Saturday, June 18th, 2016
গুপ্তহত্যার হোতাদের আড়াল করতে ক্রসফায়ারে ফাহিম!
June 18th, 2016 at 5:48 pm
গুপ্তহত্যার হোতাদের আড়াল করতে ক্রসফায়ারে ফাহিম!

ঢাকা: মাদারীপুরে সংখ্যালঘু কলেজ শিক্ষককে হত্যাচেষ্টাকালে ধৃত ফয়জুল্লাহ ফাহিম (১৯) রিমাণ্ডে থাকা অবস্থায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’-এ নিহত হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। শিক্ষক, লেখক, প্রকাশক, কবি, সাংবাদিক, ভাষ্কর, চলচ্চিত্র নির্মাতাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিমত, দেশে চলমান ধারাবাহিক গুপ্তহত্যার মূল হোতাদের আড়াল করতে ফাহিমকে হত্যা করেছে সরকার বা পুলিশ।

ফাহিমের মৃত্যু নিয়ে শনিবার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত মতামতের একাংশ নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। এখানে উল্লেখ্য, কলেজ শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় রিমান্ডে থাকা ফাহিম (১৯) এই দিন ভোরে নিহত হন।

কাবেরী গায়েন (কবি, লেখক, শিক্ষক)

* অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ধৃত শিবিরের ছেলেটি মারা গেলো জেলে। এবার শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যার সময় ধরে ফেলা ফয়জুল্লাহ ‘ক্রসফায়ারে’। আমরা, সত্যি বলছি, কিছুই বুঝিনি। আমাদের যতোটা বোকা মনে করা হয়, আমরা আসলে তারচেয়েও অনেক বোকা। আশ্বস্ত করছি তাঁদের, যাঁদের জন্য প্রযোজ্য।

রবীন আহসান (ছড়াকার, প্রকাশক)

* ফাহিমের মৃত্যু কোনো সমস্যারই সমাধান দিল না। শুধু প্রশ্নই আরো বাড়িয়ে দিয়ে গেল। তবে কী ফাহিম এমন কিছু বলেছে, যা সরকারের জন্য অস্বস্থিকর? এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম বলেছে, যা প্রকাশিত হলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো সংকটগ্রস্ত হবে? নাকি, ফাহিম কিছুই বলেনি? পুলিশ বা সরকার তার কাছে যা চেয়েছে, যেভাবে চেয়েছে, তা পায়নি বলেই এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’?

* এই রাষ্ট্রে আমি আর একমুহূর্ত নিরাপদ মনে করছিনা নিজেকে! আমার বন্ধুর খুনীরাও আড়াল হয়ে গেলো তোমাদের ক্রসফায়ারের খেলায়!!! এই ফাইম খুনীটাকে কারা ধরেছিল- জনগণ। পুলিশ বাহিনী আপনারা কিন্তু জনগণের টাকায় খানদান কিন্তু একজন খুনীকেও গত ২ বছরে ধরতে পারেননি !!! জনগণ ধরলো যে খুনীকে আপনারা তারে সহজ কাজটি করে বিদায় দিলেন!!! ফাইম-এর দেয়া তথ্য কি রাষ্ট্রের জন্য বিপদজনক ছিল ? কোন দেশ কাদের স্বার্থ রক্ষায় ফাইমকে ক্রসফায়ারে দিলেন?

রেজা ঘটক (গল্পকার)

* জঙ্গী গোলাম ফয়জুল্লাহ ফাহিমের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার গল্প যিনি রচনা করেছেন, তিনি গল্প লেখায় একেবারে কাঁচা! সকাল সাতটায় প্রকাশ্য দিবালোকে মাদারীপুর সদর থানার মিয়ারচর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে পুলিশ অন্য সন্ত্রাসীদের কাউকেই ধরতে পারলো না। অথচ নিহত জঙ্গী ফাহিম ও আহত পুলিশ সদস্য আলী হোসেন আর ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, তিনটি গুলি ও ছয়টি গুলির খোসা নিয়েই বীরের মত ফিরে আসলো!! নিজেরা তো জঙ্গী ধরতে পারেই না, আম-জনতা একজনকে হাতেনাতে ধরে দিল, তাকেও বন্দুকযুদ্ধে হারিয়ে ফেললো! আহা কী চৌকশ দক্ষ পুলিশ! আহা এমন পুলিশদের জনগণের করের টাকায় পোষা হচ্ছে!! পুলিশের বেতন ভাতা আরো তিনগুণ বাড়ানো হোক। যাতে ভবিষ্যতে পুলিশ আরো ভালো গল্প বানাতে পারে!!

গোঁসাই পাহলভী (ভাষ্কর ও গবেষক)

* ফাহিম হত্যা সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত এবং সমাধান! আশা করছি নাগরিক বুদ্ধিজীবীরা এবার নিজেদের কাজে মনযোগী হবেন, অন্ধকারে ঢিল ছোড়া বন্ধ করবেন!

রিফাত হাসান (লেখক, ব্লগার)

* ফাহিম নামের ছেলেটারে মেরে ফেলা হইছে। আমাদের ধারণা সত্য হল। এই পরিকল্পিত খুনের বিচার চাইতে যেন আপনার বুদ্ধিবৃত্তি লাজুক হইয়া না পড়ে। কার কাছে বিচার চাইবেন তারও ফয়সালা জরুরি। আমরা কি এইভাবে হত্যা হতে থাকবো, পুলিশ ও আততায়ীর হাতে?

* বঙ্গিয় সাহিত্যিকবৃন্দ, চাপাতিরে থামতে বলবার কিছু নেই। গুলি থামান। কথা বলতে দিন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন। অন্যায় ও অবিচারের মধ্যেই চাপাতি নিজের জায়গা করে নেয়। গুলি থামলে, চাপাতি আপনা আপনি থামবে। বরং, বিচারবিদ্বেষী এই সরকার ও প্রশাসনের প্রতি ন্যায়বিচারের জন্য আওয়াজ তুলুন। সোচ্চার হোন, যদি বুকে বল থাকে। আলগা কাব্য মারায়েন না।

সোনিয়া ইসলাম নিশা (কবি, শিক্ষক)

ফয়জুল্লাহ ফাহিম বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়া মানে কী আসল অপরাধীদের রেহাই পেয়ে যাওয়া নয়?! জঙ্গি নির্মূলে সরকারের স্বদিচ্ছা আসলে রূপকথা ছাড়া কিছুই নয়। মাঝখান থেকে সমগ্র বাংলাদেশে ধরপাকড়ে পুলিশের কিছু ইনকাম হচ্ছে। সামনে ঈদ বলে কথা… নিরাপত্তা বলে কিছু নেই এই দেশে।

অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ…

নিলয় সোবাহান (লেখক, সাংবাদিক)

* মাদারীপুরের কলেজ শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় আটক ফাহিমকে পুলিশ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা করলো । ফাহিমকে জনতা ধরে দিয়েছিল। জনগণ ক্রসফায়ার চায়না,জনগণ চায় জঙ্গি উতস খুঁজে বের করুক পুলিশ এবং তা নির্মূল করুক । আটক ফাহিমকে হত্যা করার পর সে সুযোগ আর থাকল না । জঙ্গীদের মূল হোতারা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে গেল । ফাহিম হয়তো মূলহোতাদের নাম বলে দিয়েছিলো ।

হেফাজতকে বাঁচাতেই জঙ্গিদের ক্রসফায়ারে দিচ্ছে আম্লীগের সরকার । জঙ্গি দমন করার কোনো ইচ্ছেই আম্লীগের সরকারের নেই । তাদের একমত ব্রত হেফাজতের কাছে বিশ্বস্ত থাকার জন্য ধামাচাপা নীতি অব্যাহত রাখা

শেখ মামুন (সাংবাদিক)

গুপ্ত হত্যা চলছিলো । বলা হচ্ছিলো, ঘাতককে ধরা যাচ্ছেনা । অবেশেষ ঘাতককে পাকড়াও করলো জনতা । সেই জনতা, যারা পাকিদের নিরস্ত্র হাতেই জীবনবাজি রেখে পাকড়াও করেছিলো । এবারো সেই জনতা পাকড়াও করলো গুপ্ত ঘাতককে ।  পাকিদের বাঁচানোর জন্য তখন যেমন রাজাকার, আলবদর, আলশামস তৎপর ছিলো । এখন গুপ্ত ঘাতকদের বাঁচাতে তৎপর ক্রসফায়ারওয়ালারা । কেনো? কি কারণে? কি ধামাচাপা দিতে? ‘নাই’ করে দেয়া হলো ফাহিমকে । কোন পাড়া-মহল্লার সম্পৃক্ততার খবর ফাঁস হবার ভয়ে ?

পুলক ঘটক (সাংবাদিক)

দশ দিনের রিমান্ড। প্রথম রাতেই “ক্রসফায়ার”! মানতে পারলাম না। তাকে হয়তো জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে। সেটাই কি যথেষ্ট? অনেক কিছু জানার ছিল; অনেক আসামী, অনেক আলামত, অনেক বিষয় সনাক্তের প্রয়োজন ছিল। কিছুই হলনা। অপরাধীদের প্রতি মানুষের সমর্থন নেই। কিন্তু সময়ের আগেই কিছু করলে মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়।

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী ( বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা)

* বন্দুক, তুমি যুদ্ধ বোঝো, তদন্ত বোঝো না? এখানে এই আক্রমণের হাত থেকে আস্তিক নাস্তিক, হিন্দু মুসলমান’, নারী পুরুষ, সিভিলিয়ান পুলিশ কেউই ছাড় পাচ্ছিলো না, যেখানে এটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেছিলো এবং আমরা কোনো বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের আলামত দেখছিলাম না, সেখানে মাদারীপুরের মানুষ এক আসামী হাতে নাতে ধরে ফেলার পর আশা করছিলাম ভেতরের কলকাঠির সুলুক সন্ধান করা হবে। সেই স্থলে এই বন্দুকযুদ্ধের কি মানে?

দুই; যদিও আমি জানি এই শব্দ ব্যবহারের তাৎপর্য কি, তবুও সংখ্যালঘু শব্দটা কেনো জানি আমি নিতে পারি না। সরাসরি হিন্দু বা অন্য যে পরিচয় আছে সেটা লিখলে কি ক্ষতি? আমার কোনো বন্ধুরে লঘু ভাবতে আমার খুবই আপত্তি হয়। ছোটবেলা থেকেই আমাদের কোনো হিন্দু বন্ধুরে আমরা কখনো লঘু হিসাবে দেখছি বলে মনে পড়ে না। এই ভাবা বা ডাকার মধ্যেই আমি ঝামেলা পাই। আমার মনে হয় এর মধ্য দিয়ে আমি আমার মতোই একজনকে চাপ দিয়ে ছোটো বানাইয়া দিচ্ছি। আমি তখন আর তার চোখের দিকে তাকাইয়া কথা বলতে পারি না।

এর আগে ১৬ জুন এই নির্মাতা বলেছিলেন-

* মাদারীপুরের মানুষকে স্যালুট। যদিও মনে করি জনতা নিজেই নিজেকে প্রটেকশন দিবে এটা কোনো সাসটেনেবল মেথড না, তবুও একটি মোটর সাইকেল, কটি চাপাতি যখন সারা দেশ জুড়ে মানুষ মেরে যাচ্ছে ধরা না পড়েই, তখন জনতা হাতে নাতে জঙ্গী ধরে ফেললে একটু হলেও আশা জাগে ।  এইবার একটু তদন্ত করেন। ভেতরে কি আছে দেখেন। এই খুনের মিছিল থামান।

হুমায়ুন কবির খোকন (লেখক ও সাংবাদিক)

জঙ্গি’ ফাহিম রিমান্ডে থাকাকালে ‌’বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত। সব তথ্য কি – পাওয়া গিয়েছিল? নাটের গুরু কে? কারা ওদের লালন করে, পাঁচ দিন কোথায় ছিলো? এত নিরাপত্তা, এত পদক্ষেপ তবুও জঙ্গিরা ওত পেতে থাকে। কি সাহস! পুলিশকে গুলিও করে?

রওশন আরা মুক্তা (কবি)

* হাতকড়া লাগানো অবস্থায় ফাইজুল্লাহ নামের এক তরুন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে… – ছেলেটাকে এভাবে মেরে ফেললেন???

সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন (উন্নয়ন কর্মী)

* ভ্রান্ত আর্দশে মানুষ মারা জঙ্গী আর বৈধ বন্দুকে মানুষ মারা পুলিশ। দুইয়ের মধ্যে ফারাক আমি বুঝি না।

অমি রহমান পিয়াল (মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, ব্লগার)

* এই ভয়টাই পাইতেছিলাম। শর্ষের ভুতগুলারে বাঁচাইতে এটা করতো পুলিশ।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসকে/জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন


দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের

করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের


দেশে করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু

দেশে করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু


ভোট সুষ্ঠু হয়েছে; দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের

ভোট সুষ্ঠু হয়েছে; দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খসড়া তালিকায় গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খসড়া তালিকায় গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন


মিরপুর চিড়িয়াখানা খুলছে ১ নভেম্বর

মিরপুর চিড়িয়াখানা খুলছে ১ নভেম্বর


দুর্গাপূজা নিয়ে ডিএমপির ৫ সিদ্ধান্ত

দুর্গাপূজা নিয়ে ডিএমপির ৫ সিদ্ধান্ত


সিলেটে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে ‘আমরা সিলেট বাসীর’ মানব বন্ধন

সিলেটে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে ‘আমরা সিলেট বাসীর’ মানব বন্ধন


নিক্সন চৌধুরীর বিচার চেয়েছে বিসিএস প্রশাসন

নিক্সন চৌধুরীর বিচার চেয়েছে বিসিএস প্রশাসন