Thursday, August 11th, 2016
গুলশানে ব্যবসায় ধস, রমরমা পুলিশ প্লাজা
August 11th, 2016 at 8:37 pm
গুলশানে ব্যবসায় ধস, রমরমা পুলিশ প্লাজা

দেলোয়ার মহিন: রাজধানীবাসীর আড্ডার স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নজরকাড়া আধুনিক রেস্টুরেন্টগুলো। এর মধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী ও বারিধারা। কিন্তু পহেলা জুলাই গুলশানে জঙ্গি হামলার পর থেকে এই এলাকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ব্যাপক ধস নেমেছে। তবে ওই এলাকার পুলিশ প্লাজায় খাবারের দোকানগুলোতে ব্যবসা রমরমা।

বৃহস্পতিবার রাজধানী গুলশান ১-২, বানানী, নিকেতন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এক মাস ১১দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার রেস এখনো কাটেনি। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দ্রুত সার্বিক পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে এমন আশাই করছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মালিকরা।

Gulshan-1তবে গুলশান ও বনানীসহ সকল জায়গায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ধস নামলেও গুলশানের পুলিশ প্লাজায় বেচা-বিক্রির ধুম পড়েছে। বাহির থেকে পুলিশ প্লাজা ডিমেতালে চলছে এমটা মনে হলেও ভেতরের রূপ ভিন্ন। পুলিশ প্লাজার ফুডকোড ও রেস্টুরেন্ট গুলোতে ক্রেতা সমাগম অনেক। এক কথায় ক্রেতাদের জোয়ার।

পুলিশ প্লাজার খাবার ব্যবসায়ী তামিম শুভ্র ও কামরুল হাসান জানান, গুলশান এলাকায় জঙ্গি হামলার ঘটনা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ব্যাপক ভাবে প্রভাব পড়লেও এই পুলিশ প্লাজায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং ক্রেতা সমাগমের সাথে সাথে বিক্রিও বেড়েছে।

এই সময় বিক্রি বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, পুলিশ প্লাজা বলে নিরাপত্তা জোরদার করার একটা বিষয় এখানে কাজ করেছে।

পুলিশ প্লাজায় খেতে আসা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী শিরিন, ইমরুল, জীবন জানান, এই পুলিশ প্লাজায় ভালো নিরাপত্তা রয়েছে। তাছাড়া ভেতরে খুব নিরিবিলি। যা নির্ভয়ে উপভোগ করা যায়।

Gulshan-2সরেজমিন বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও নিকেতন এলাকার জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টগুলোতে প্রায় ক্রেতাশূন্য দেখা গেছে। পারিবারিক অনুষ্ঠান ও নানা উপলক্ষ ছাড়া যেসব হোটেল-রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন শত শত বন্ধুবান্ধব ও পরিবার নিয়ে ভিন্ন স্বাদের খাবার খাওয়াসহ আড্ডা দিতে আসতেন, ওইসব রেস্টুরেন্টে এখন নামমাত্র ক্রেতার দেখা মিলছে। অনেকটা হতাশা নিয়ে সময় পার করছেন রেস্টুরেন্ট ও হোটেলের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা।

গুলশান ১ এর ফখরুদ্দিন বিরিয়ানী, অ্যাবাকাস রেস্টুরেন্ট, গুলশান ২ এর হানডি, গ্লোরিয়া জিন’স কফিজ ও ভিলেজ,  ২২ নম্বর রোডের সায়মি, ১৯ নম্বর রোডের টাইমআউট, ৯ নম্বর রোডের দি মুঘল কিচেন, ১২৭ নম্বর রোডের পিৎজা ইন, ৯০ নম্বর রোডের ব্রাজিল চুরাস্কো, গুলশান এভিনিউর ক্যাফে বিবিকিউ ও এ অ্যান্ড ডব্লিউ, বনানী ১১ নম্বর রোডে নিউজিল্যান্ড ন্যাচারাল ও কজমো লাউঞ্জ।

বনানী ২১ নম্বর রোডে রোল এক্সপ্রেস রেস্টুরেন্টগুলোতে কোনো ক্রেতা সমাগম নেই বললেই চলে। ছিম-ছাম, সাজানো গোছানো চেয়ার-টেবিলগুলো খালি পড়ে আছে। রেস্টুরেন্টগুলোতে বাহারি ধরনের মুখরোচক খাবারের পসরা সাজানো রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রাণহীন কক্ষে পরিণত হয়েছে।

gushanহানডি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার শহিদ আলম বলেন, গুলশানের মতো এত সিকিউরিটিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনা আশা করা যায় না। হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। আগে ঈদের দিন থেকে পরবর্তী চার-পাঁচদিন ক্রেতা সমাগম মুখরিত থাকত রেস্টুরেন্টগুলো।

বর্তমান পরিস্থিতি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, ঈদের পর থেকেই ক্রেতা সমাগম দেখা যাচ্ছে না, নামমাত্র কিছু ক্রেতা আসছে। এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য নতুন করে বুকিংও পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের রেস্টুরেন্টে ক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত আয়োজন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি জনমনের ওই অতঙ্ক কাটিয়ে দ্রুত রেন্টুরেন্টগুলো আগের মতো ক্রেতা সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠবে।

গুলশান এভিনিউয়ের কয়েক রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার/দায়িত্বরতরা বলেন, গুলশান এলাকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা আগের অবস্থায় ফিরে আসতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। কারণ হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় যে ক্ষতি হয়েছে তার থেকে কয়েকগুণ আতঙ্ক জনমনে সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত নিরাপত্তার নামে প্রশাসন এ এলাকা ঘিরে যে ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে তাতে মানুষ আরো বেশি ভয় পাচ্ছে। অনেক সময় কিছু ক্রেতা বলেই বসেন গুলশানে আরো বড় হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই প্রশাসন এত কঠোরভাবে তদারকি করছে। তাই এ এলাকার রেস্টুরেন্টে এক মিনিট বসাও নিরাপদ নয়।

বনানী কজমো লাউঞ্জ এর ক্রেতা রকিবুল ইসলাম নিউজনেক্সটডটকমকে বলেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ অনেক সজাগ। তবুও এখানে বসে আড্ডা দিতে ভয় পাচ্ছি। তাই খাবার খেয়েই আবার দ্রুত বেরিয়ে পড়ছি। গুলশান এভিনিউর এ অ্যান্ড ডব্লিউ-এর ক্রেতা খান মোশাররফ ও জনি বলেন, এখন আর হোটেল রেস্টুরেন্ট বসে একটু সময় কাটানোর পরিবেশ নেই। আগের তুলনায় এখন অনেক খালি থাকে। তবে এখন পদ্ধতি পাল্টে বেশিরভাগ সময় আমরা পছন্দের খাবার পার্সেল নিয়ে অন্যত্র খেয়ে থাকি।

গুলশান ও বনানী এলাকার অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলো দিনের চেয়ে রাতের বেলায় দেশি-বিদেশিদের উপস্থিতিতে থাকতো বেশি জমজমাট। রাত ১২টা/১টা পর্যন্ত এই রেস্টুরেন্টগুলো খোলা থাকতো। কিন্তু এখন রেস্টুরেন্টগুলোতে আর আগের মতো ভিড় দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গুলশান এলাকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।

শুধু তাই নয়, গুলশান ও বারিধারায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিকমানের হোটেল ও গেস্টহাউজে বিদেশি অতিথিদের সংখ্যাও কমে গেছে আশঙ্কাজনকহারে। গার্মেন্টস ব্যবসাসহ অন্যান্য ব্যবসা বাণিজ্য উপলক্ষে বিদেশি নাগরিকরা যারা নিয়মিত ঢাকা সফরে আসতেন তারা অনেকেই নিরাপত্তার কারণে হঠাৎ করে ঢাকা সফর স্থগিত করে দেয়ায় এই হোটেল ও গেস্টহাউজগুলো ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/ডিএম/জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম


চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ  উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে

চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি


২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার


হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আটকেপড়া পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আটকেপড়া পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে


স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার ৪৪৯ টাকা

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার ৪৪৯ টাকা


ভারত থেকে আসছে না পেঁয়াজ

ভারত থেকে আসছে না পেঁয়াজ