হেরে গেলো।  

আপনি কতোটা নিশ্চিত তারা অর্থের কাছে হেরেছে?

চোখের সামনে দেখা। যেয়ে দেখ না ওর অফিসে। বনানীতে। লিফটওয়ালা বাড়ি। পাঁচতলা। ৭১ এ পাকিস্তানের অ্যাড অ্যাজেন্সিতে চাকুরী করতো আলী যাকের। তখন ঠিক হলো এগুলো তো শত্রুর সম্পত্তি। তারা তখন কম্যোনিস্ট। যত ওয়ার্কার আছে সবার নামে অ্যাড এজন্সিটা নেয়া হবে। এটা কমার্স ব্যাংকের ওভার ড্রাফটে চলতো। তখন আলী যাকের ওখানকার কর্মচারী। ঠিক হলো যারা কর্মচারী তারা মালিক হয়ে যাবে। সত্যিকার অর্থে মার্ক্সবাদ বলতে যা বুঝো তুমি। শ্রমিকরাই হবে মালিক। আর কেনার সময় আলী জাকেরের নামে কিনে ফেললো। তখন শ্রমিক গেলো কই? একটাই শ্রমিক ছিল?

এটা তো প্রতারণা? 

প্রতারণা মানে… এতো বড় বড় বাঘের বাচ্চা তোমাদের সামনে, দে আর দ্যা ডেমি গড। সাধারণ মানুষের কাছে দেবতা।  

আবার থামেন তিনি। হয়তো কথা বলতে বলতে ক্লান্তি আসে জাঁ নাসের ওসমান’র। তারপর আবার বলেন…

আজকে টিভি চ্যানেলগুলো কি হয়েছে দেখ, যাকে যাকে টিভি চ্যানেল দেয়া হয়েছে, তারাই বিক্রি করে দিয়েছে। এখন মালিক কে, হয় সে দুধ ওয়ালা, ডিম বেঁচে, মিডলইস্টে ড্রাইভার ছিল, সে এখন টিভির মালিক। খুলনাতে খুনের দায়ে পালিয়ে গেছে জার্মানিতে সে এখন টিভির মালিক। এই হচ্ছে টিভি মালিকদের একেজনের ব্যাকগ্রাউন্ড। আমার মনে হয়, এখানে লতিফুর রহমানের মতো ভদ্রলোকদের আসা উচিৎ ছিলো। এরা তো শিক্ষিত মানুষ। এদের হাতে হয়তো শিল্প-সংস্কৃতির উন্নতি হতো।

এরা এগিয়ে আসে নি কেনো?

কিভাবে আসবে? কথার কথা, যেকোন অনুমতি নিতে পাঁচলাখ-ছয়লাখ টাকা লাগে। তো ভদ্রলোকেরা যাবে ওখানে? ঘুষ না দিলে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায় না। ট্রেড লাইসেন্স তো এমনি দেয়া উচিৎ। ট্রেড লাইসেন্স এমনি দিলে সরকারের লাভ না। নিজের চাকরী নিজেই করে নিচ্ছে।

সমস্যা?

কিন্তু সলভ তো আমাদেরই করতে হবে। খালি পিএম করে দিবে সব। সব জননেত্রী শেখ হাসিনা করবেন আর আমরা বসে থাকবো তাহলে তো হবে না। উনি আর কতো করবেন? আমাদের জন্য কম করেছেন উনি। বাংলাদেশ কিন্তু ধীরে ধীরে ডেভেলপ করে যাচ্ছে বিকজ অফ শেখ হাসিনা। আজকে তো মেয়েরা রাস্তায় হাটতে পারে। গায়ে হাত দেয় না লোকজন। সিক্সটিজে টেডি প্যান্ট পরেছে। ছেলে। ওকে ব্লেড মেরেছে পেটে। আমাদের সময়। সেই যায়গা থেকে সোসাইটি এখন কোথায় চলে গেছে। কত ডেভেলপ করেছে শেখ হাসিনা। আজকে নিজেদেরকে জাগতে হবে। হবে। হবে। না হলে হবে না। ইউরোপ থেকে লোক এসে করে দিবে না।

আমার বানানো অ্যাড মাছের রাজা ইলিশ-বাতির রাজা ফিলিপস চৌদ্দ বছর চলেছে বিটিভিতে। এই চৌদ্দ বছরে কমিশন কতো পেয়েছে এজেন্সি? নিশ্চয় কমিশন পেয়েছে। সেই অ্যাজেন্সি কিন্তু আমার প্রপার টাকাটা দেয় নাই। তারা আবার দাবী করে তারা মুভি মেকার। অ্যাজেন্সিগুলো যে এই নোংরামিগুলো করে, তাহলে হবে? আজকে সনির মতো টিভি চ্যানেল, পয়সা না দিয়ে পেরেছে? তোমার দেশে কেনো পারো না?

কেন পারে?

আমাদের মেকারদের একতা নাই। আজকে তো বিএনপি মেকার, আওয়ামী লীগ মেকার। কেমন করে হবে। সবাই ভাগ হয়ে বসে আছে।

কেন ভাগ হতে হবে?

কমনসেন্স, সুবিধার জন্যে। আজকে আওয়ামী লীগ পাওয়ারে আসলে আমি যদি তাদের দলের হই, তাহলে অনুদানের টাকাটা পাবো। আবার বিএনপি’র মেকার হলে তাদের সময়ে আমি যদি বিএনপি হই তাহলে পাবো। মিডিওকার তো সবসময়ই দৌঁড়াবে টাকাটা পাওয়ার জন্য।

এই মিডিওকার অন্য দেশে নাই?

অন্য দেশে আছে। তবে বড়দের কাছে পাত্তা পায় না। কারণ বড়দেরকে সাপোর্ট দেয়ার মতো অন্য লোক আছে।

আমাদের এখানে এই সাপোর্ট কেন মেকাররা পায় না?

ট্রান্সকম কেন দেয় না? গ্রামীণ বা আরো বড় যারা আছে তারা কেন দেয় না? ওদের কিন্তু সিএসআর আছে। ৩০ পারসেন্ট করে। করপোরেট স্যোশাল রিসপন্সিবিলিটি। সেই টাকা কোথায় যায়? দেখ কোথায় যায়। স্যোশাল রিসপন্সিবিলিটি আছে গ্রামীণের? বা অন্যদের? স্কুল কলেজ কিছু করেছে? হসপিটালে টাকা দেয়? কেন দেয় না? আগে বিটিসি লং প্লে গানের রেকর্ড তৈরি করে দিতো। বাংলাদেশ ট্যোবাকো কোম্প্যানি। তারা তখন আর্ট কালচার করেছে। কেন? রামেন্দু মজুমদার ছিলো ওদের এজেন্ট। সে তাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে শিল্প-সংস্কৃতিতে টাকা দেয়া দরকার। এখন কেন হয় না? এখনো রামেন্দু মজুমদার বেঁচে আছে, বিটিসি আছে। এখন কেন হয় না। কারণ তোমরা এগিয়ে আসো না। একজন আর কত বলবে? চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্র করছো? লেলিনের মতো লোকও কিন্তু সিনেমাকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে বলেছে।

সম্পাদনা: তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ


করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার