Wednesday, June 8th, 2016
গুপ্তহত্যা দমনে হার্ডলাইনে সরকার
June 8th, 2016 at 6:15 pm
গুপ্তহত্যা দমনে হার্ডলাইনে সরকার

প্রীতম সাহা সুদীপ, ঢাকা: ধারাবাহিক গুপ্তহত্যা বা ‘সিরিয়াল টার্গেট কিলিং’ ঠেকাতে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ‘ক্র্যাকডাউন’ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উগ্রপন্থিদের প্রতিহত করতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে সর্ব্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘গুপ্তহত্যা করে কেউ পার পাবে না। যারা হত্যা করছে তারা এবং তাদের প্রভু যেই হোক না কেন, তাদের আমরা রেহাই দেব না।’

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর সোমবার রাত থেকেই জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই রাতেই পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ঢাকা এবং রাজশাহীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন সদস্য নিহত হন। তাদের মধ্যে রাজধানীর কালশিতে নিহত দুই জেএমবি সদস্য তারেক হোসেন মিলু এবং সুলতান মাহমুদ ওরফে রানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যা এবং বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এছাড়া রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর চাপড়া এলাকায় সোমবার বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন বাগমারায় আহমদিয়া মসজিদে বোমা হামলাকারীর সহযোগী জেএমবি সদস্য জামাল উদ্দিন। আর মঙ্গলবার গভীর রাতে বগুড়ায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. কাওসার নামে আরেক সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য নিহত হন। তিনিও বগুড়ার শিয়া মসজিদে হামলায় জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে ঢাকা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযানে পুলিশ-র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অন্তত পাঁচ সন্দেহভাজন উগ্রপন্থি নিহত হয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে জানান, গত দেড় বছরে  ৪৭টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ২৫টির সাথে জেএমবির জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে পুলিশের হাতে। ১০টি হামলায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) জড়িত। বাকিগুলোতে অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। বর্তমানে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছয়টি জঙ্গি সংগঠন থাকলেও জেএমবি এবং এবিটিই বেশি সক্রিয়। তাই টার্গেট কিলিং ঠেকাতে আগে এই দুই জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে‘ক্র্যাকডাউন’ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জঙ্গি বিরোধী এ অভিযানে উত্তরাঞ্চলসহ জঙ্গিপ্রবণ জেলাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে যারা নিহত হয়েছে, তারা সকলেই নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি’র সদস্য। নিহতরা বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করেছে। সংখ্যালঘুদের জীবন রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করতেই তারা টার্গেট কিলিং-এর পথ বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা। এছাড়া সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিতরাও জঙ্গিদের টার্গেট হচ্ছেন।’

মনিরুল বলেন, ‘টার্গেট কিলিংয়ের পর সাইট ইন্টেলিজেন্সসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আইএসের নামে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়া হচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইএস এর অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই। অধিকাংশ ঘটনায় জেএমবি কিংবা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পেছনে জঙ্গিদের বিশেষ মোটিভ রয়েছে। আর এ জঙ্গি তৎপরতার পেছনে জামায়াত-শিবিরেরও সরাসরি হাত রয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘আমরা জেএমবিসহ অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোকে এই বার্তা দিতে চাই যে একজন কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যা করে তারা যদি মনে করে পুলিশ সদস্যদেরকে ভয় পাইয়ে দেয়া যাবে তাহলে তারা ভুল করবে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার হবে। আশা করি প্রথম রাতের অপারেশনের পর তারা সেটা ভালো করেই বুঝতে পারছে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার  বিপ্লব কুমার সরকার নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘যেহেতু পুলিশ জঙ্গি নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে, তাই এখন মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্যই তাদের পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছে। কিন্তু এতে আমরা মোটেও ভীত নই। রিস্ক নিয়ে কাজ করাই পুলিশের চাকরি।’

বিপ্লব আরো বলেন, ‘আমি স্পষ্ট বলে দিতে চাই এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে পুলিশের মনোবল ভাঙা যাবে না। জঙ্গিবাদ নির্মূলে আমরা সফল, তাই কোনঠাসা হয়েই তারা এ ধরণের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে সাধারন মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। আমরা তাদের পাশে আছি, থাকবো। কিন্তু তাদেরও আমাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে।’

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়কারি দলের প্রধান মো. ছানোয়ার হোসেন মঙ্গলবার ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “এ দেশের জঙ্গিরা এখন ‘থাম্ভ রোল’- এর অনেক নিচে নেমে গেছে। পুলিশসহ অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলা তো করছেই, বরং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা শুরু করে দিয়েছে। তাই এখন আর কাজের পরিবেশ নেই যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে গেছে। ঠাণ্ডা মাথায় কিভাবে যুদ্ধ করতে হয় তা শুধু পুলিশই জানে, তাই এখন শুরু করার পালা।”

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/পিএসএস/এসকে


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনা: আরও ২৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩০৮

করোনা: আরও ২৩ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩০৮


সেনাপ্রধান ফেইসবুকে নেই: আইএসপিআর

সেনাপ্রধান ফেইসবুকে নেই: আইএসপিআর


ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন

ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন


করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু


বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক


সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন


দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার


অতিরিক্ত মূল্যে আলু বিক্রির দায়ে বরিশালে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

অতিরিক্ত মূল্যে আলু বিক্রির দায়ে বরিশালে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা


করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের

করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের